admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ১৪ জুলাই, ২০২০ ৮:৩৯ পূর্বাহ্ণ
জসিফিনা এম রোজালিন, ফিলিপিন্স প্রতিনিধিঃ অনলাইনে পরনিন্দা করায় ফিলিপিন্সের সাংবাদিক মারিয়া রেসা দোষী সাব্যস্ত। অনলাইনে পরনিন্দাবা মানহানির দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন ফিলিপিন্সের আন্তর্জাতিক পুরস্কার জয়ী প্রবীণ সাংবাদিক মারিয়া রেসা। এ অপরাধে রেসার সর্বোচ্চ ছয় বছর কারাদণ্ড হতে পারে বলে সোমবার দেওয়া রায়ে বলেছেন আদালত।
এ রায়কে মুক্ত গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে আঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনেগুলোতে বলা হয়েছে। রেসা ফিলিপিন্সের প্রেসিডেন্ট রদরিগো দুতার্তের সরকারের সমালোচক নিউজ ওয়েবসাইট র্যাপলারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ।
আট বছর আগের এক প্রতিবেদনকে কেন্দ্র করে তার বিরুদ্ধে ‘অনলাইনে পরনিন্দার’ অভিযোগটি তোলা হয়। খুন এবং মানব ও মাদক পাচারের একটি ঘটনায় এক ব্যবসায়ীর নাম জড়িয়ে ওই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছিল। এক গোয়েন্দা রিপোর্টের তথ্যের বরাত দিয়ে করা ২০১২ সালের ওই প্রতিবেদনে উল্লেখিত ব্যবসায়ীর সঙ্গে এক সাবেক বিচারকের কথিত সম্পর্কের কথাও বলা হয়েছিল। রায় ঘোষণার পর রেসা চুপ না থাকার প্রত্যয় জানিয়েছেন এবং ফিলিপিন্সে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা দমনের প্রচারে বিচার বিভাগও যুক্ত হয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন।
আমরা খাদের কিনারে দাঁড়িয়ে আছি, আমরা যদি পড়ে যাই তাহলে আর গণতন্ত্র থাকে না, সাংবাদিকদের বলেছেন তিনি। আদালতের এই রায়ে ফিলিপিন্সের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। ইতোমধ্যেই দেশটির কয়েক হাজার লোক প্রেসিডেন্ট দুতার্তের মাদকবিরোধী লড়াইয়ের বলি হয়েছে। এক প্রতিবেদনে জাতিসংঘ তার এসব পদক্ষেপের নিন্দা জানানো সত্ত্বেও সম্প্রতি দুতার্তে ফের মাদক কারবারিদের হত্যা করার হুমকি দিয়েছেন।
সামনেই তিনি সন্ত্রাসবিরোধী একটি আইনে স্বাক্ষর করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই আইনটি তাদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হতে পারে, এমন ভাবনায় শঙ্কিত হয়ে আছেন দুতার্তের বিরোধীরা। লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর গত মাসে ফিলিপিন্সের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যম এবিএস-সিবিএন কর্পোরেশন সম্প্রচার বন্ধ করে দিয়েছে। এই গণমাধ্যমটিও দুতার্তের সমালোচক ছিল।
সিএনএনের সাবেক সাংবাদিক ৫৬ বছর বয়সী রেসার বিরুদ্ধে দেওয়া রায় পড়ে শোনানোর সময় বিচারক রাইনেলদা এস্তাসো মনতেসা বলেন, যে কোনো স্বাধীনতার অনুশীলন অন্যান্যদের স্বাধীনতা বিবেচনায় নিয়ে করা উচিত। র্যাপলারের সাবেক গবেষক ও লেখক রেইনালদো সান্তোসও দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। উভয়কেই আপিলের শুনানি শুরু না হওয়া পর্যন্ত জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট দুতার্তের মুখপাত্র হারি রোকে জানিয়েছেন, দুতার্তে বাক স্বাধীনতা সমর্থন করেন এবং অনলাইনে পরনিন্দা আইনটি আগের প্রশাসনের করা। দুর্তাতে কখনোই কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেননি বলে দাবি করেছেন তিনি।