admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ১৪ মার্চ, ২০২০ ৮:৩৪ পূর্বাহ্ণ
বিশেষ অতিথি বিতর্ক: মুজিব জন্ম শতবার্ষিকীতে ঢাকায় দেখা হলো না শেখ হাসিনা আর নরেন্দ্র মোদীর। বাংলাদেশ যখন শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবার্ষিকী পালনের ব্যাপক কর্মসূচি হাতে নিয়েছে, তখন দুটি জিনিস তার ওপর কালো মেঘ হয়ে এসেছে। প্রথমে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে বিশেষ অতিথি করা নিয়ে বিতর্ক। তারপর করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব। প্রথমে নরেন্দ্র মোদীকে নিয়ে বিতর্ক। যে কথা বলছিলেন নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ থেকে মোহাম্মদ সাহিব আলম
মুজিব জন্মশতবার্ষিকীতে মোদীর আসাকে নিয়ে হচ্ছে অনেক আলোচনা, সমালোচনা। এমনকি রাস্তায় নেমে মানুষকে আন্দোলনও করতে দেখা যায় । কিন্তু ব্যাপারটা কি এত ছোট ? আসলে আন্দোলনের মূল বিষয়টা হলো এনআরসি । এনআরসি বাস্তবায়নের ফলে নাগরিকত্ব হারাবে পাঁচ লক্ষ ভারতীয় মুসলমান ।
এই বিশাল জনগোষ্ঠীর পরবর্তী ভবিষ্যৎ কী?

আসামের গোয়ালপাড়া জেলায় নির্মাণাধীন একটি ডিটেনশান সেন্টার, ২৯-০৮-২০১৯।
প্রতিবেশী দেশ হিসেবে পরবর্তীতে যে ধাক্কাটা আমাদের ওপরই আসবে, সেই দিকগুলো মাথায় রেখেই মানুষ আন্দোলন করছে । আন্দোলনের মাধ্যমে মানুষ ক্ষমতাসীন দলকে যে ইঙ্গিত দিচ্ছে, এটা কী তারা বুঝতে পারছে না ? নাকি শুধুমাত্র সম্পর্ক বাঁচানোর জন্য বুঝেও না বোঝার ভান করছে ? যদি এমনটা হয়, তাহলে একটা রাজনৈতিক দলের জন্য তা হবে ভয়াবহ ক্ষতিকর।
আসামের গোয়ালপাড়া জেলায় এনআরসিতে বাদ পরা বিদেশী’দের জন্য নির্মাণাধীন একটি ডিটেনশান সেন্টার। ভারতের নাগরিক পঞ্জি বা এনআরসি যে বাংলাদেশকে একটি কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে ফেলে দিতে পারে, তা নিয়ে কোন সন্দেহ নেই মি. আলম। তবে সেটা এখনো নিশ্চিত করে বলা যাবে না। আর বিষয়টা মুসলিমদের নিয়ে না। আসামে যে এনআরসি হয়েছে সেখান থেকে ১৯ লক্ষ লোকের নাম বাদ পড়েছে এবং তাদের মধ্যে ১২ লক্ষই হিন্দু। অন্তত আসামের এনআরসিতে মুসলিমরা লক্ষ্যবস্তু ছিলেন না। যাই হোক, নরেন্দ্র মোদীর সফর এ’যাত্রায় হচ্ছে না যেহেতু ১৭ই মার্চের অনুষ্ঠানই স্থগিত করা হয়েছে। তবে ভারতের প্রধানমন্ত্রী যে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ সফর করবেন তা নিয়ে কোন সন্দেহ নেই এবং এনআরসির মত স্পর্শকাতর বিষয়গুলো নিয়ে কোন না কোন সময় আলোচনায় বসতে হবে। অন্যদিকে, আমাদের অনুষ্ঠান সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি নিয়ে কিছু প্রশ্ন এবং প্রশংসা আছে।

১৯৭২ সালের ৮ই জানুয়ারি লন্ডনে সংবাদ সম্মেলন করেন শেখ মুজিবুর রহমান।
পাকিস্তানী কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে বাংলাদেশ যাবার পথে ১৯৭২ সালের ৮ই জানুয়ারি লন্ডনে সংবাদ সম্মেলন করেন শেখ মুজিবুর রহমান। এই জরিপের ফলাফলকে সাম্প্রদায়িক বলে বর্ণনা করে লিখেছেন কলকাতা থেকে স্বামী বিমলানন্দ বিবিসির জরিপে শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালির যে লিস্ট তৈরি হয়েছে তা সাম্প্রদায়িক এবং কিছুটা রাজনীতির দৃষ্টিকোণ থেকে হয়েছে, মানবিক গুণাবলীর প্রতিফলন ভিত্তিক হয়নি। অংশগ্ৰহনকারীদের মধ্যে শতকরা ৯৫ ভাগ বাংলাদেশি এবং তার মধ্যে ৯০ শতাংশ মুসলমান। এই সিলেকশনে নিরপেক্ষতা নেই, যার ফলে অপেক্ষাকৃত উন্নত মনীষীদের প্রতি অসম্মান করা হয়েছে। আপনার অভিযোগ আমার পক্ষে মানা সম্ভব না মি. বিমলানন্দ। এ’ধরণের জরিপে মানুষের পছন্দের প্রতিফলন ঘটে, তারা নিরপেক্ষ থেকে সে কাজটা করতে পারেন না। যারা অংশগ্রহণ করেছিলেন, তাদের অধিকাংশ বাংলাদেশি, সে কথা ঠিক, কারণ আমাদের অধিকাংশ শ্রোতা বাংলাদেশি। তবে ৯৫ শতাংশ একবারেই না। আর ফলাফলের দিকে যদি তাকান, তাহলে দেখবেন ২০ জনের তালিকায় ১০জন মুসলিম, ৬জন হিন্দু, ২জন ব্রাহ্ম সমাজ, একজন বৌদ্ধ আর একজন কোন নির্দিষ্ট ধর্মের অনুসারী নন। তাহলে কী করে বলবেন এখানে সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গি কাজ করেছে? একই সাথে, ২০জনের মধ্য আটজনকে বাংলাদেশি বলা যেতে পারে। অন্যদিকে ১০জন ভারতীয়। আর অতীশ দীপঙ্কর আর লালন ফকিরকে আপনি কোন দেশের মানুষ বলবেন? কাজেই আপনার কথায় কোন যুক্তি খুঁজে পেলাম না।

পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসন: শেখ মুজিব ১৯৬৬ সালে ৬ দফা আন্দোলনের সূচনা করেন। ভিন্ন মত পোষণ করে লিখেছেন ঢাকার ধানমন্ডি থেকে শামীম উদ্দিন শ্যামল সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি অনুষ্ঠানটি শুরু হয়েছিলো এবং প্রচার হয়েছিলো সেই ২০০৪সালে। যখন আমি এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে রেজাল্টের আশায় অবসর জীবন পার করছি। সেই সময়ই শর্টওয়েভে অনুষ্ঠানটির ঘোষণা আমি শুনেছি এবং সর্বশেষে অনুষ্ঠানটির প্রচার উপভোগ করেছি। আবছা আবছা মনে পড়ছে সেই অনুভূতিপূর্ণ অনুষ্ঠান শুনার দিনগুলোর কথা। হয়তো এই স্মৃতিচারণ করতাম না যদি না বিবিসি বাংলা পুনরায় ধারাবাহিকভাবে ‘সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি’ অনুষ্ঠানটি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করতো। সে জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলাকে। আপনাকেও ধন্যবাদ শামীম উদ্দিন শ্যামল, রেডিও অনুষ্ঠানের মত অনলাইনে টেক্সট পরিবেশনাও আপনার ভাল লেগেছে জেনে আমাদেরও ভাল লাগলো।
বিষয়টিকে অন্যভাবে দেখছেন ঢাকার যাত্রাবাড়ী থেকে মোহাম্মদ মোবারক হোসাইন: বিবিসি বাংলার একটি বিষয় আমার কাছে অনেক ভালো লেগেছে আর তা হল আপনারা ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম হয়েও, ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারী তিতুমীর সহ আরো অনেককে শ্রেষ্ঠ বাঙালি হিসেবে অভিহিত করেছেন।নিজেরাই নিজেদের বিরুদ্ধে বলছেন। নাকি এই ব্রিটিশ এবং তখনকার সেই ব্রিটিশ আলাদা? যদি আলাদা না হয়ে একই হয় তাহলে বিষয়টা একটু অন্যরকম দেখাচ্ছে না? নিজেরাই নিজেদের বদনাম করছেন। আপনি এখানে একটি বড় ভুল করছেন মি. হোসাইন। শ্রেষ্ঠ বাঙালির তালিকা আমরা তৈরি করি নি। ২০০৪ সালে রেডিও শ্রোতাদের মনোনয়নের ভিত্তিতে এই তালিকা , অর্থাৎ কারা এই তালিকায় থাকবেন, কে কোন স্থানে আসবেন, সবই ঠিক করেছে শ্রোতাদের ভোট, বিবিসি না। আর শ্রোতাদের পছন্দ যদি ব্রিটিশদের বিপক্ষে যায় তাতে কিছু আসে যায় না।