admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ৭ আগস্ট, ২০২০ ৬:৪৩ পূর্বাহ্ণ
সম্প্রতি রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল গুলো বন্ধ করে দিয়েছে সরকার। তারপরও করোনার এই সংকটময় পরিস্থিতিতেও পাট ও পাটজাত দ্রব্য থেকে রপ্তানি আয় বেড়েছে। চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে পাট ও পাটজাত দ্রব্য রপ্তানি করে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৫ দশমিক ৪৪ শতাংশ বেশি আয় হয়েছে। সবমিলিয়ে মোট ১০ কোটি ৩৫ লাখ ডলার আয় হয়েছে। যা গত অর্থবছরের জুলাই মাসের চেয়ে ৩৮ দশমিক ২৩ শতাংশ বেশি।
এ বিষয়ে ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ পাটপণ্য রপ্তানিকারক সমিতির (বিজেজিইএ) চেয়ারম্যান এম সাজ্জাদ হোসাইন সোহেল বলেন, রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলোর অভাব কিছুটা পড়েছে। কারণ সেখান থেকে বিজেএমসি পাটের তৈরি বস্তা, চট ও থলে রপ্তানি করতো। তাদের কাছ থেকে পণ্য নিয়ে আমরাও রপ্তানি করতাম। তাই একটু প্রভাব পড়েছে। তবে বেসরকারি পাটকলগুলো সক্রিয় হলে তা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব জানিয়ে তিনি বলেন, বেসরকারি পাটকলগুলো যদি এই জায়গাটা দ্রুত নিতে পারে, তাহলে খুব বেশি সমস্যা হবে না। আবার বন্ধ মিলগুলো পিপিপির মাধ্যমে দ্রুত চালু করা হবে বলে জানিয়েছে সরকার। দেখা যাক, ভবিষ্যতে কী হয়।
এদিকে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) হালনাগাদকৃত তথ্যে দেখা গেছে, নতুন অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে বিভিন্ন পণ্য রপ্তানি করে মোট ৩৯১ কোটি (৩.৯১ বিলিয়ন) ডলার আয় করেছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে পাট ও পাট পণ্য রপ্তানি থেকে এসেছে ১০ কোটি ৩৫ লাখ ১০ হাজার ডলার। যা মোট আয়ের তিন শতাংশেরও নিচে। তারপরও তা আগের বছরগুলোর তুলনায় বেশি। জুলাই মাসে পাটসুতা থেকে রপ্তানি হয়েছে ৭ কোটি ৩০ লাখ ডলার এবং প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪৬ শতাংশ। কাঁচাপাট থেকে রপ্তানি হয়েছে ১ কোটি ৩ লাখ ৭০ হাজার ডলার এবং প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৫৮ দশমিক ৫৬ শতাংশ। পাটের তৈরি বস্তা, চট ও থলে থেকে রপ্তানি হয়েছে ১ কোটি ২২ লাখ ডলার এবং আয় বেড়েছে ৪৬ দশমিক ১৬ শতাংশ। এ ছাড়া পাটের তৈরি অন্যান্য পণ্য থেকে ৮০ লাখ ডলার রপ্তানি হয়েছে।
অন্যদিকে, গত ২০১৯-২০ অর্থবছরে পাট ও পাটজাত পণ্য থেকে মোট রপ্তানি আয় হয়েছে ৮৮ কোটি ২৩ লাখ ৫০ হাজার ডলার। যা ২০১৮-১৯ অর্থবছরের চেয়ে ৮ দশমিক ১০ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে পাটসুতা রপ্তানি থেকে আয় হয়েছিল ৫৬ কোটি ৪৬ লাখ ডলার। যা মোট রপ্তানির ৬৪ শতাংশ। এ ছাড়া কাঁচাপাট রপ্তানি থেকে ১৩ কোটি ডলার, পাটের তৈরি বস্তা, চট ও থলে রপ্তানি থেকে ১০ কোটি ৬৫ লাখ ডলার এবং পাটের তৈরি বিভিন্ন পণ্য থেকে ১৯ কোটি ডলারের মতো রপ্তানি আয় হয়েছিল। বেসরকারি পাটকল মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ জুট স্পিনার্স অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান জাহিদ মিয়া বলেন, দিনকে দিন বিশ্বব্যাপী পাট পণ্যের চাহিদা বেড়ে চলেছে। এখন বস্তা, চট ও থলের পাশাপাশি পাটসুতাসহ পাটের তৈরি নানা ধরনের পণ্য বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি হচ্ছে।