admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ২৯ ডিসেম্বর, ২০২১ ৭:৫৬ অপরাহ্ণ
মুক্ত কলম বক্স অফিস সিঙ্গাপুরঃ সিঙ্গাপুরের রাষ্ট্রপতি হালিমা ইয়াকব বলেছেন করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলা করেই দেশকে এগিয়ে নিতে হবে। এই বছরের শেষ ভাষণে সিঙ্গাপুরের রাষ্ট্রপতি হালিমা ইয়াকব বলেছেন, চলমান মহামারী দ্বারা সৃষ্ট অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও, সিঙ্গাপুরবাসী আশাবাদী হতে পারেন এবং তিনি বলেছেন পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় ভয়ে বসে থাকা ঠিক হবেনা। তিনি দেশবাসির উদ্দেশ্যে বলেন প্রতি স্থিতিস্থাপকতা প্রদর্শনের জন্য আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে সিঙ্গাপুরবাসী এবং জাতীয় অর্থনীতি উভয়ই ফিরে আসতে পারে, কোভিড-১৯ অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও, সিঙ্গাপুরবাসীদের অচল হয়ে যাওয়া ভয়ের বসে না থেকে উন্নয়নের কাজ করে যেতে আহবান জানান রাষ্ট্রপতি হালিমা ইয়াকব।
তিনি তাঁর ফেসবুকে আপলোড করা তার চার মিনিটের ভাষণে বলেছেন ২০২১ সালে জাতির জন্য যে চ্যালেঞ্জ গুলির মুখোমুখি
হতে হয়েছিল তার কিছু রূপরেখা দিয়েছেন। তিনি বলেন, আমি জানি যে অনেকেই ভিত এবং স্বাভাবিকতার জন্য দীর্ঘস্থায়ী… কিন্তু আমরা এখনও অনেক অনিশ্চয়তার সম্মুখীন, বিশেষ করে যখন ওমিক্রন ভেরিয়েন্ট সম্পর্কে এখনও অনেক কিছু অজানা আছে। তবে, এটা সব অন্ধকার এবং ধ্বংসাত্বক না। পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। আমাদের পক্ষাঘাত গ্রস্তের ভয়ের বসে থাকলে হবেনা সাবধানতার অবলম্বন করে এগিয়ে যেতে হবে।
বছরের বেশ কয়েকটি উচ্চ পয়েন্ট তালিকাভুক্ত করা হয়েছে, তিনি বলেছেন যে সিঙ্গাপুরবাসীরা ভাগ্যবান যে আর্থিক সংস্থান গুলো বুদ্ধিমত্তার সাথে পরিচালিত করা হয়েছে, কারণ দেশটি বেশ কয়েকটি সহায়তা ব্যবস্থার জন্য অতীতের রিজার্ভের দিকে আকৃষ্ট হয়েছে। মিজ হালিমা বলেন আমাদের বাসিন্দাদের ব্যবসায়িকদের সাহায্য করার জন্য আমাদের অর্থ ধার নিতে হয়নি। এই ভাবে, আমরা আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্মকে ঋণের বোঝা চাপিয়ে দিই নাই, অনেক দেশে এ ধরণের পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছে। তিনি আরও বলেন প্রজাতন্ত্র একটি দেশে উচ্চ টিকা প্রদানের হারও অর্জন করেছ। আজ বুধবার পর্যন্ত জনসংখ্যার ৮৮ শতাংশ কোভিড-১৯ এর টিকা দেওয়া হয়েছ এবং টিকাটি এখন শিশুদের মধ্যে প্রদান শুরু হয়েছে। তবে তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন যে যতই পরিকল্পনা এবং প্রস্তুতি নেওয়া হোক না কেন ভাইরাসটি ধীরে ধীরে আমাদের নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে।
মিজ হালিমাহ বলেন, কোনও বিজ্ঞানী বা স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ এখনও মহামারীটি বিশ্বব্যাপী বৃদ্ধি বা হ্রাস করার কারণ কী তা নিশ্চিতভাবে ভবিষ্যদ্বাণী করতে বা ব্যাখ্যা করতে সক্ষম হননি। আমাদের সাবধান হওয়া উচিত যে নতুন ভাইরাসের রূপ গুলি করোনাভাইরাসের উল্লেখযোগ্য বিস্তার এবং এটি মোকাবেলা করার জন্য প্রস্তুত থাকাতে হবে।
আমরা গত দুই বছর ধরে কোভিড-১৯ মহামারীর সাথে অবস্থান করছি। ব্যবসা এবং ব্যক্তিরা মহামারী দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং আমরা নতুন বিধিনিষেধের সাথে দ্রুত মানিয়ে নিতে শিখেছি। যদিও আমরা এখনও বড় অনিশ্চয়তার মুখোমুখি, তবে এটি নিরাশার কিছু নেই। যেহেতু ২০২১ শেষ হয়ে আসছে, আমরা সম্পন্ন সংক্রামণ রোধে আশা রাখতে পারি সাথে ফিরে তাকাতে পারি এবং আশাবাদের সাথে ২০২২ এর দিকে তাকিয়ে থাকতে পারি যে আমরা ঘুড়ে দাঁড়াবো। তিনি বলেন আমরা অনেক সরকার, স্বেচ্ছাসেবক, সমাজসেবা সংস্থা এবং সামাজিক কর্মীদের ধন্যবাদ জানাতে চাই যারা সকলে সাহায্য করার জন্য তাদের প্রচেষ্টাকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন।
আমি আমাদের ফ্রন্টলাইন কর্মীদের প্রতিও কৃতজ্ঞ আমাদের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা এবং গণপরিবহন সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা নিশ্চিত করতে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন এবং আমাদের অন্যান্য মৌলিক সুযোগ-সুবিধা গুলি অব্যাহত রেখেছে। তিনি বলেন আমি এও আশা করি যে আমরা মানসিক স্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি তাই সকলে সাবধানতা অবলম্বন করে চলবো। আমি সকল দেশবাসির শান্তিময় এবং শুভ নববর্ষ কামনা করছি।
তিনি সিঙ্গাপুরবাসীদের ভুয়সী প্রশংসা করেছেন এবং দাতা, স্বেচ্ছাসেবক এবং সামাজিক কর্মীদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন দরিদ্রদের সাহায্য করার জন্য প্রচেষ্টা করতে। তিনি দায়িত্ব প্রাপ্ত ব্যক্তিদেরও ধন্যবাদ জানান যারা স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা ভালভাবে কাজ করে এবং পরিবহন নেটওয়ার্কগুলি সুষ্ঠুভাবে চালানো নিশ্চিত করতে নিঃস্বার্থভাবে কাজ করেছেন। তিনি আরো বলেন যেহেতু ২০২১ইং শেষ তাই নতুন বছরকে আমরা সম্পন্ন কাজের প্রতি আন্তরিকতার সাথে থাকে কাজ করতে পারি এবং সফলতার সাথে ২০২২ইং সালকে বরণ করে আমাদের গ্লানিগুলো মুছে সকলের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে পারি।
এবং সকল দেশ বাসি স্বস্থ্যবিধি মেনে চলি সেই কামনা করে তাঁর মুল্যবান বক্তব্য শেষ করেন।
![]()