admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ২৮ জুন, ২০২৩ ১১:২৪ পূর্বাহ্ণ
মিরু হাসান, স্টাফ রিপোর্টর: কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে বগুড়ায় আদা ও কাঁচা মরিচের দাম হু হু করে বাড়ছে। খুচরা বাজারে এই দুই পণ্য বিক্রি হচ্ছে ৪০০ টাকা কেজি দরে। এতে কিনতে হিমশিম খাচ্ছেন ক্রেতারা ।
অপরদিকে ব্যবসায়ীদের দাবি, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম। তাই সরবরাহ না বাড়লে আদা ও কাচা মরিচের কেজি ৫০০ টাকায় গিয়ে ঠেকবে। মঙ্গলবার দুপুরে বগুড়ার রাজাবাজার, ফতেহ আলী এবং রেল লাইনের উপরের বাজার ঘুরে এসব চিত্র দেখা গেছে।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, বগুড়ার রাজাবাজারে পাইকারিতে কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ৩৩০-৩৫০ টাকা। এছাড়া আদা পাইকারিতে ৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। রাজাবাজারের কয়েক গজ পরেই ফতেহ আলী এবং রেল লাইনের উপর কাচা বাজার। এখানে আদা বিক্রি হচ্ছে ৪৩০ থেকে ৪৫০ টাকা কেজি এবং কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ৪০০ টাকা কেজি দরে।
এদিকে কাঁচা মরিচ ও আদার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে সব ধরনের সবজির দাম। ফতেহ আলী বাজারে এক কেজি দেশি শসা ১০০ টাকা, হাইব্রিড শসা ৮০, করলা ৮০ ও পেঁয়াজ ৮০ টাকা রসুন ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে।
কাঁচা মরিচ কিনতে আসা নুরুল ইসলাম বলেন, “প্রতিদিন বাজারে কোনো না কোনো পণ্যের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। এখন কাঁচা মরিচের বাজারে আগুন লেগেছে। এক সপ্তাহ আগে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ১০০ থেকে ১২০ টাকা দরে বিক্রি হলেও বর্তমানে ৪০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। বাজার পরিস্থিতি এমনটা হলে আমরা গরিব মানুষ কীভাবে চলব?”
বাজারে আসা এনামুল করিম নামের এক যুবক বলেন, একদল মজুদদার ব্যবসায়ীরা সব সময় এমন পরিস্থিতির ফায়দা লুটে। খুব শিগগিরই সব পণ্যের বাজার দর কমানো উচিত। নিয়ত করে বাজারে এসেও কিছু কিনতে পারতেছি না দাম শুনে। আজ বাদে কাল ঈদ। দাম শুনে কাঁচা মরিচ কেনার ইচ্ছা চলে গেছে।
আফরোজা বেগম নামে এক গৃহবধূ বলেন, ‘গত দুই আগেও আদা ৩২০ টাকা কেজি দরে কিনেছি। আজ কিনতে এসে দেখি আদার দাম ৪০০ টাকা কেজি চাচ্ছে। ঈদের মধ্যে আদা লাগবেই। কিন্তু ব্যবসায়ীরা আমাদের সাথে যা ইচ্ছা তাই শুরু করেছে।’
পাইকারি কাচা মরিচ বিক্রেতা প্রতাপ প্রামানিক বলেন, মহাস্থান থেকে আমরা কাঁচা মরিচ ৩১০ টাকা কেজি দরে কিনেছি। এখানে এনে ৩৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছি। আমরা যেমন কিনি তেমন বিক্রি করি। নইলে আমাদের লোকসান হয়ে যাবে।
রেল লাইনের উপর সবজি বিক্রেতা ফরিদ আকন্দ বলেন, ‘৪০০ টাকা কেজি দরে কাচা মরিচ বিক্রি করতেছি। আমরা কিনেছি ৩৬০ টাকা কেজি দরে। কাঁচা মরিচ বিক্রি করতে গিয়ে দাম শুনে অনেক ক্রেতা আমাদের গালিগালাজ করছে। কিন্তু আমাদের এখানে কোন হাত নেই।
কাচা মরিচের আড়ৎদার মোহাম্মদ খালেদ খান বলেন, ‘ভারত, কুষ্টিয়া, পঞ্চগড় থেকে আমরা কাঁচা মরিচ পাই। কিন্তু সেখান থেকেও আমরা চাহিদা অনুযায়ী কাচা মরিচ পাচ্ছি না। সরবরাহ যেভাবে কমছে যেকোন সময় কাঁচা মরিচের কেজি ৫০০ টাকায় গিয়ে ঠেকবে।’
পাইকারি আদা বিক্রেতা শিপুল ইসলাম বলেন, গত তিনদিন আগে ৩২০ টাকা কেজি দরে আদা বিক্রি করেছি। বাজারে টাকা দিয়েও আদা পাচ্ছি না। আজ ১০০ বস্তা আদা উঠেছিল। সেখানে যেয়ে দেখি পাইকারি ব্যবসায়ীই ১২০জন। সেখানে কিভাবে আদা কিনবো আমরা? তাই আদার দাম এতো বেড়েছে।
রাজাবাজার ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক পরিমল প্রসাদ রাজ বলেন, ‘ভারত থেকে কাঁচা মরিচের আমদানি হলে দাম কমে আসবে। কিন্তু সেটি ঈদের পর ছাড়া সম্ভব না। আর ডলারের মূল্যবৃদ্ধির কারণে আদা-রসুনের দাম ঊর্ধ্বমুখী। অনেকেই আদা আমদানি করতে পারছে না। বাজারে ঈদের পর আমদানি বাড়লে দাম কমে আসবে।