admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ৩০ মে, ২০২০ ১:৪৩ অপরাহ্ণ
মুক্ত কলম বক্স অফিস সিঙ্গাপুরঃ আমরা চেষ্টা করেছি একজন সফল রাষ্ট্রপ্রধানের জীবনী তুলে ধরতে।তিনার বাবা মোহাম্মদ ইয়াকুব পেশায় একজন পাহারাদার ছিলেন। পাঁচ সন্তানের মধ্যে সবার ছোট হালিমা জন্ম হয় (জাওই: حليمة بنت يعقوب; জন্ম ২৩শে আগস্ট ১৯৫৪) তার বয়স যখন ৮ বছর তখন পিতা দুনিয়া ত্যাগ করে চলে যান না ফেরার দেশে। বাবা মারা যাওয়ার পরে তার মা সংসার এর হাল ধরতে অনেক কষ্ট করেচ হোটেলে ঝিয়ের কাজ নেন। স্কুলের ফাকে হালিমা মায়ের সাথে হোটেলে প্লেট গ্লাস ধোয়ার এবং ফরমায়েশ শোনার কাজ করতে থাকেন । কিন্তু লেখাপড়া চালিয়ে গেছেন শত কষ্টের পরেও তাদের এই দরিদ্রতা । আইন পড়া শেষের মাধ্যমে ক্ষুধার সাথে যুদ্ধে করে বিজয় লাভ করেন হালিমা ।
হালিমা বিনতে ইয়াকুব হলেন সিঙ্গাপুরের একজন রাজনীতিবিদ যিনি বর্তমানে সিঙ্গাপুরের রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণের পূর্বে ২০১৩ সাল থেকে ২০১৭ সালের আগস্ট পর্যন্ত তিনি সিঙ্গাপুরের সরকারি দল পিপল’স একশন পার্টির মনোনীত স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০০১ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত তিনি সংসদে জুরং দলের হয়ে পতিনিধিত্ব করেন এবং ২০১৫ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত মার্সিলিং ইউ দলের প্রতিনিধিত্ব করেন।

সিঙ্গাপুরের সর্ব প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট হালিমা বিনতে ইয়াকুব
২০১৭ সালের ৭ই আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য তিনি সংসদের এমপি ও স্পিকার হিসেবে এবং তার দল পিএপি থেকে পদত্যাগ করেন।[২] ২০১৭ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর তিনি রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হন যেহেতু সেসময় তার প্রতিদ্বন্দ্বী কোন প্রার্থী ছিল না। পরের দিন তিনি সিঙ্গাপুরের সর্বপ্রথম নারী রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন।
প্রারম্ভিক জীবন ও শিক্ষাঃ হালিমা ইয়াকুব বাবার পক্ষ থেকে ভারতীয় বংশদ্ভূত এবং মায়ের পক্ষ থেকে মালয় বংশদ্ভূত। তার ৪ বছর বয়সে তার পিতা হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন এবং তিনিসহ তার চার ভাইবোন পরবর্তীতে মায়ের কাছে বড় হন।[৭][৮][৯] তার বাবার মৃত্যুর সময় তার পরিবার দারিদ্রতার মধ্য দিয়ে জীবন অতিবাহিত করে। তিনি বিভিন্ন সময় তৎকালীন সিঙ্গাপুর পলিটেকটিকের সামনে এবং প্রিন্স এডওয়ার্ড সড়কের কাছে নাসি পেডং বিক্রিতে তার মাকে সাহায্য করতেন।
১৯৭৮ সালে সিঙ্গাপুর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রী অর্জনের পূর্বে তিনি সিঙ্গাপুর চীনা বিদ্যালয় ও তেনজং কেটং বালিকা বিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করেন। ১৯৮১ সালে তিনি সিঙ্গাপুর বারে যোগদান করেন। ২০০১ সালে তিনি সিঙ্গাপুর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। ২০১৬ সালের ৭ই জুলাইে এনইউএসতে তাকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রী প্রদান করা হয়।
সিঙ্গাপুরের অষ্টম এবং প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট হালিমা। যিনি বাণিজ্য সমৃদ্ধ দেশটির সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী। জানা গেছে, কুইন স্ট্রিটে ১৯৫৪ সালের ২৩ আগস্ট হালিমার জন্ম। ১৯৭০ সালে তানজং ক্যানটং গার্লস স্কুলে এবং পরে সিঙ্গাপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে গ্রাজুয়েশন ডিগ্রি লাভ করেন তিনি। এরপর ১৯৭৮ সালে ন্যাশনাল ট্রেডস ইউনিয়ন কংগ্রেসে (এনটিইউসি) একজন আইন কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন। প্রায় ৩০ বছরের বেশি সময় দায়িত্ব পালনের পর তাকে ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। ২০১১ সালে তিনি সামাজিক উন্নয়ন, যুব ও খেলাধুলা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নিযুক্ত হন। এর দুবছর বাদে তিনি দেশটির সংসদে প্রথম নারী স্পিকার নিযুক্ত হন।
হালিমা ইয়াকুব ২০১১ সালে সামাজিক উন্নয়ন ও যুব ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী নিযুক্ত হন । ২০১৩ সালে সিঙ্গাপুরের ইতিহাসে প্রথম নারী স্পীকার মনোনিত হয়ে বিশ্বব্যাপী আলোচনায় চলে আসেন সিঙ্গাপুরের এই মুসলিম মহীয়সী নারী । সংসদে স্পীকার হয়েই শেষ হোল না তার উত্থান । ২০১৭ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য স্পীকারের পদ থেকে পদত্যাগ করেন এবং প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হন আর প্রেসিডেন্ট হিসাবে নির্বাচিত হয়ে বিশ্বের সর্বাধুনিক নগর রাস্ট্র সিঙ্গাপুরের প্রথম মুসলিম নারী প্রেসিডেন্ট হিসাবে শপথ গ্রহন করেন হালিমা বিনতে ইয়াকুব ।
বর্তমান সিঙ্গাপুরের এই প্রেসিডেন্ট এক বক্তব্যে বলেছিলেন- তার ব্যাক্তিগত জীবনের মারাত্মক খারাপ সময় গুলোতে পার করে আসার কথা তিনি বলেন অনেকবার আত্মহত্যা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি, কিন্তু যখন ভেবেছি যে, আমি একজন মুসলিম তখন আবার ফিরে এসেছি সে সিদ্ধান্ত থেকে । আবার নতুন করে জীবন সাজাতে শুরু করেছি মহান আল্লাহ্ পাকের উপর ভরসা করে ।
জীবন যুদ্ধে জয়ী আল্লাহ্ পাক তাকে সফল করেছেন। সিঙ্গাপুর আধুনিকায়ন প্রবাসী ও স্থানীয় সকলের প্রতি তার ভালবাসা অনেক বিশেষ করে এই কোভিড-১৯ এর কারণে যে সব বিদেশী কর্মী আক্রান্ত হয়েছেন তাদের নিজেই দেখতে গিয়েছেন। তিনি অসীম যোগ্যতার অধিকারিনী। তার জীবন আরোও সমৃদ্ধি হোক এবং দীর্ঘায়ু কামনা করি ।