admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ৫ নভেম্বর, ২০১৯ ১১:৩৬ পূর্বাহ্ণ
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আছে দশ বছর ধরে। বিভিন্ন সময়ে নামসর্বস্ব সংগঠনগুলোর প্রতি কড়া হুঁশিয়ারীও দিয়েছে আওয়ামী লীগ। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী দলটির সহযোগী সংগঠনের সংখ্যা সাতটি এগুলো হলো মহিলা আওয়ামী লীগ, কৃষক লীগ, বাংলাদেশ আওয়ামী যুব লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ, তাঁতী লীগ ও যুব মহিলা লীগ। এর বাইরে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ও জাতীয় শ্রমিক লীগের সাংগঠনিক নেত্রী আওয়ামী লীগ সভানেত্রী। কিন্তু আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্র বলছে, ‘এ দুটি সংগঠন তাদের স্ব স্ব সংগঠনের গঠনতন্ত্র দ্বারা পরিচালিত হবে।কিন্তু বাস্তবতা হলো এসব সংগঠনের বাইরে অসংখ্য সংগঠন আওয়ামী বা লীগ শব্দ যুক্ত করে নানা সংগঠন তৈরি করেছে গত এক দশকে। দল বিভিন্ন পর্যায়ের কিছু নেতা মূলত পেছন থেকে এসব সংগঠন তৈরি করেন নিজেদের প্রচারের স্বার্থে। ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে ও পরে এমন কয়েকটি সংগঠনের কার্যকলাপ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার জের ধরে শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে এক সভায় সিদ্ধান্ত নেয়া হয় যে দলটির ছয় সহযোগী সংগঠন ছাড়া কেউ নামের সাথে লীগ শব্দটি যোগ করতে পারবেনা।
সর্বশেষ গত মাসের প্রথম সপ্তাহে তাঁতী লীগের এক অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, “বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার নাম বা ছবি ব্যবহার করে কেনো রাজনৈতিক দোকান খেলা যাবেনা এর কারণ হলো আওয়ামী লীগ থেকে বারবার শক্ত ব্যবস্থার কথা বলা হলেও আওয়ামী, বঙ্গবন্ধু, জননেত্রী, কিংবা লীগ শব্দ ব্যবহার করে সংগঠনের সংখ্যা খুব বেশি কমানো যায়নি।
এ ধরণেরই একটি সংগঠন ‘জননেত্রী পরিষদ’। মাঝে মধ্যেই নানা ইস্যুতে আলোচনা সভা করতে দেখা যায় তাদের এবং এসব অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের মধ্যম সারির নেতারা যোগও দেন। কিন্তু শেখ হাসিনার নামের আগে ব্যবহৃত শব্দ দিয়ে সংগঠন খোলার জন্য আওয়ামী লীগ থেকে অনুমোদন নেয়া হয়েছে কি-না এমন প্রশ্নের জবাব মেলেনি সংগঠনটির নেতা মনির খানের কাছ থেকে। এ সংগঠনের কার্যক্রম চলমান কি-না জিজ্ঞেস করলে তিনি বিবিসি বাংলাকে পাল্টা প্রশ্ন করে বলেন, “থাকবেনা কেন? কিন্তু আওয়ামী লীগের কোনো অনুমতি তাদের আছে কি-না জানতে চাইলে তিনি পরে কল দিবেন বলে ফোন কেটে দেন। তবে ‘আওয়ামী উদ্যোক্তা লীগে’র প্রধান সমন্বয় কারী জসীমউদ্দিন রুমান বিবিসিকে বলছেন তারা এই সংগঠনের কার্যক্রম বন্ধ রেখেছেন। আমরা আওয়ামী লীগের দফতর বরাবর চিঠি দিয়ে কোনো সাড়া পাইনি। তাছাড়া সংগঠনটি খোলার পর সিনিয়ররা বকাবকি করেছেন। তাই বন্ধ করে দিয়েছি। তিনি বলেন আরও অনেক সংগঠনের দেখাদেখি তারা উদ্যোক্তা লীগ খুলেছিলেন কিন্তু পরে বন্ধ করে দিতে হয়েছে। অনেকেই অনেক ধরণের সংগঠন করেছে। তাই আমরাও ভেবেছিলাম আর কি। সিনিয়ররা বকা দিলো। এখন যদি জিজ্ঞেস করেন, সেই সিনিয়র কারা? সেটা আমি বলতে পারবোনা,” বলছিলেন মিস্টার রুমান। তবে ২/৩ বছর আগেও আওয়ামী লীগের নাম যুক্ত করে নাম রাখা কয়েকটি সংগঠন বেশ আলোচনার জন্ম দেয়। এমন কয়েকটি হলো আওয়ামী অভিভাবক লীগ, আওয়ামী প্রজন্ম লীগ, শিশু কিশোর লীগ। দলীয় স্বীকৃতি না থাকলেও নাম সর্বস্ব এসব সংগঠনের উদ্যোক্তাদের বিরুদ্ধে ব্যাপক তদবিরের অভিযোগ উঠে।
তবে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ও আওয়ামী লীগের উপ দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া বলছেন, জাতির পিতা বা পরিবারের সদস্যদের নামে সংগঠন বা প্রতিষ্ঠান করার সুনির্দিষ্ট বিধান আছে। এর বাইরে কেউ কিছু করলে সেটি বেআইনি হবে।