admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ২২ নভেম্বর, ২০২২ ১:২৪ পূর্বাহ্ণ
রফিকুল ইসলাম জিলু, ব্যুরো প্রধান ঢাকাঃ মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলায় ভোর বাজার এলাকায় কয়েকটি গাছ কেটে চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে জোর করে অবৈধভাবে জমি দখলের চেষ্টা করছে একটি কুচক্রী মহল। রাস্তায় কাটা গাছ ফেলে জোর করে জমি দখলের চেষ্টা করছেন বলে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী।
মঙ্গলবার (২১ নভেম্বর) দুপুরে সিংগাইয় উপজেলার গোবিন্দল ইউনিয়নের ভোরবাজার এলাকা গিয়ে এমন চিত্র দেখা গেছে। জমির মালিক আবুল কাশেম শাহিন বলেন, আমাদের ৬ শতাংশ খরিদ কৃত জায়গা। রাস্তাসহ এবং পার। ১৯৯৫ সাল থেকে ২০১৯ পর্যন্ত ক্রমান্নয়ে বিভিন্ন সময়ে দুই শতাংশ, দেড় শতাংশ মোট ৬ শতাংশ কেনা হয়েছে। আর যারা এই জায়গাগুলোর ওয়ারিশের ভাগ পেয়েছে তাদের থেকে ক্রয় করা হয়েছে। এবং সেগুলো এখানকার সাবেক চেয়ারম্যান নিজে দলিল করে দিয়েছিলেন। কিন্তু কিছুদিন থেকে এই এলাকার কাশেম নামের এক ব্যক্তি মসজিদের দোহাই দিয়ে জমিগুলো দখল করার পায়তারা চালাচ্ছে । সেই থেকে গত শনিবার ভোরে আমরা যখন ঘুম থেকে উঠিনি তখন লোকজন এনে জমিতে থাকা বড় বড় গাছ কেটে ফেলে ও যাতায়াতের রাস্তা বন্ধ করে বেড়া দেয়।
তবে স্থানীয় মুরব্বিরা বলেছিলেন গাছগুলো না কেটে বসে একটি সমাধান করে দিবেন। সেই কথা কাশেম না শুনে গাছগুলো কেটে ফেলে। আমি বিষয়টি নিয়ে থানায় অভিযোগ দিয়েছি। জমির সাবেক মালিক সোহরাব হোসেন বলেন, এই জমিটি আমাদের। আমার মা ও আমরা দুই ভাই বিক্রি করে দিয়েছি। ৭-৮ বছর আগে বিক্রি করেছি। জমিটি এখন মসজিদের কমিটির কিভাবে দাবি করে সেটা আমি বলতে পারছি না। আমাদের কাছ থেকে সার্জেন্ট মতিন জমি কিনেছেন।
অভিযুক্ত কাশেম বলেন, আমাদের বাপ-দাদারা পুকুরটা মসজিদের নামে ওয়াকফা করে দিয়েছিলো। ১৯৫৬ সালে এই জমিটার দলিল হয়। আমাদের বাপ-দাদারা এই জমিটা এভাবেই সংরক্ষণ করে আসচ্ছিলো। এই পুকুরের মাছ চাষ করে মসজিদ উন্নয়নের কাজ লাগায়। তবে আমার দুলাভাই সেই জমিগুলোর ওয়ারিশ বের করে কিছু কিছু অংশ পাশ দিয়ে কিনেছে। এরপর এখন আমার ভাগিনা সেগুলো দাবি করছে।
গাছ কাটার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা কমিটির সবাই মিলে গাছগুলো কেটেছি। এটা তো শাহিন জানে। বিষয়টি নিয়ে অভিযোগের তদন্তকারী কর্মকর্তা সিংগাইর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) হাফিজুর রহমান বলেন, এমন একটি অভিযোগ আমি পেয়েছি। তবে যতটুকু জানতে পেরেছি সেখানকার সম্পূর্ণ জমি নাকি মসজিদের।
এখানে ওয়াকফার একটি বিষয় এসেছে। সেগুলোর সব কিছু বিবেচনা করে বসে সমাধান করার কথা হয়েছে। যারা গাছ কেটেছে তাদের ডাকা হবে। তারপর ওসি স্যারের সাথে কথা বলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।সিংগাইর থানার পরিদর্শক (ওসি) সফিকুল ইসলাম মোল্লা বলেন, আমি খোঁজ খবর নিয়ে ঘটনাটির ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।