admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ১ আগস্ট, ২০২১ ১১:২৬ পূর্বাহ্ণ
রাজধানী ঢাকায় আইসিইউর জন্য অন্য রোগীর মৃত্যুর অপেক্ষা! দেশে বর্তমানে করোনা পরিস্থিতি কোন পর্যায়ে, সেটা অনুমান করা যায় একটা আইসিইউ শয্যার জন্য তীব্র হাহাকারের ঘটনায়। রাজধানী ঢাকার প্রায় সবগুলো কোভিড হাসপাতালে এখন এই হাহাকার পরিলক্ষিত হচ্ছে। অনেক হাসপাতালের সামনের নোটিশ বোর্ডেই বড় করে লিখে রাখা হয়েছে, দুঃখিত, আইসিইউ বেড খালি নেই। পরিস্থিতি এমন যে, আইসিইউতে থাকা কোনো রোগী মারা গেলে তবেই অপেক্ষমান একজন শয্যা পেতে পারেন। তীব্র শ্বাসকষ্টে ভোগা করোনা রোগী ও স্বজনরা তাই আক্ষরিক অর্থেই কারো মৃত্যুর অপেক্ষায় বসে থাকেন!
হৃদয়বিদারক এই সংকটই এখন দেশের বাস্তবতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অবস্থা এর চেয়েও ভয়াবহ আকার ধারণ করার আশঙ্কা তো আছেই। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, রাজধানী ঢাকায় করোনায় আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য ১৭টি হাসপাতাল নির্ধারণ করা আছে। এর মধ্যে তিনটিতে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) নেই। বাকি ১৪টির মধ্যে ১২টি হাসপাতালে গতকাল শনিবার (৩১ জুলাই) কোনো আইসিইউ শয্যা ফাঁকা ছিল না। এরপর যে দুটি হাসপাতাল বাকি থাকে, সেগুলোতে আইসিইউ ফাঁকা ছিল মাত্র ১২টি।
গত ১৭ জুলাই ঢাকার করোনা হাসপাতালগুলোতে আইসিইউ শয্যা খালি ছিল ৬৫টি। ২৩ জুলাই সেই সংখ্যা নেমে এসেছে ৪২-এ। গতকাল এসে ঠেকেছে ১২-তে। ঢাকাজুড়ে ২৪ ঘণ্টায় যদি ২০টি বেড খালি হয় তাহলে অপেক্ষায় থাকে ৪০ জন রোগী। সারা দেশের হিসেবে করোনা রোগীর জন্য আইসিইউ আছে ৮৯১টি। তার মধ্যে বর্তমানে ৮১৩টিতেই রোগী ভর্তি। করোনা রোগীদের সবচেয়ে বেশি ভিড় হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে। সেখানকার পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাজমুল হক বলেন, ঢামেকে আইসিইউ শয্যা খালি নেই। এমনকি সাধারণ শয্যা পরিপূর্ণ। শয্যাসংখ্যা একদফা বাড়িয়েও আমরা রোগীর চাপ সামলাতে পারিনি। আগস্টের পরিস্থিতি নিয়ে শঙ্কা তৈরি হচ্ছে।
একই পরিস্থিতি রাজধানীর অন্যান্য কোভিড হাসপাতালগুলোতে। মুগদা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, গতকাল শনিবার সেখানে ৪৮ জন সংকটাপন্ন রোগী ভর্তি হতে আসে। কিন্তু তাদের মধ্যে মাত্র ১০ জনকে ভর্তি করা গেছে। বাকিদের ক্ষেত্রে কাউকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে এবং কাউকে হাসপাতালের বাইরে থেকেই বিদায় করা হয়েছে।