admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ৩০ নভেম্বর, ২০২১ ৯:৩৮ পূর্বাহ্ণ
বিশ্ব বাজারে ভোগ্যপণ্যের দাম কমছে দেশে বাধা নির্ধারিত মূল্য! ভোগ্যপণ্যের দাম অব্যাহতভাবে কমছে। গত দুই সপ্তাহে দরপতন হয়েছে স্পট পণ্যবাজার ও ফিউচার মার্কেটের বুকিংয়ে। করোনার সবচেয়ে বিপদজনক নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রন শনাক্তের পর এর গতি আরো ত্বরান্বিত হয়। তবে এর কোনো প্রভাব পড়েনি দেশের ভোগ্যপণের বাজারে, উল্টো কিছু পণ্যের দাম বেড়ে গেছে। এমন বিপরীত চিত্রের প্রধান কারণ মনে করা হচ্ছে পণ্যের মূল্য নির্ধারণকে। গত অক্টোবরে বেশকিছু পণ্যের মূল্য নির্ধারণ করে দেয় সরকার।

সেজন্য দেশের বাজারে দাম কমেনি বলে মনে করেন ব্যবসায়ীরা। এ ছাড়া বিশ্ববাজারে মূল্যবৃদ্ধির সময় বাড়তি দামে মজুদ করায় দেশের পাইকারি বাজারের লাগাম টানা যাচ্ছে না বলেও উল্লেখ করেন তারা। বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সম্প্রতি বিশ্ববাজারে পণ্য বুকিং বাড়লে ভোজ্যতেলের দামবৃদ্ধির আবেদন করেন মিল মালিকরা, তাতে সাড়া দিয়ে এ বছর একাধিকবার দাম বাড়ায় সরকার। এখন বিশ্ববাজারে অব্যাহতভাবে দাম কমলেও সে পথে হাঁটছেন না মিল মালিকরা। তারা সরকার নির্ধারিত দামে বিক্রি করায় বিশ্ববাজারের সঙ্গে মূল্য ওঠানামা করছে না। নিত্যপণ্যের বৈশ্বিক বাজারমূল্য পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ করে যৌক্তিক হারে পণ্যের মূল্য নির্ধারণের কাজ করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একটি কমিটি। জাতীয় মূল্য পর্যবেক্ষণ ও নির্ধারণ কমিটির মাধ্যমে চলতি বছরে ৭ দফা ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানো হয়। আইনে ১৫ দিন পর পর দামের বিষয়ে সুপারিশের কথা বলা হলেও গত ১৭ অক্টোবরের পর পরিবর্তন হয়নি এই পণ্যের দাম।এ বিষয়ে খাতুনগঞ্জের ট্রেডিং ব্যবসায়ীরা বলেন, অক্টোবরে ভোজ্যতেলের প্রতি লিটারে ৭ টাকা দাম বাড়ানোর পর প্রায় দেড় মাস পেরিয়েছে। বিশ্ববাজারে দাম কমলেও তার সঙ্গে সমন্বয় করতে কোনো উদ্যোগ নেয়নি আমদানিকারকরা বা সরকার। ফলে দেশের বাজারে এর কোনো প্রভাব পড়েনি।
এ ছাড়া ভোজ্যতেলের দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অন্যান্য পণ্যের দামও বেড়ে যায়, তাও আর কমার নাম নেই। এতে করোনা মহামারির মধ্যে ভোগ্যপণ্যের দাম বাড়ার কারণে সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। তাতে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষ পড়েছেন বিপাকে। চিটাগং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, নিকট অতীতের মধ্যে বিশ্ববাজার ও দেশের বাজারে ভোগ্যপণ্যের দাম এখন সবচেয়ে বেড়েছে। সর্বসাধারণের কথা চিন্তা করে দ্রব্যমূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখতে আন্তরিক রয়েছে সরকার। বাজার নিয়ন্ত্রণে বেশকিছু পণ্যের আমদানি শুল্ক কমানো হয়েছে। তবে নতুন দাম নির্ধারণে সাধারণ ভোক্তার সঙ্গে ব্যবসায়ীদের ঝুঁকি ও লোকসানের দিকটিও চিন্তা করতে হবে।