admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ১২ অক্টোবর, ২০২৪ ৫:১৭ অপরাহ্ণ
বিশ্বজিৎ সরকার রনি,স্টাফ রিপোর্টার: ঠাকুরগাঁওয়ে সাপ্তাহিক মুক্ত কলম পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক ইঞ্জিনিয়ার হাসিনুর রাহমান ভারতের পশ্চিম বাংলায় ইন্দো বাংলা প্যাসিফিক বাংলা সাহিত্য প্রতিযোগীতায় অংশ গ্রহণ করে দুই বাংলার প্রথম তালিকায় বাংলাদেশ রত্ন পুরস্কার পাওয়ায় মুক্ত কলম পত্রিকার পরিবারের সদস্যদের পক্ষ থেকে জানাই আন্তরিক অভিনন্দন।
জানা যায় ভারতের পশ্চিম বাংলা বাংলা বন্ধু সাহিত্য পত্রিকা ও শ্যামসুন্দর স্নিগ্ধ চরণ ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট পরিচালিত ভারত থেকে প্রকাশিত বাংলা বন্ধু সাহিত্য পত্রিকায় ভারতের ১৬ টি জেলাসহ বাংলাদেশের সাহিত্য সংস্কৃতির ও কবিতা প্রতিযোগিতায় হাসিনুর রাহমান এর লেখা কবিতা তোমার জন্য মগ্ন চৈতন্যে শিষ দেয় প্রকাশিত হয় ও শ্রেষ্ঠত্ব মুল্যায়ন পান।
সেই জন্য তাকে ভারতের পশ্চিম বাংলায় সম্মানিত করে ভূষিত করা হয়। গত ২৯/০৯/ ২০১৪ তারিখে উপস্থিত থেকে সম্মান গ্রহণে করা অনুরোধ করে। পত্র মেইলে পাঠান সেখ আজিজুল বাংলা বন্ধু সাহিত্য পত্রিকা সম্পাদক পূর্ব বর্ধমান-৭১৬৪২৪ ভারত থেকে। তার প্রেক্ষিতে হাসিনুর রহমান ভারতের মাটিতে স্ব-শরীরে উপস্থিত হয়ে তার সম্মাননা গ্রহণ করেন।
এই সন্মান শুধু তার না বাংলাদেশের ও বটে। আমরা মানুষকে সম্মানিত করতে পারি না সম্মানিত হন অযোগ্য ব্যক্তিরা ক্ষমতার জোরে। আশা করি এভাবে দুই বাংলার সাহিত্য কর্মীদের নিয়ে বাংলাদেশে সংস্কৃতির প্রতিযোগিতার আয়োজন করলে দুই বাংলার ভ্রাতৃত্ব বন্ধন আরো মজবুত হবে এবং গুণীজনদের যথাযথ সম্মান প্রদান করা সম্ভব হবে।
দিন দিন সাহিত্যচর্চা হারিয়ে যাচ্ছে তাই আমাদের নতুন প্রজন্মকে বাংলা সাহিত্যের সাথে পরিচিতি ঘটাতে হবে। এবং সকলকে এক সাথে কাজ করে যেতে হবে।শ্যামসুন্দর স্নিগ্ধচরণ ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট পরিচালিত বাংলাবন্ধু সাহিত্য পত্রিকার পক্ষ থেকে সম্মাননা জানানোর প্রেক্ষিতে লেখকের বক্তব্য। প্রকৌশলী হাসিনুর রহমান চৌধুরী বলেন। ভাতৃপ্রতীম পশ্চিম বাংলার বর্ধমানের শ্যামসুন্দর স্নিগ্ধ চরণ ওয়েলয়োর ট্রাস্ট পরিচালিত বাংলাবন্ধু সাহিত্য পত্রিকায় আমার লেখা কবিতা “তোমার জন্য মগ্ন চৈতন্যে শিষ দেয়” ছাপা হয়েছে। কবিতাটিকে পত্রিকা কর্তৃপক্ষ প্রতিযোগিতার অংশ বিবেচনা করেছেন। বাংলাদেশেও এ জাতীয় আয়োজন হয়ে থাকে। একজন বিদেশী অংশগ্রগণকারীর কবিতা প্রতিযোগিতায় অন্তর্ভুক্ত করার জন্য আমি কর্তৃপক্ষকে কৃতজ্ঞতা জানাই।
অধিকাংশ সাহিত্যকর্মী তাদের জীবদ্দশায় স্বীকৃতি থেকে অনেক দুরে থাকেন। জীবনাবসানে তারা কেউ কেউ সাহিত্য জগতের উজ্জল জোতিষ্ক হবার গৌরব অর্জন করেন। বাংলাদেশের জীবনানন্দ দাস, তিনি সম্মান পেয়েছেন তাঁর মৃত্যুর পর। কোলকাতায় ট্রাম দুর্ঘটনায় আহত হয়ে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
আসানসোলের কাজী নজরুল ইসলাম তার অনন্য উদাহরণ। কবি কাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশ জাতীয় কবির মর্যাদা দিয়েছে। অথচ এই কবির পুত্রসন্তান বুলবুল মারা গেছেন। তাকে দাফন করার মতো অর্থ সংগ্রহ করতে প্রকাশকের কাছে গিয়েছেন। প্রকাশক শর্ত দিয়েছেন তাকে কবিতা লিখে দিতে হবে। তিনি রাত জেগে লিখলেন বিদ্রোহী কবিতা।আমি কোন পেশাদার সাহিত্যকর্মী নই। অনেকটা সৌখিন, মন চাইলে লিখি। সেই লেখা যে সাহিত্যকর্মের তালিকায় স্থান পেতে পারে এ ধারণা আমার কখনোই ছিলনা। জীবন সংগ্রামের বাস্তবায়নে সাহিত্যকর্মী হয়ে উঠা যায়নি।
বাংলাদেশ তো বটেই ভারত বর্ষে একটি পত্রিকা সাহিত্য কর্মীদের কর্মের স্বীকৃতি দিয়ে “বাংলাবন্ধু সাহিত্য পত্রিকা” কর্তৃপক্ষ আমাকে এবং আমার দেশকে সম্মানিত করেছেন। আমাকে কি বিবেচনায় এই সম্মাননা দিয়েছেন তা আমি জানিনা। শুধু এইটুকু দাবী করতে পারি এতোবড়ো আয়োজনে আমি নিতান্তই শিশু।

আমি ব্যক্তিগতভাবে একজন প্রকৌশলী। প্রকৌশলীরা সাহিত্যকর্মে সময় দিতে পারেন এরকম উদাহরণ খুবই কম। তা ছাড়া আমি একটি পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক। নিশ্চয় বুঝতে পারছেন আমার কাজের ক্ষেত্র এবং সাহিত্যকর্ম কতটা বিপরীতমুখী।তবে যে ভাবেই বলি সাহিত্যকর্মের জন্য শুধু উচ্চতর লেখাপড়া , ডিগ্রি অর্জন, বা পেশাগত দিক থেকে সমাজের গুরুত্বপুর্ণ হতে হবে এমন শর্ত নয়। সাহিত্যকর্মে চাই অন্তরদৃষ্টি।
এটি শ্রেনীহীন বর্ণ বিরোধী, শোষন মুক্ত সমাজ বিনির্মানের আকাংখা নিয়ে সাহিত্যিকরা সাহিত্যকর্ম রচনা করেন। এজন কারো কারো সাহিত্যকর্ম কালোত্তীর্ণ হয়ে যায়। দারিদ্র কিম্বা রাজরোষ তাদের নিবৃত্ত করতে পারেনা। এ জাতীয় উদাহরণ তো বিরল নয়।আপনার যারা আমার এই কথাগুলো ধৈর্যের সাথে শুনলেন, তাদের এবং শ্যামসুন্দর স্নিগ্ধ চঅরণ ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট পরিচালিত বাংলাবন্ধু সাহিত্য পত্রিকা সম্পাদক শেখ আজিজুল সহ পত্রিকার কলাকুশলী ও পশ্চিম বাংলা ১৬ টি জেলা থেকে আগত সাহিত্যিক লেখক কবিদের আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই। ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মধ্য দিয়ে সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়।