admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ১৮ জুন, ২০২০ ৯:৩৫ পূর্বাহ্ণ
সারাবিশ্বে কভিড-১৯ এ আক্রান্ত’র সংখ্যা ৮১ লাখ ৫০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। পাঁচ সপ্তাহে ৪০ লাখ আর দুই সপ্তাহে ১৭ লাখ আক্রান্ত উদ্বিগ্ন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সবাইকে সতর্ক বার্তা হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইনের ব্যবহার বাতিল যুক্তরাষ্ট্রে ল্যাতিন আমেরিকা ও যুক্তরাষ্ট্রে নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ার মধ্যেই বিশ্বজুড়ে আক্রান্তের সংখ্যা ৮০ লাখ ছাড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক জরিপ সংস্থা ওয়ার্ল্ডোমিটার’র তথ্যমতে, মঙ্গলবার পর্যন্ত করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৮১ লাখ ৫০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। অনেক দেশে করোনা পরীক্ষার ঘাটতি থাকায় প্রকৃত আক্রান্তের সংখ্যা আরও অনেক বেশি হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এছাড়া প্রাণঘাতী এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা প্রায় চার লাখ ৪০ হাজার। তবে সুস্থ হয়েছে ৪২ লাখ ৫২ হাজার ৩৮৩ জন। আক্রান্তের সংখ্যায় আগের মতোই বিশ্বে শীর্ষে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
জরিপ সংস্থা ওয়ার্ল্ডোমিটারের তথ্যানুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে এ পর্যন্ত ২১ লাখ ৮৩ হাজার মানুষ করোনায় শনাক্ত হয়েছে, যা বিশ্বের মোট আক্রান্তের ২৫ শতাংশ। আর কোভিড-১৯ এ যুক্তরাষ্ট্রে মৃতের সংখ্যা এক লাখ ১৬ হাজার ছাড়িয়ে গেছে এবং প্রাদুর্ভাব শুরুর তিন মাস পেরিয়ে যাওয়ার পরও দেশটি পরীক্ষার সংখ্যা বাড়িয়েই চলছে। গত কয়েক সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের বেশিরভাগ এলাকায় নতুন রোগীর সংখ্যা কমতে দেখা গেলেও এখন অনেক এলাকা থেকে রেকর্ড সংখ্যক নতুন রোগী শনাক্ত হওয়ার খবর আসছে। সেসব এলাকায় হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যাও বেড়ে গেছে। তাতে যুক্তরাষ্ট্রে সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ’ শুরুর শঙ্কা দেখছেন অনেকে। এ ক্ষেত্রে সংক্রমণের প্রথম ঢেউ নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতাকে কারণ হিসেবে দেখছেন দেশটির স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তাই সবাইকে মাস্ক পরতে, ভিড় এড়িয়ে চলতে এবং দূরত্ব মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। ল্যাতিন আমেরিকায়ও করোনাভাইরাসের বিস্তার দ্রম্নতগতিতে বাড়ছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাবে, সেখানে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা বিশ্বের মোট সংখ্যার ২১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। কোভিড-১৯ শনাক্ত ও মৃতের সংখ্যার বিবেচনায় ল্যাতিন আমেরিকার দেশ ব্রাজিল বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ হটস্পট হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। সেখানে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৮ লাখ ৮৮ হাজারের বেশি। ব্রাজিলের সরকারি হিসাবে, মহামারিতে মৃতের সংখ্যা প্রায় ৪৪ হাজার হলেও প্রকৃত সংখ্যা আরও অনেক বেশি বলে মনে করেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। ল্যাতিন আমেরিকার বৃহত্তম এই দেশে পরীক্ষার ব্যবস্থা অপ্রতুল হওয়ায় অনেক আক্রান্তকেই শনাক্ত করা যায়নি, আর শনাক্ত না হওয়া অনেকের মৃতু্য হয়েছে বলে ধারণা তাদের। চীনের উহানে প্রথম কোভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হওয়ার পর থেকে মে মাসের প্রথমদিকে বিশ্বজুড়ে আক্রান্তের সংখ্যা ৪০ লাখ ছাড়িয়েছিল। এরপর মাত্র পাঁচ সপ্তাহের মধ্যে সংখ্যাটি দ্বিগুণ হয়ে ৮০ লাখ ছাড়াল। এদিকে, রাশিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা পাঁচ লাখ ৩৭ হাজার ২১০। এর মধ্যে সাত হাজার ৯১ জনের মৃত্যু হয়েছে। চীনেও করোনাভাইরাসের নতুন ক্লাস্টার (গুচ্ছ) পাওয়ার খবর এসেছে। তিন মাসের বেশি সময় লকডাউনে থাকার পর দেশটি যখন অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা শুরু করেছে, তখনই রাজধানী বেইজিংসহ বিভিন্ন জায়গায় নতুন রোগী শনাক্ত হচ্ছে। এর আগে প্রায় দুই মাস বেইজিংয়ের ভেতরে নতুন সংক্রমণের কোনো ঘটনা ঘটেনি।
চীনের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। পাশাপাশি অন্যান্য দেশ যারা করোনাভাইরাসকে নিয়ন্ত্রণে এনেছে, তাদেরও সতর্ক থাকতে বলেছে। করোনাভাইরাসে গত দুই সপ্তাহে ১৭ লাখ ৪৫ হাজার ৫৭১ জন আক্রান্ত হয়েছে। অর্থাৎ, প্রতিদিন আক্রান্তের সংখ্যা ছিল লক্ষাধিক। বিষয়টি নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডবিস্নউএইচও)। পাশাপাশি যেসব দেশ করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এসেছে তাদের সতর্ক থাকতে বলেছে জাতিসংঘের বিশেষায়িত এই সংস্থাটি। প্রতিদিন নতুন করে যে লক্ষাধিক মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে, তার তিন ভাগের দুই ভাগই দক্ষিণ এশিয়া ও আমেরিকা মহাদেশগুলোর বলে উলেস্নখ করেছে ডবিস্নউএইচও। এ বিষয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান টেড্রোস অ্যাডহ্যানম গেব্রেইয়াসাস বলেন, একটা সময় এক লাখ আক্রান্ত হতে দুই মাসের বেশি সময় লেগেছিল। আর এখন প্রতিদিন লাখের ওপর আক্রান্ত হচ্ছে। প্রতিদিন যে লক্ষাধিক মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে, তার তিন ভাগের দুই ভাগ ১০টি দেশের। বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়া ও আমেরিকার দেশগুলোর।’ উলেস্নখ্য, গত বছরের ডিসেম্বরে চীনের হুবেই প্রদেশের রাজধানী উহান থেকে ছড়িয়ে পড়ে করোনাভাইরাস।
উৎপত্তিস্থল চীনে ৮৩ হাজারের বেশি মানুষ আক্রান্ত হলেও সেখানে ভাইরাসটির প্রাদুর্ভাব কমে গেছে। তবে বিশ্বের অন্যান্য দেশে এই ভাইরাসের প্রকোপ বাড়ছে। চীনের বাইরে করোনাভাইরাসের প্রকোপ ১৩ গুণ বৃদ্ধি পাওয়ার প্রেক্ষাপটে গত ১১ মার্চ দুনিয়াজুড়ে মহামারি ঘোষণা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডবিস্নউএইচও)। হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইনের ব্যবহার বাতিল করল যুক্তরাষ্ট্র এদিকে, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত গুরুতর রোগীদের চিকিৎসায় শুরু থেকেই ম্যালেরিয়ার ওষুধ হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন ব্যবহার করে আসছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এমনকি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও এই ওষুধ সেবন করেছেন। এটার প্রচারণাও করেছেন তিনি। তবে সোমবার করোনার জরুরি চিকিৎসায় এই ওষুধের ব্যবহার বাতিল ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ)। এফডিএ জানিয়েছে, নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, করোনার চিকিৎসায় হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন কিংবা ক্লোরোকুইন ব্যবহারে রোগীদের মধ্যে মারাত্মক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। এটার রয়েছে স্বাস্থ্য ঝুঁকিও। নতুন গবেষণা অনুযায়ী, হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন সেবনে স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, হৃদযন্ত্রের ছন্দপতন ঘটতে পারে, কমে যেতে পারে রক্তচাপ।