হোম
অর্থনীতি

বাংলাদেশের রেশম শিল্প ধ্বংসের পথে, একে রক্ষায় সরকারের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন

admin || মুক্ত কলম সংবাদ

প্রকাশিত: ১৮ আগস্ট, ২০২০ ৮:২১ পূর্বাহ্ণ

রেশম শিল্প ধ্বংসের পথে-এম কে নিউজ বিডি

ফাইল ছবি

বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ডঃ পটভূমি ঐতিহ্যবাহী রেশম শিল্পের ব্যাপক সম্প্রসারণ ও উন্নয়নের লক্ষ্যে ১৯৭৭ সালের ২৮ ডিসেম্বর ৬২ নং অধ্যাদেশের মাধ্যমে বাংলাদেশ রেশম বোর্ড প্রতিষ্ঠিত হয়। চেয়ারম্যান ছিলেন বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি, দারিদ্র বিমোচন ও আর্থ সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটানোই এ সংস্থার অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে বোর্ড এ শিল্পের উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বর্তমানে দেশে এ শিল্পের সংগে জড়িত লোকসংখ্যা প্রায় ৬.৫০ লক্ষ। বোর্ড সৃষ্টির পূর্বে এ সংখ্যা ছিল মাত্র ৩৫ হাজার। জড়িত জনবলের শতকরা প্রায় ৮০ ভাগই গ্রামীণ দুঃস্থ নারী।

গত ০৭/০৩/২০১৩ ইং তারিখে ১৩ নং আইনবলে বাংলাদেশ রেশম বোর্ড, বাংলাদেশ রেশম গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনষ্টিটিউট এবং বাংলাদেশ সিল্ক ফাউন্ডেশন এই ৩টি পৃথক সংস্থা একীভূত করে বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ড প্রতিষ্ঠা করা হয়। পুনঃ প্রতিষ্ঠিত সংস্থার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার পদবী চেয়ারম্যানের পরিবর্তে মহাপরিচালক করা হয়েছে। বোর্ডের সার্বিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য মোট ৪টি বিভাগ রয়েছে; যথাঃ- (১) প্রশাসন ও সংস্থাপন বিভাগ, (২) অর্থ ও পরিকল্পনা বিভাগ, (৩) সম্প্রসারণ ও প্রেষণা বিভাগ এবং (৪) উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ বিভাগ। এ ছাড়াও গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনষ্টিটিউটসহ এমআইএস সেল, নিরীক্ষা শাখা, জনসংযোগ শাখা সরাসরি মহাপরিচালকের অধীনে ন্যাস্ত রয়েছে।

বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ডের নুতন অর্গানোগ্রাম প্রণয়নের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।২. বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ডের ভিশন ও মিশন:ভিশন : দেশে রেশম চাষ ও শিল্পের সম্প্র্রসারণ ও উন্নয়নের মাধ্যমে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর দারিদ্র্য বিমোচন;মিশন :(ক) লাগসই প্রযুক্তি উদ্ভাবনের মাধ্যমে কাঁচা রেশমের উৎপাদন বৃদ্ধি;(খ) গবেষণালদ্ধ উচ্চ ফলনসীল তুঁত ও রেশম কীটের জাত প্রবর্তন;(গ) রেশম সেক্টরে দক্ষ ও কারিগরি জনশক্তি সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রশিক্ষণ প্রদান;(ঘ) কাঁচা রেশম ও রেশম পণ্যের মান উন্নয়ন ও বিপণনের ব্যবস্থাকরণ;

(ঙ) রেশম চাষ সম্প্রসারণে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, মোটিভেশন ও তদারকি কাজ জোরদারকরণ।৩. বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ডের সম্প্রসারণ নেটওয়ার্কস : অফিস/স্থাপনার নাম সংখ্যা অবস্থান কার্যক্রম বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ড প্রধান কার্যালয় ১ রাজশাহী। জার্মপ্লাজম মেইনটেন্যান্স সেন্টার ২ চন্দ্রঘোনা (রাংগামাটি) ও সাঁকোয়া (পঞ্চগড়)। আঞ্চলিক রেশম সম্প্রসারণ কার্যালয় ৫ রাজশাহী, রংপুর, ঢাকা, যশোর ও রাংগামাটি। জেলা রেশম সম্প্রসারণ কার্যালয় ৭ ভোলাহাট, ঠাকুরগাঁও, পাবনা, ময়মনসিংহ, বগুড়া, কুমিল্লা, রাজবাড়ি। রেশম বীজাগার পি৩, পি২, পি১ ১১ রাজশাহী,চাঁপাইনবাবগঞ্জ,ভোলাহাট, মীরগঞ্জ, ঈশ্বরদী, ঝিনাইদহ, বগুড়া, রংপুর, দিনাজপুর, কোনাবাড়ি এবং ময়নামতি।

তুঁতবাগান ৭ ব্রাক্ষ্ণনভিটা, ঠান্ডিরাম, সাদামহল, রত্নাই, সনকা, রেইচ্যা ও রুপসীপাড়া। গ্রেনেজ ২ ময়মনসিংহ ও ভোলাহাট। উপজেলা রেশম সম্প্রসারণ কার্যালয় ৪০ বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা সদরে অবস্থিত। রেশম সম্প্রসারণ পরিদর্শকের কার্যালয় ১৬৪ বিভিন্ন ইউনিয়ন ও গ্রামে অবস্থিত। চাকী রিয়ারিং সেন্টার ২৭ বিভিন্ন ইউনিয়ন ও গ্রামে অবস্থিত। রেশম পল্লী ২৩ বিভিন্ন ইউনিয়ন ও গ্রামে অবস্থিত।

মিনিফিলেচার কেন্দ্র ১২ ভোলাহাট (চাঁপাইনবাবগঞ্জ), মীরগঞ্জ (রাজশাহী), দৌলতপুর (কুষ্টিয়া), বাগবাটি (সিরাজগঞ্জ), বড়বাড়ি (লালমনিরহাট), জয়পুরহাট, রানীসংকৈল (ঠাকুরগাঁও), কোনাবাড়ি (গাজীপুর), ঝিনাইদহ, চাটমোহর (পাবনা), ময়মনসিংহ ও লামা (বান্দরবান)।

রেশম কারখানা ২ রাজশাহী ও ঠাকুরগাঁও। বর্তমানে রেশম কারখানা দু’টি সরকারি সিদ্ধান্তে বন্ধ অবস্থায় প্রাইভেটাইজেশন কমিশনে ন্যাস্ত রয়েছে। বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিবের সভাপতিত্বে বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় সভা। ৪. বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ডের মূল কার্যক্রম:

১. রেশম বিষয়ক বৈজ্ঞানিক, কারিগরি ও আর্থিক গবেষণা ও প্রশিক্ষণের জন্য উদ্যোগ সহায়তা এবং উৎসাহ প্রদান।

২. গবেষণা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রাপ্ত ফলাফলসমূহ মাঠ পর্যায়ে সম্প্রসারণ ও উহা বাস্তবায়ন নিশ্চিতকরণ এবং বর্তমানে সংরক্ষিত ও ভবিষ্যতে সংগৃহিতব্য সকল রেশম পোকার জাত সংরক্ষণ নিশ্চিতকরণ।

৩। তুঁত, ভেরেন্ডা ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য উদ্ভিদের উন্নতজাতের চাষাবাদের পদ্ধতি উদ্ভাবন;

৪. উন্নতজাতের সুস্থ পলুপোকার ডিম পালন, উদ্ভাবন ও বিতরণ;

৫. রেশম গুটি হইতে সুতা আহরণ এবং কাঁচা রেশমের মান উন্নত ও উৎপাদন বৃদ্ধি প্রয়োজনে সকল কাঁচা রেশম যথাযথভাবে যন্ত্রপাতি সজ্জিত স্বয়ংসম্পূর্ণ সিল্ক কন্ডিশনিং হাউস এর মাধ্যমে পরীক্ষা ও গ্রেডিং করার পর বাজারজাতকরণের বাধ্যবাধকতার গ্রহণ;

৬. চরকা রিলিং ও ফিলেচারে নিয়োজিত ব্যক্তিদিগকে কারিগরি পরামর্শ প্রদান;

৭. কাঁচা রেশম ও রেশম পণ্যের মান উন্নয়ন;

৮. রেশম চাষ ও রেশম শিল্পের উপর বিভিন্ন উপাত্ত সংগ্রহ ও গ্রন্থনা;

৯. রেশম চাষ ও রেশম শিল্পের সহিত সংশ্লিষ্টদের ঋণদানের সুবিধাদি সৃষ্টি;

১০. ন্যায্যমূল্যে রেশম শিল্পের প্রয়োজনীয় কাঁচামালসহ রং, রাসায়নিক দ্রব্যাদি, খুচরা যন্ত্রাংশ ও আনুষঙ্গিক দ্রব্যাদি সিল্ক রিলার, উইভার ও প্রিন্টারদেরকে সরবরাহের ব্যবস্থা;

১১. দেশে-বিদেশে রেশম ও রেশম সামগ্রী জনপ্রিয় ও বাজারজাতকরণের জন্য প্রচারের ব্যবস্থা;

১২. রেশম সামগ্রী রপ্তানী করিবার জন্য রেশম সামগ্রীর মানোন্নয়নের সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টি এবং সিল্ক রিলার, রিয়ারার, স্পীনার, উইভার এবং প্রিন্টাদেরকে প্রশিক্ষণদানের সুবিধা সুজন;

১৩. রেশম চাষ ও রেশম শিল্পে নিয়োজিত ব্যক্তিদের সাধারণ সুবিধার জন্য প্রকল্প প্রণয়ন, পরিচালনা বাস্তবায়ন;

১৪. কাঁচা রেশম, স্পান সিল্ক ও রেশম পণ্য উত্পাদনের জন্য মিল স্থাপনের ব্যবস্থা গ্রহণ;

১৫. সেস(cess) আদায়;

১৬. উপরি-উক্ত কার্যাদি সম্পাদনের ক্ষেত্রে যেইরূপ প্রয়োজনীয় বা সুবিধাজনক হয় সেইরূপ আনুষঙ্গিক বা সহায়ক সকল বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ;

১৭. সরকার কর্তৃক আরোপিত রেশম উন্নয়ন সংশ্লিষ্ট অন্য যে কোন দায়িত্ব পালন৷

 ঠাকুরগাঁও রেশম কারখানা

ঠাকুরগাঁও রেশম কারখানা

ঠাকুরগাঁও রেশম কারখানাটি কোটি টাকা খরচ করে বিএমারী করা হলেও আজ অবধি চালু হয়নি। অযত্নে অবহেলায় কোটি কোটি টাকার দেশের জনগনের সম্পদ ধ্বংসের পথে। সরকারের কোন ভূমিকা নাই কেন ? স্থানীয় তুত চাষীরা জানতে চায়। বাংলাদেশে মোট দুইটি রেশম কারখানা একটি ঠাকুরগাঁও এ অপরটি রাজশাহীতে। রাজশাহীর রেশম শিল্প মহামারী করোনাভাইরাসের কারণে এবার অস্তিত্ব সঙ্কটে। করোনার কারণে গত ক’মাস ধরেই মন্দাভাব বিরাজ করছে সিল্ক পাড়ায়। বৈশাখ গেল, দুই ঈদও গেল কিন্তু প্রত্যাশিত বেচা-বিক্রি নেই। এখন সিল্কের তৈরি পোশাকের শো-রুম খোলা থাকলেও বেচা-বিক্রি নেমে এসেছে অর্ধেকে। বেচা-বিক্রি না থাকায় কারখানার উৎপাদনও কমে গেছে। বিক্রি নেই, আয়ও নেই। অথচ কর্মচারীদের বেতন-ভাতা দিতে বিপাকে পড়তে হচ্ছে সিল্কের তৈরি পোশাক উৎপাদনকারীদের। ব্যবসায়ীদের মতে, করোনাভাইরাসের কারণে সারাদেশে রেশম শিল্পে প্রায় ৩০০ কোটি টাকার মতো লোকসান হবে। তাই এ খাতকে টিকিয়ে রাখতে সরকারি সহযোগিতার কোনো বিকল্প নেই।

 ঠাকুরগাঁও রেশম কারখানা

ঠাকুরগাঁও রেশম কারখানা

রেশমের কাপড় দেশে প্রচুর চাহিদা আছে এর পরও বিদেশে রফতানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব অথচ এই শিল্পটি ইচ্ছাকৃত ধবংশ করে দেওয়া হচ্ছে। এর মুল কারণটি আসলে কি?

খোজ নিয়ে জানা গেছে, রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান নিজস্ব কারখানায় পোশাক তৈরি ও বিপণন করছেন। অন্যান্য প্রতিষ্ঠান কারখানায় থান কাপড় তৈরি করলেও পোশাক তৈরি করে না। তারা থান কাপড় উৎপাদন করে দেশের বিভিন্নস্থানে তা বিক্রি করে। এক দশক আগেও রাজশাহী মহানগরীর সপুরা এলাকায় ১৫টির মতো প্রতিষ্ঠান নিজস্ব কারখানায় পোশাক তৈরি ও বিপণন করলেও এখন তা মাত্র ৪-৫টিতে নেমে এসেছে।

লকডাউনের কারণে এপ্রিল পর্যন্ত সিল্কের কাপড় কারখানা ও শো-রুম বন্ধ ছিলো। রোজার ঈদের আগে সীমিত পরিসরে খোলা হলেও বেচা-বিক্রি তেমন হয়নি। পরে লকডাউন তুলে দেয়া হলে শো-রুম ও কারখানা চালু করা হয়েছে। তবে বেচা-বিক্রি আর আগের মতো জমে ওঠেনি। বেচা-বিক্রি নেমে এসেছে অর্ধেকে। কারখানা খোলা থাকলেও বেচা-বিক্রি না থাকায় উৎপাদন কমে এসেছে অর্ধেকে।

মহানগরীর সপুরা এলাকায় প্রতিষ্ঠিত রাজশাহী সপুরা সিল্ক ইন্ডাস্ট্রিজ ১৯৭৯ সাল থেকেই রেশমের তৈরি পোশাক উৎপাদন ও বিপণনের সঙ্গে জড়িত। রেশমের সুতা তৈরি ও সেই সুতা থেকে কারখানায় পোশাক তৈরি করে থাকে প্রতিষ্ঠানটি। তবে সেই সুতাতে তাদের পুরো চাহিদা না মেটায় চীন থেকে সুতাসহ অন্যান্য কাঁচামাল আমদানি করতে হয়। দেশে সরকারিভাবে লকডাউনের ঘোষণার পর ২৬ মার্চ থেকে ১২ এপ্রিল পর্যন্ত তাদের কারখানা ও শো-রুম বন্ধ ছিলো। ৩১ মার্চ লকডাউন তুলে নেয়ার পর এখন শো-রুম ও কারখানা দুটোই চালু করা হয়েছে।

সপুরা সিল্ক কর্তৃপক্ষ জানান, লকডাউনের সময় শো-রুম ও কারখানা বন্ধ থাকলেও তিনশ’ শ্রমিক-কর্মচারীকে নিয়মিত বেতন দিয়েছি। ঈদের বোনাসও দিয়েছি। এখন কারখানা ও শো-রুম পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করতে না পারলেও শ্রমিক-কর্মচারীদের পুরো বেতনই দিচ্ছি। বেচা-বিক্রি চারভাগের এক ভাগে নেমে এলেও কাউকে ছাঁটাই করিনি। এসব করতে গিয়ে ব্যাংকে ঋণের পরিমাণ বাড়ছে। শুধু লকডাউনের দুই মাসে তিন কোটি টাকার মতো লোকসান হয়েছে। এখন লোকসান গুণেই কারখানা ও শো-রুম চালু রাখতে হচ্ছে।

ঊষা সিল্ক ইন্ডাস্ট্রিজের ম্যানেজার জহিরুল ইসলাম বলেন, পহেলা বৈশাখ ও দুই ঈদকে কেন্দ্র করেই আমাদের বেচা-বিক্রি বেশি হয়। করোনাভাইরাসের কারণে পহেলা বৈশাখে তো বিক্রিই করতে পারিনি। তখন কমপক্ষে ৫০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। আর ঈদের সময় যেখানে কয়েক লাখ টাকার বিক্রি হতো সেখানে প্রতিদিন ৫০ হাজার টাকারও বিক্রি হয়নি। ধনী ব্যক্তিরা মার্কেটে না আসায় বেচা-বিক্রি স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে অর্ধেকে নেমে এসেছে। এখন এই শিল্পকে টিকিয়ে রাখাই চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে জানান। রাজশাহী সিল্কের অন্য শো-রুমগুলোর চিত্র এমনই। লোকসানে পড়ছে সব পোশাকখাতের শো-রুম। প্রায় সব শো-রুমগুলোর মালিকরা জানান, করোনাভাইরাস সঙ্কটে তাদের কোটি কোটি টাকা লোকসান হয়েছে।

একমাত্র সরকারিভাবে সামান্য পরিমাণে হলেও সিল্ক উৎপাদন করে রাজশাহী রেশম কারখানা। বেসরকারিভাবে উৎপাদনকৃত সব প্রতিষ্ঠানের মতো সরকারি প্রতিষ্ঠানের চিত্রও একই। খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ডের সারাদেশে বিদ্যমান ১২টি মিনিফিলেচার থেকে প্রাপ্ত সুতা দিয়ে রাজশাহীর রেশম কারখানায় থান কাপড় তৈরি করা হয়। সেইসব কাপড়ও আবার ডাইং, প্রিন্ট করে শাড়ি, টাই, ডো-পিয়ন, বলাকা থান কাপড়, রঙিন বলাকা থান কাপড়সহ বিভিন্ন কাপড় তৈরি করে রেশম উন্নয়ন বোর্ডের নিজস্ব শো-রুমে বিক্রি করা হয়।

দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর রাজশাহীর রেশম কারখানার ৩৮টি লুম মেরামত করে সচল করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সবসময় ৬টি লুম চালু রাখা হয়। রেশম উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে, ২০১৯-২০ অর্থবছরে ১২টি মিনিফিলেচার থেকে প্রাপ্ত সুতা দিয়ে ৪ হাজার ৭৭০ মিটার কাপড় উৎপাদন করা হয়েছে। লকডাউনের মধ্যে এপ্রিল মাস কারখানা বন্ধ থাকলেও গত জুলাই মাসে ৪০০ মিটার কাপড় উৎপাদন করা হয়েছে।

রাজশাহীর রেশম কারখানার ম্যানেজার আবুল কালাম আজাদ জানান, সারাদেশের ১২টি মিনিফিলেচার থেকে প্রাপ্ত সব সুতা দিয়েই রাজশাহীর রেশম কারখানায় কাপড় তৈরি করা হয়। এই কাপড় দিয়ে তৈরি শাড়িসহ বিভিন্ন পোশাক রেশম উন্নয়ন বোর্ডের নিজস্ব শো-রুমে রেখে তা বিক্রি করা হয়।

বাংলাদেশ রেশম শিল্প মালিক সমিতির সভাপতি লিয়াকত আলী জানান, রেশম শিল্পে দুইভাবে কাজ করা হয়। প্রথমে পলু পোকা থেকে সুতা উৎপাদন এবং পরে সেই সুতা থেকে বস্ত্র তৈরি করা হয়। রেশম শিল্পের সাথে শুধু রাজশাহী অঞ্চলে ৪০ হাজার শ্রমিক-কর্মচারী যুক্ত রয়েছে। সারাদেশে ১ লাখের বেশি শ্রমিক-কর্মচারী হবে। করোনাভাইরাসের কারণে সারাদেশে রেশম শিল্পে প্রায় ৩০০ কোটি টাকার মতো লোকসানের আশঙ্কা রয়েছে। তাই রেশম শিল্পকে বাঁচাতে সরকারি প্রণোদনাসহ বিশেষ উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন।এই শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে, তানা হলে দেশ থেকে রেশম শিল্প হারিয়ে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।

মতামত জানান :

Sun Mon Tue Wed Thu Fri Sat
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031  

সর্বশেষ খবর

সাঘাটায় যৌতুকের দাবিতে শশুর–শাশুড়ী পুত্রবধূকে বটি দিয়ে জবাই করার চেষ্টা।
অপরাধ 9 hours আগে

ঠাকুরগাঁও-৩ আসনেই বিএনপি জয় পেলেও অভাবনীয় উত্থান জামায়াতের।
রংপুর 9 hours আগে

দিনাজপুরে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য, কাচারী চত্বরে হাতাহাতি আহত ৭জন।
অপরাধ 1 day আগে

অদৃশ্য ক্ষমতায় ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা
রংপুর 1 day আগে

পঞ্চগড়ের বোদায় ভর্তুকি মূল্যে পণ্য বিক্রয় স্টোল পরিদর্শন করেন পানি
রংপুর 1 day আগে

শীর্ষ সন্ত্রাসী-চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে শীঘ্রই ব্যবস্থা নেয়া হবে-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
জাতীয় 2 days আগে

সুনামগঞ্জে পরিকল্পিত অগ্নিসংযোগ,বাইরে থেকে তালা মেরে বসত ঘরে আগুন, প্রাণনাশের
অপরাধ 2 days আগে

পদোন্নতির দাবিতে উত্তাল দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ড।
রংপুর 2 days আগে

দিনাজপুর জিয়া হার্ট ফাউন্ডেশন পরিদর্শনে সমাজ কল্যাণ মন্ত্রী ডাঃ এজেড
রংপুর 2 days আগে

ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক ইশরাত জাহান সেচ্ছায় বদলি নিলেল।
রংপুর 3 days আগে

পাঠকপ্রিয়

শিরোনাম :

কুড়িগ্রামে ঐতিহাসিক আসনে কঠিন চ্যালেঞ্জে জাপা,মাঠ গরম এনসিপি-বিএনপির। হাদীর ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনায় দিনাজপুর সীমান্ত ৪২ বিজিবির রেড অ্যালার্ট জারি। রোহিঙ্গা মেয়েরা পাচার ছাড়াও বিদেশীদের দ্বারা যৌন কাজে ব্যবহারের টার্গেট হয়ে উঠছে ঠাকুরগাঁওয়ে নানা কর্মসূচিতে হানাদার মুক্ত দিবস উদযাপিত। ঠাকুরগাঁও জেলায় অনুষ্ঠিত হয়েছে ৪র্থ জেলা রোভার মুট-২০২৫। কুড়িগ্রামের রাজারহাটে প্রাণিসম্পদ সপ্তাহের প্রদর্শনী ও সমাপনী অনুষ্ঠিত। পার্বতীপুরে জাতীয় প্রাণি সম্পদ ও ডেইরি প্রকল্পের উদ্বোধন। রাণীশংকৈলে জাতীয় প্রাণীসম্পদ সপ্তাহ ও প্রাণিসম্পদ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত পলাতক শেখ হাসিনার অগ্রণী ব্যাংকের লকার ভেঙে ৮৩২ ভরি স্বর্ণ জব্দ রাজশাহীতে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে আহত ১০ জন ৩ ডিসেম্বর রংপুরে বিভাগীয় মহাসমাবেশ সফল করতে দিনাজপুরে ৮ ইসলামী দলের সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত। দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিতে সব বাহিনী প্রস্তুত: সিইসি পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ৬ হাজার কৃষক পাচ্ছে বিনামূল্যে গম বীজ ও সার। মাত্র চার মাসের শিশু সুমাইয়া বাঁচতে চায়! পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় হেফাজতে ইসলামের নতুন কমিটি গঠন। ভূমিকম্পে সম্ভাব্য ক্ষতি কমাতে এখনই শক্তিশালী ও সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে: সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান রাজধানীতে  আজ থেকে ঘরে বসেই মেট্রোরেলের কার্ড রিচার্জ করবেন? নীলফামারীতে পাটবীজ উৎপাদনকারী চাষীদের প্রশিক্ষণ। আর কোনো পরিস্থিতি নেই যে নির্বাচন ব্যাহত হবে-ঠাকুরগাঁওয়ে মির্জা ফখরুল  ৫-বছরেও শেষ হয়নি ওয়াশব্লকের নির্মাণ কাজ-জনস্বাস্থ্য অফিস বলছেন বাদ দেন চা খাওয়ার জন্য কিছু নেন। পার্বতীপুরে শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকারের দাবীতে কর্মী সভা। পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় নদী বাঁচাও আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নাগরিক সমাবেশ। পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া ইউএনও এক গৃহহীন ভারসাম্যহীন নারীর পাশে দাঁড়ালো। ৮ দফা দাবিতে প্রধান উপদেষ্টা বরাবর নার্সিং এসোসিয়েশন দিনাজপুর জেলা শাখার স্মারকলিপি ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুরে ইউনিয়ন সিএসওর লাইভস্টক সংলাপ সভা অনুষ্ঠিত বগুড়ায় প্রেম করে বিয়ে অতপর ভাড়া বাসায় স্ত্রীকে হত্যা করল স্বামী। দিনাজপুরে ৩ দিনব্যাপী উদ্যোক্তা মেলা ও পিঠা উৎসবের সমাপনী। দিনাজপুরের বিরলে শতাধিক নেতা-কর্মীর মামলা থেকে বাঁচতে ফ্যাসিস্ট আ,লীগ থেকে পদত্যাগ! অভিযোগ দিয়ে ও কাজ বন্ধ হচ্ছে না আদমদিঘীতে সরকারি জায়গা দখল করে করা হচ্ছে অবকাঠামো নির্মাণ! বগুড়ার কইপাড়ায় নববধূ শম্পা হত্যার অভিযোগ, যৌতুক দাবির জেরে স্বামী আটক