admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ৩০ অক্টোবর, ২০২০ ৮:১৭ পূর্বাহ্ণ
মোঃ হারুন-অর-রশিদ বাবু, ষ্টাফ রিপোর্টার রংপুর ব্যুরো অফিস: রংপুরের পীরগাছা উপজেলার ১নং কল্যাণী ইউনিয়নের স্বচাষ গ্রামের, স্বচাষ তালতলা দাখিল মাদ্রাসার পিছনে অর্থাৎ মাদ্রাসার দক্ষিণে টিনে ঘেড়া বাড়িটাই হলো ভন্ড কবিরাজ বেলাল (৫১) বাড়ি। স্থানীয়ভাবেই তিনি রংপুর মহানগরীর ৩৩নং ওয়ার্ড নগর মীরগঞ্জ আজিজুল্লাহ গ্রামের মৃত্যুঃ রহমতুল্লাহ,মাতা হনুফা বেগমের পুত্র।
বৈবাহিক সুত্রধরে তিনি উপরোক্ত ঠিকানায় বসবাস করছেন। আগে এলাকায় ছ্যাচড়া চোর বিসেবে পরিচিতি থাকলেও, বছর দেরেক আগে তিনি জীবিকা নির্বাহের তাগিদে চালাতেন রিকসা ভ্যান, দিনমজুর হিসেবে কৃষি কাজও করেছেন অন্যের জমিতে। হঠাৎ করে রাতারাতি বদলে ফেলেন নিজের খোলস, হয়ে যান বিশিষ্ট কবিরাজ! রংপুর সিটি কর্পোরেশন কতৃক ট্রেড লাইসেন্সও করেন “প্রকৌশলী, চিকিৎসক, দন্ত চিকিৎসক” শিরোনামে! দীর্ঘদিন থেকে চিকিৎসার নামে মানুষকে প্রতারিত করে ঝাড় ফুঁক আর তাবিজ দিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে হাজার হাজার টাকা। সর্ব রোগের চিকিৎসা দেয়া হয় ও তার কাছে জীন আছে এই বলে সে মানুষকে প্রতারিত করছে। শিশুদেরও চিকিৎসা তিনি দেন বলে জানা যায়।
তার কাছে প্রকৌশলী চিকিৎসক এর মানে জানতে চাইলে তিনি প্রতিবেদককে জানান ভাই আমি ঠিকমতো নিজের নামও লিখতে পারিনা। কোথায় পেলেন এই লাইসেন্স? জানতে চাইলে তিনি জানান, মোঃগোলজার হোসেন (৩০) পিতাঃ মোঃ আব্দুল, মাতাঃ গোলেনুর বেগম, গ্রামঃ মিরাপাড়া পশুয়া,পোঃ থানা পীরগাছা,জেলা, রংপুর ব্যাক্তির মাধ্যমে মোটা অংকের টাকা ব্যায়ে আমি এই লাইসেন্স কিনেছি। সিটি কর্পোরেশনের লাইসেন্স ব্যবহার করে আপনি ইউনিয়ন পরিষদ এলাকায় ব্যবসা করছেন এইটা কি বৈধ কিনা? উত্তরে কবিরাজ বেলাল বলেন আমি মুর্খ মানুষ আমি আসলে এগুলা কোনকিছু জানিনা।
সিটি কর্পোরেশনের ট্রেড লাইসেন্স দিয়ে ইউনিয়নে ব্যবসা করার নিয়ম আছে কি না জানতে চাইলে, ১নং কল্যাণী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান নুর আলম বলেন এটি সম্পুর্ণ অবৈধ আমরা দ্রুত এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। মাহিগঞ্জ মেট্রোপলিটন থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ রোকনুজ্জামান বলেন, এই ভণ্ডামির খবর আমার জানাছিলো না। এখন জানলাম অবশ্যই এর বিরুদ্ধে খুব দ্রুত আইনানুগব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয় লোকজনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে কবিরাজ বেলাল হোসেনের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়,করনা কালিন এই ঝুকিপূর্ণ মুহুর্তেও মানা হচ্ছেনা কোন স্বাস্থ্যবিধি, সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে সবার চলার কথা থাকলেও নিয়ম ভঙ্গ করছেন স্বয়ং কবিরাজ নিজেই। নেই কোন ডাক্তারী যন্ত্রপাতি, শিক্ষা দিক্ষায় নেই কোন সার্টিফিকেট, নেই কোন কবিরাজী বই পত্র, শুধু জীন আছে এবং স্বপ্নে পাওয়া তদবির আছে এগুলো দ্বারাই চিকিৎসা সেবা দেয়া হয় বলে মানুষজনকে বিভ্রান্ত করে দুর দুরান্ত থেকে আসা অসহায় শিশু মহিলা ও বৃদ্ধদের কাছ থেকে, হাতিয়ে নিচ্ছে প্রতিদিন হাজার হাজার টাকা। স্থানীয়রা প্রশাসনের কাছে এর প্রতিকার চায়।