admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ৪ জানুয়ারি, ২০২০ ১১:১০ পূর্বাহ্ণ
পেঁয়াজ কেজিতে বেড়েছে ৪০ টাকা এবং ভোজ্য তেল লিটারে ৫ টাকা পেঁয়াজের বাজার ফের অস্থির দাম কমতে না কমতেই সম্প্রতি আবারও বাড়ছে পেঁয়াজের দাম। বাজারে বর্তমানে আমদানি করা পেঁয়াজ না থাকলেও সপ্তাহের ব্যবধানে দেশি পেঁয়াজের দাম কেজিপ্রতি ৪০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। অন্যদিকে, গত এক সপ্তাহে প্রায় সব ধরনের সয়াবিন ও পাম তেলের দাম লিটারে এবং চিনির দাম কেজিতে অন্তত পাঁচ টাকা বেড়েছে। বিশ্ববাজারে দাম বেড়ে যাওয়াকে এর কারণ দেখাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। দেশের বাজারে পেঁয়াজ সংকট আর দাম নিয়ে প্রায় পাঁচ মাস আলোচনা-সমালোচনার পর দাম কমতে শুরু হয় পেঁয়াজের। গত এক মাসের মধ্যে কেজিপ্রতি ২৭০ টাকার পেঁয়াজের দাম কমে ১০০ টাকায় চলে আসে। অন্যদিকে আমদানি করা পেঁয়াজের দাম কেজিপ্রতি ২২০ থেকে কমে চলে আসে ৬০ টাকায়। একইভাবে কেজিপ্রতি ১০ টাকা কমে টিসিবির ট্রাক সেলের পেঁয়াজও চলে আসে ৩৫ টাকায়।
শুক্রবার রাজধানীর কারওয়ান বাজার (খুচরা বাজার), মগবাজার, রামপুরা, মালিবাগ, মালিবাগ রেলগেট, খিলগাঁও, মতিঝিল টিঅ্যান্ডটি বাজার এবং ফকিরাপুল কাঁচাবাজার ঘুরে এমন চিত্রই দেখা যায়। এসব বাজারে বর্তমানে দেশি পেঁয়াজ কেজিপ্রতি ১৪০-১৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। অথচ এক সপ্তাহ আগেও দেশি নতুন পেঁয়াজ কেজিপ্রতি বিক্রি হয় ১০৫-১১০ টাকায়।
গত সপ্তাহে আমদানি করা পেঁয়াজ প্রতি কেজি ৬০-৭০ টাকায় বিক্রি হয়। বর্তমানে সব বাজারে আমদানি করা পেঁয়াজ নেই। যদিও এখনো কিছু কিছু দোকানে এসব পেঁয়াজ আছে। সেগুলোর দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। এদিকে দীর্ঘদিন চড়া থাকার পর পেঁয়াজের দর কমতে শুরু করায় স্বস্তি আসছিল ক্রেতাদের মধ্যে। কিন্তু এরই মধ্যে আবারও হঠাৎ পেঁয়াজের দাম বাড়ায় তৈরি হয়েছে অসন্তোষ। এদিকে, পেঁয়াজকান্ডের প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতির ওপর নজর রেখে রোজার আগে ভোজ্য তেল ও চিনির বিষয়ে সতর্ক থাকতে সরকারকে পরামর্শ দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।গত এক সপ্তাহে প্রায় সব ধরনের সয়াবিন ও পাম তেলের দাম লিটারে এবং চিনির দাম কেজিতে অন্তত পঁচা টাকা বেড়েছে। বিশ্ববাজারে দাম বেড়ে যাওয়াকে এর কারণ দেখাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।
বাংলাদেশ পাইকারি ভোজ্যতেল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী ভুট্টো বলেন, ‘গত দুই মাস ধরে বিশ্ববাজারে ভোজ্যতেলের বাজার অস্থিতিশীল। বাজার অনেক বেড়ে গেছে। আবার কখন এই বর্ধিত বাজার কমে যায়, সে কারণে অনেক সতর্ক আমদানিকারক আমদানি কমিয়ে দিয়েছেন। মজুদের সংকট নেই বলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা দাবি করলেও অর্থনীতির গবেষক সেলিম রায়হান বলছেন, ‘বিশ্ববাজারে যখন দাম বাড়ছে, তখন সরকারকে আগাম সতর্ক অবস্থান নিতে হবে।
কারওয়ান বাজারের মুদি দোকানি হাবিবুর রহমান বৃহস্পতিবার বলেন, গত দুই সপ্তাহ ধরে তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী। প্রথমপর্যায়ে মোড়কে লেখা সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য (এমআরপি) না বাড়িয়ে কেবল মুনাফার হার কমিয়ে দিয়েছিল পরিবেশকরা। পরে ঘোষিত খুচরা মূল্যও বাড়ানো হয়েছে। উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, বসুন্ধরা ব্র্যান্ডের সয়াবিন তেলের দুই লিটারের বোতলের এমআরপি ২০২ টাকা। আগে এই বোতল ১৮০ টাকায় কিনে ১৯০ টাকায় বিক্রি করতাম। এখন ১৯০ টাকার বেশি দামে কেনা পড়ছে, তাই বিক্রি করছি ২০০ টাকায়। এই বাজারে খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, পুষ্টি ব্র্যান্ডের এক লিটার সয়াবিন তেলের এমআরপি ১০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১১০ টাকা করা হয়েছে। বসুন্ধরার পাঁচ লিটারের বোতলের এমআরপি ৫০৬ টাকা ঠিকই আছে।
তবে বসুন্ধরার পাঁচ লিটার বোতল সম্পর্কে হাবিব বলেন, দুই সপ্তাহ আগে এই বোতল পরিবেশকরা ৪৩০ টাকায় সরবরাহ করত। এখন দিচ্ছে ৪৫৫ টাকায়। ফলে এখন বিক্রি করতে হচ্ছে ৪৮০ টাকায়।
বাজারে রূপচাঁদা ব্র্যান্ডের এক লিটারের বোতলের এমআরপি ছিল ১০৫ টাকা। সেটা প্রথম ধাপে বাড়িয়ে ১১০ টাকা এবং দ্বিতীয় ধাপে বাড়িয়ে ১১৪ টাকা করা হয়েছে বলে মহাখালী কাঁচাবাজারের মুদি দোকানি লুৎফুর রহমান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, একইভাবে তীর ব্র্যান্ডের এক লিটারের বোতল এখন ১১০ টাকা। স্বাদ ব্র্যান্ডের রাইস ব্র্যান তেলের পাঁচ লিটারের এমআরপি ৬০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬৮০ টাকা করা হয়েছে। ভোজ্যতেল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ভুট্টো বলেন, পাম তেলের প্রধান রপ্তানিকারক ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়া সম্প্রতি তাদের রপ্তানি কমিয়ে দেয়া ও দাম বাড়িয়ে দেয়ার কারণে তেলের বাজারে এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।