admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ১৬ মে, ২০২০ ৬:৪৩ অপরাহ্ণ
লায়ন অ্যাাড. আব্দুল মজিদ, নাগরিক ভাবনাঃ উপরের তারিখে প্রকাশিত করোনার কালে লেখাপড়া লেখাটি আমাদের দেশের শিক্ষা ও প্রযুক্তির গৌরব ও অহংকার অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল স্যারের লেখা এবং নিচের অদৃশ্য অঙ্গুলের টানে দেখি পুতুল মানুষ” উপসম্পাদকীয়টি ডুয়েট এর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান চৌধুরীর লেখা। একটা বিশেষ সাদৃশ্যের কারণেই আজ আমার এই লেখার অপচেষ্টা মাত্র।
খবরের কাগজের উপসম্পাদকীয়গুলো পড়তেই আমার কাছে বেশি ভাল লাগে। আর জাফর স্যারের লেখা হলে সেটি আমাকে পড়তেই হবে। জাফর স্যার সম্পর্কে আমার যতটুকু ভাল ধারণা, সেই ভাল ধারণাটি এ রকমের – যেমনটি কোন সংখ্যার উপরে গণিতের “হোলস্কয়ার” বসালে ফলাফল যা হয় – তার চাইতে অনেক অ-নে-ক বেশি ভাল ধারণা জাফর স্যার সম্পর্কে। আমার ছেলে জাফর স্যার সম্পর্কে আমাকে এসব ধারণা দিয়েছিল যখন বুয়েটে ২০০৫ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত তার অধ্যায়ণকালে। সে সময় আমার ছেলের সাথে মাসে কমপক্ষে একবার দিনব্যাপী অথবা দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন বিষয়ে কথাবার্তা ও আলাপচারিতা হতো বিশেষ কোন পার্ক বা রেঁস্তোরায়।
তবে সব কথার শেষ কথা ও মুখ্য কথা ছিল – জাফর স্যারকে নিয়ে। শেষে এমন হয়ে গিয়েছিল যে, আমার ছেলে ধরেই নিয়েছিল যে, বাবার কাছে যাওয়া মানেই জাফর স্যার সম্পর্কে নতুন কিছু তথ্য জানাতেই হবে। জাফর স্যার আমাদের দেশটাকে কতটুকু ভালবাসেন তা যদি পরিমাপার কোন যন্ত্র থাকতো তাহলে বুঝানো এবং দেখানো যেত তাঁর দেশমাতৃকার ভালবাসা ও জ্ঞাণের গভীরতার পরিমান। কিন্তু তাতো সম্ভব নয়।
একেবার সংক্ষেপে ও এক কথায় বলা যেতে পারে, তিনি বিদেশে যত উপরের সম্মানিত পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন – সেখান থেকে এই পদে ও অর্থে তাঁর বাংলাদেশে আশার কথা নয়। কিন্তু তিনি ভেবেছেন, আমি জ্ঞানে, গুণে, সম্মানে ও অর্থের শীর্ষে আরোহন করলে কি হবে, যদি আমার মাতৃভূমির সোনার সন্তানদের জ্ঞানে, গুণে ও প্রযুক্তিতে উপরে উঠাতে না পারি – তাহলে আমার জ্ঞাণের কি দাম! আজ বাংলাদেশের জ্ঞাণ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে উপরে আরোহনে তাঁর অবদান, পদক্ষেপ ও করণীয়গুলো সবারই জানা। তাঁর বক্তব্য ও লেখনীগুলো মনযোগ দিয়ে শুনলে ও পড়লে কঠিন বলে কোন কিছুই মনে হয় না, মনে হয় সব কিছুই যেন জলবৎ তরলং।
জাফর স্যারের এ মাসের ১৫ তারিখের লেখাটা পড়লে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান করোনায় বন্ধের কারণে যেই হতাশা তাদের মধ্যে দানা বেধেছিল সেটি তারা সহজভাবে মেনে নিতে ও পুশিয়ে নিতে পারবে। আমরা এই জ্ঞান, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির মহাপন্ডিত ও মহাসাগরকে কি যথার্থ সম্মানিত করতে পেরেছি? এই মহাপন্ডিত ব্যক্তিটি কতখানি উচু, মহান, ত্যাগী, দয়ালু ও ক্ষমাশীল – তা ভাবতেও অবাক হতে হয়। তাঁকে পরিকল্পিতভাবে যেই খুনি হত্যার জন্য মরণ ছোবল মেরেছিল, সেই খুনি ধৃত হলে – মৃতপ্রায় জাফর স্যার মরণ যন্ত্রনায় কাতরানো অবস্হায় সেই খুনিকে যেন শাস্তি দেওয়া না হয় বলে ক্ষমা করে দিয়েছিলেন। তিনি আরো বলেছিলেন, আমরাই তাকে সঠিক শিক্ষা দিতে পারিনি বলেই সে বিপদগামী হয়েছে, তার কোন দোষ নেই। বাস্তব জীবনে এ ধরণের মহান, মহৎ, উদার ও সত্যিকরারের ক্ষমাশীল মহামানব এ যুগে ক’জনা আছেন?
এবারে আশা যাক – বাংলাদেশ প্রতিদিনের একই দিনে একই পাতায় প্রকাশিত “অদৃশ্য আঙ্গুলের টানে দেখি পুতুল মানুষ” এর লেখক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আসাদুজ্জামানের লেখায়। তাঁর লেখা পড়লাম, স্বাদ মিটলো না। আবার পড়লা, স্বাদ মিটলো না। শেষে আরো একবার অর্থাৎ তৃতীয়বার পড়লাম। তাঁর লেখা পরে খুব ভাল লাগছিল। তিনি ১৬০০ সালের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নন্দিত পুতুল নাচ দিয়ে শুরু করেছেন তাঁর লেখা। আমি ভেবেছিলাম, তিনি পুতুল নাচের ইতিহাস তুলে ধরবেন তাঁর লেখনীতে। পুতুল নাচের ইতিহাস তিনি ঠিকই তুলে ধরেছেন, কিন্তু পুতুল নাচের মধ্য দিয়ে কিভাবে সমাজপতি, রাজাবাদশা ও রাজনীতিবিদরা মানুষকে পুতুলের মতো নাচাচ্ছেন এবং আমরা নাচছি – সেটি তিনি এত সুন্দরভাবে উদাহারণ ও ইতিহাস দিয়ে তুলে ধরেছেন এবং বর্ণনা করেছেন, যা প্রকাশ করার ক্ষমতা আমার নেই। যেমনটি গুরের স্বাদ ও মধুর স্বাদের পার্থক্য বুঝা যায় কিন্তু বুঝানো যায় না। তাঁর লেখার স্বাদ, সহজবোধ্যতা ও আকর্ষণ জাফর স্যারের লেখার স্বাদের মতই লাগছিল আমার কাছে।
আজকের সোসাল মিডিয়ায় আমি এটি কেন লিখছি সেটা এখন বলা প্রয়োজন। ড. জাফর স্যার এবং ড. আসাদুজ্জামান চৌধুরী – দু’জনের ছবিই আমি নিচে দিলাম। খুব সুক্ষ্মভাবে ও মনযোগ দিয়ে দেখলে দেখা যাবে দু’জনারই চুল, চশমা, চোখ, কান, নাক, ভ্রু, ঠোঁট, মোচ, মুখায়ব, নিষ্পাপ হাসিখুশি চেহারা – সবকিছুই আমার কাছে একই রকম মনে হচ্ছে। তাঁদের দু’জনারই লেখা পাঠকদের কাছে অনেক কঠিন জিনিসটি অতি আকর্ষণীয় ও সহজ বোধগম্য। এটা কিন্তু আমার একান্ত নিজস্ব ধারণা ও রুচি। আমি কাউকে বড় বা ছোট করে দেখাতে চাইনি। আমার এই লেখায় যদি কোন সাদৃশ্য বা বৈসাদৃশ্য অনুভূত হয়ে কেউ মনকষ্ট পেলে আমাকে নিজ গুণে ক্ষমা করবেন এবং ভুলত্রুটিগুলো ধরিয়ে দিলে আমি নিজেকে সংশোধন করে নিয়ে ক্ষমা চেয়ে নিব।