admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ৩১ জানুয়ারি, ২০২২ ১০:৫১ অপরাহ্ণ
মোঃ রফিকুল ইসলাম জিলু, মোঃ মহিবুল আলম রানা,স্টাফ রিপোর্টারঃ সাভারে নিজের স্ত্রীকে হত্যার পর স্ত্রী’র বড় ভাইকে ফোন করে বোনের লাশ নিয়ে যেতে বলা চাঞ্চল্যকর বৃষ্টি হত্যা মামলার প্রধান আসামি আসাদুল’কে, নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকায় অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৪। সোমবার দুপুরে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন র্যাব-৪ সিপিসি-২ এর কোম্পানি কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার রাকিব মাহমুদ খান। এর আগে রবিবার রাত থেকে সোমবার সকাল সাড়ে ৮ টা পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা এলাকায় সঁাড়াশি অভিযান চালিয়ে আসাদুল ইসলামকে (২৬) গ্রেপ্তার করা হয়। র্যাব-৪ সিপিসি-২ এর কোম্পানি কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার রাকিব মাহমুদ খান বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামী আসাদ বৃষ্টি হত্যার সাথে সরাসরি জড়িত মর্মে স্বীকারোক্তি প্রদান করেছে। গ্রেপ্তারকৃত আসামীকে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার জন্য আশুলিয়া থানায় হস্তান্তর কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।
গ্রেপ্তারকৃত আসাদুলের বরাদ দিয়ে তিনি আরও বলেন, নিহত বৃষ্টি আক্তার (২৩) কিশোরগঞ্জের তাড়াইল থানাধীন এলাকার মেয়ে। বৃষ্টির প্রথম স্বামীর সংসারে তার দুটি কন্যা সন্তান রয়েছে যারা তার বড় বোন আকলিমা’র কাছে থাকে। বৃষ্টি গাজীপুরে বোনের সাথে গার্মেন্টেসে চাকুরী করার সময় আসাদুলের সাথে পরিচয় হয়। পরে ১ লক্ষ টাকা যৌতুক নিয়ে আসাদ বৃষ্টিকে বিয়ে করে গাজীপুর থেকে আশুলিয়ায় এসে অন্য একটি গার্মেন্টেসে চাকুরী নেয়। তাদের বেতন উত্তোলনের জন্য দুজনেই একটি মোবাইল ব্যবহার করত। বৃষ্টির প্রথম পক্ষের দুই সন্তানের খরচ প্রদান করতে আসাদের কাছে তার বেতনের অর্থ চাইলে আসাদ বৃষ্টি ও তার সন্তানদের কোন খরচ দিতে অস্বীকার করে। এছাড়াও আসামী আসাদ একাধিক পরনারীতে আসক্ত হওয়ার বিষয় জানতো বৃষ্টি। এ নিয়ে ঝগড়ার এক পর্যায়ে গত ১৩ জানুয়ারী আসাদ বৃষ্টির গলা টিপে ও কাপড় দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। পওে মৃত্যু নিশ্চিত করতে ঘরের সিলিং ফ্যানের সাথে ঝুলিয়ে রেখে ঘরে তালা দিয়ে চলে যায়। পরে সে বৃষ্টির ভাইকে ফোন করে মৃতদেহ নিয়ে যেতে বলে মোবাইল বন্ধ করে দেয়।
পরে ১৫ জানুয়ারি দুপুরে আশুলিয়ার কাঠগড়া সরকারবাড়ী এলাকার একটি ভাড়া বাড়ির কক্ষ থেকে বৃষ্টি আক্তারের লাশ উদ্ধার করে আশুলিয়া থানা পুলিশ। ঐদিন রাতেই বৃষ্টির স্বামী আসাদুলসহ অজ্ঞাতনামা কয়েক জনকে আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের হয়। পরে র্যাব-৪ এর একটি গোয়েন্দা দল পুলিশের পাশাপাশি ছায়া তদন্ত শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় র্যারের গোয়েন্দারা তথ্য ও স্থানীয় সোর্সের তথ্য অনুযায়ী নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেপ্তার করে।