হোম
নাগরিক ভাবনা

নাগরিক ভাবনা: বিচারের দ্বারে ঘুষই যদি হয় প্রবেশের চাবিকাঠি-তহলে বিচারপ্রার্থীরা যাবে কোথায়?

এ্যাডভোকেট এম এ মজিদ || মুক্ত কলম সংবাদ

প্রকাশিত: ৩০ আগস্ট, ২০২৬ ১:০৯ অপরাহ্ণ

ফাইল ছবি

সুপ্রিম কোর্টের মতো সর্বোচ্চ বিচারালয়ে দুর্নীতির অভিযোগ: এখনই কি আত্মসমালোচনা, তদন্ত ও সংস্কারের সময় নয়?একটি রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় আশ্রয়স্থল হলো তার বিচারব্যবস্থা। মানুষ যখন অন্য সব দরজা বন্ধ দেখতে পায়, তখন শেষ আশ্রয় হিসেবে আদালতের দ্বারস্থ হয়। তার বিশ্বাস – আদালতে অর্থ, ক্ষমতা, রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা প্রভাব নয়; সত্য ও ন্যায়বিচারই শেষ কথা।

কিন্তু সেই আদালতের দ্বারেই যদি একজন বিচারপ্রার্থীকে প্রতিটি ধাপে অর্থের বিনিময়ে কাজ করাতে হয় – তাহলে সে যাবে কোথায়? বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বিচারালয় সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে যে ধরনের ঘুষ, অনিয়ম ও দালালির অভিযোগ আইনজীবী, তাদের সহকারী এবং বিচারপ্রার্থীদের মুখে শোনা যায়, সেগুলো নিছক বিচ্ছিন্ন কোনো অভিযোগ হিসেবে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার সুযোগ আছে কি?
আমি হাইকোর্টের একজন আইনজীবী হিসেবে এবং সর্বোপরি বাংলাদেশের একজন নাগরিক হিসেবে এই প্রশ্নটি আজ অত্যন্ত কষ্ট ও লজ্জার সঙ্গে উত্থাপন করছি।

ফেলো কড়ি – কর কাজ- এটিই এখন আদালতের একটি অলিখিত নিয়ম হয়ে গেছে। অভিযোগ রয়েছে, কজলিস্টে মামলা ওঠানো থেকে শুরু করে আদেশ বা রায় লেখানো, বিচারপতির স্বাক্ষর করানো, ফাইল সংশ্লিষ্ট শাখায় পাঠানো, শাখা থেকে ফাইল আদালতে আনা – প্রতিটি ধাপেই অর্থ লেনদেনের চাপ রয়েছে।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, আইনজীবী আদালতে বিচারপতি মহোদয়ের সম্মুখে দাঁড়িয়ে যতই অনুরোধ করুন না কেন, সংশ্লিষ্ট বেঞ্চ অফিসারকে সন্তুষ্ট না করতে পারলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কাজ এগোয় না। একটি মামলার আদেশ হয়ে যাওয়ার পরও সেই আদেশের ফাইল প্রস্তুত, স্বাক্ষর, সংশ্লিষ্ট শাখায় প্রেরণ কিংবা সার্টিফায়েড কপি সংগ্রহ – প্রতিটি পর্যায়েই অনৈতিক অর্থ লেনদেনের প্রয়োজন হয়, তাহলে প্রশ্ন উঠবেই – এগুলো কি কেবল কয়েকজন অসাধু কর্মচারীর ব্যক্তিগত দুর্নীতি, নাকি এর পেছনে একটি দীর্ঘদিনের প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে?

আর যদি এমন অভিযোগ সত্য হয়ে থাকে, তাহলে সেটি শুধু দুর্নীতি নয়; এটি বিচারপ্রার্থীর ন্যায়বিচার পাওয়ার সাংবিধানিক প্রত্যাশার ওপর সরাসরি আঘাত। সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী হচ্ছেন বিচারপ্রার্থী: একটি বিষয় আমাদের ভুলে গেলে চলবে না – আইনজীবী কিংবা তার সহকারী নিজের পকেট থেকে এই অর্থ পরিশোধ করেন না। শেষ পর্যন্ত এই অর্থের বোঝা গিয়ে পড়ে মোয়াক্কেলের ওপরে।

কখনো কখনো “সিস্টেম লস”-এর মতো একটি অস্বচ্ছ পরিস্থিতিও তৈরি হয় – যার জন্য যত টাকা প্রয়োজন বলে জানানো হয়, তার চেয়ে কিছুটা বেশি অর্থ বিচারপ্রার্থীর কাছ থেকে নেওয়া হয়। ফলে আদালতের একটি ফাইল নড়াচড়া করানোর প্রতিটি অনৈতিক খরচের শেষ ভুক্তভোগী হন সেই মানুষটি, যিনি ন্যায়বিচারের আশায় আদালতে এসেছেন।
একজন সাধারণ মানুষ তার জীবনের সঞ্চয়, জমি বিক্রি, ব্যবসার মূলধন কিংবা পরিবারের প্রয়োজনীয় অর্থ ব্যয় করে বছরের পর বছর মামলা চালান। তার ওপর যদি আদালতের প্রতিটি ধাপে অনৈতিক অর্থের বোঝা চাপানো হয়, তাহলে বিচার তার কাছে আর ন্যায়বিচার থাকে না – বিচার হয়ে ওঠে আর্থিক সামর্থ্যের পরীক্ষা।

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির ভূমিকা কোথায়?
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি দেশের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ পেশাজীবী প্রতিষ্ঠান। প্রশ্ন হলো – আদালত অঙ্গনে এ ধরনের অভিযোগ যদি বছরের পর বছর ঘুরে বেড়ায়, তাহলে সমিতি কি বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আইনজীবীদের মতামত গ্রহণ করেছে? আইনজীবীদের নিয়ে কি কোনো উন্মুক্ত আলোচনা হয়েছে? কোন কোন ধাপে অনিয়মের অভিযোগ বেশি আসে – তার কি কোনো তথ্যভিত্তিক পর্যালোচনা হয়েছে?

প্রয়োজনে কি প্রধান বিচারপতি মহোদয়ের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠক করে একটি যৌথ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে?
কেউ যদি বলেন,আইনজীবীরা নিজের হাতে ঘুষ দেন না তবুও প্রশ্ন থেকে যায়: যদি তাদের সহকারী বা প্রতিনিধির মাধ্যমে এমন অর্থ লেনদেনের অভিযোগ থাকে, তাহলে সেই সংস্কৃতি বন্ধ করার দায়িত্ব কি আইনজীবী সমাজেরও নেই? নীরবতা কোনো সমস্যার সমাধান নয়।

বিচারপতিদ্গণের কি কোনো দায় নেই? এখানে একটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর প্রশ্নও সামনে আসে। ধরা যাক, একটি আদালতে এক দিনে ৫০টি মামলার আদেশ দিলেন। কিন্তু সংশ্লিষ্ট বেঞ্চ অফিসার শেষের বা মাঝের ১০টি মামলার ফাইল বিচারপতির স্বাক্ষরের জন্য নিয়ে এলেন এবং বিচারপতি মহোদয় যথারীতি সেগুলোতে স্বাক্ষর করে দিলেন। এখানে প্রশ্ন হলো – বিচারপতি যদি বিওকে জিজ্ঞেস করতেন – আমি আদেশ দিলাম ৫০টি মামলার, আর আপনি শেষের বা মাঝের বা সিরিয়াল না মেনে ১০টি মামলার আদেশে স্বক্ষরের জন্য আমার কাছে নিয়ে এলেন কেন?

একজন বিচারপতির পক্ষে প্রতিটি প্রশাসনিক অনিয়ম ব্যক্তিগতভাবে জানা সম্ভব নয় – এটি সত্য। কিন্তু যেখানে অনিয়মের লক্ষণ স্পষ্ট, সেখানে প্রশ্ন করা, জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া কি বিচারপতি দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না? বিচারিক প্রশাসনে এমন একটি ব্যবস্থা তৈরি করতে হবে যেখানে কোনো বেঞ্চ অফিসার বা কর্মচারী নিজের ইচ্ছামতো ফাইলের অগ্রাধিকার পরিবর্তন করতে পারবেন না?

প্রযুক্তিই হতে পারে অনেক দুর্নীতির বড় প্রতিষেধক:
আজকের ডিজিটাল যুগে অনেক অনিয়ম বন্ধ করার প্রযুক্তিগত উপায় রয়েছে। কজলিস্ট প্রস্তুত, ফাইলের গতিবিধি, আদেশ প্রস্তুত, বিচারপতির স্বাক্ষর, ফাইল শাখায় প্রেরণ, সার্টিফায়েড কপি প্রস্তুত এবং ডেসপাস – প্রতিটি ধাপ যদি একটি ডিজিটাল ট্র্যাকিং সিস্টেমের আওতায় আনা যায় এবং কে, কখন, কতক্ষণ ফাইলটি নিজের কাছে রেখেছেন তার স্বয়ংক্রিয় রেকর্ড থাকে, তাহলে ব্যক্তিগতভাবে ফাইল আটকে রাখা কিংবা অগ্রাধিকার পরিবর্তনের সুযোগ অনেকটাই কমে আসবে।

একই সঙ্গে প্রতিটি পর্যায়ে নির্ধারিত সরকারি ফি স্পষ্টভাবে প্রকাশ করা এবং সরকারি ফি ছাড়া অতিরিক্ত কোনো অর্থ প্রদান করবেন না- এমন নির্দেশনা দৃশ্যমান স্থানে দেওয়া যেতে পারে। অভিযোগ জানানোর জন্য স্বাধীন ও কার্যকর ব্যবস্থা থাকতে হবে, যেখানে অভিযোগকারী প্রতিশোধের ভয় ছাড়াই অভিযোগ করতে পারবেন। দুর্নীতি যদি উপরের আদালতে থাকে, নিচে কী হয় – তা সহজেই অনুমেয়। দেশের সর্বোচ্চ আদালতকে মানুষ ন্যায়বিচারের শেষ আশ্রয়স্থল মনে করে। সেখানে যদি দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ বছরের পর বছর অমীমাংসিত থাকে, তাহলে নিম্ন আদালত সম্পর্কে সাধারণ মানুষের ধারণা কী হবে?

আর যখন মানুষ আদালতের ওপর আস্থা হারাতে শুরু করে, তখন তারা বিকল্প “বিচারব্যবস্থা” খুঁজতে পারে – যেটি হবে রাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত ভয়ংকর অবস্থা। কারণ তখন আইন, আদালত ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের পরিবর্তে মানুষ প্রভাবশালী ব্যক্তি, রাজনৈতিক আশ্রয়, সন্ত্রাসী, পেশাদার গুন্ডা কিংবা অস্ত্রধারীদের দ্বারস্থ হতে শুরু করবে। একটি রাষ্ট্রের জন্য এর চেয়ে ভয়াবহ বিপদের আর কী হতে পারে?

দিনাজপুরের একটি বাস্তব ঘটনা – যা আমাদের ভাবতে বাধ্য করে: দিনাজপুর শহরের প্রায় ৫ কাঠা জমি নিয়ে দুই প্রতিবেশীর মধ্যে ৪০ বছরেরও বেশি সময় ধরে মামলা চলার একটি ঘটনা আমার জানা আছে। দীর্ঘ এই সময়ে মামলার এক পক্ষের দাবি অনুযায়ী, শুধু মামলাটি চালাতেই তার প্রায় এক কেটি লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। তারিখের আগে আইনজীবীর বাসায় যাওয়া, তারিখের দিনে আদালত ও আদালতপাড়ায় ঘোরাঘুরি, ৪০ বছরেরও বেশি সময় ধরে একজন বিচারপ্রার্থীর জীবন প্রায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে।

এক পর্যায়ে, কথিত আইনি প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা ও হতাশায় তিনি একজনের পরামর্শে স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী এক খুনি ও সন্ত্রাসী ব্যক্তির শরণাপন্ন হন এবং ১০ লাখ টাকা প্রদান করেন বলে জানা যায়। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই ব্যক্তি তার সন্ত্রাসী লোকজন নিয়ে প্রতিপক্ষকে ডেকে অস্ত্রের ভয় দেখায়, মারধর করে, অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে এবং কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে চার ঘণ্টার মধ্যে জায়গা ছেড়ে দেওয়ার হুমকি দেয়।

ঘটনার পর মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যে জায়গাটি খালি করে দেওয়া হয়। এই ঘটনাটি আমাদের সামনে একটি ভয়াবহ প্রশ্ন দাঁড় করিয়েছে – ৪০ বছরের মামলা আদালত যেখানে একজন মানুষকে দিতে পারেনি তার জমির দখল, সেখানে একজন সন্ত্রাসী অস্ত্র প্রদর্শন ও জীবন নাশের ভয় দেখিয়ে মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যেই সেই কাজটি করে ফেলল কীভাবে?

এটি কি শুধু একটি জমির বিরোধ?
নাকি এটি আমাদের বিচারব্যবস্থার দীর্ঘসূত্রতা, ব্যয়বহুলতা এবং মানুষের আস্থা হারানোর একটি ভয়াবহ প্রতিচ্ছবি? মানুষ যদি আদালত ছেড়ে সন্ত্রাসীর কাছে যায় – তাহলে দোষ কার?
আমি কোনোভাবেই সন্ত্রাস, অস্ত্র, ভয়ভীতি বা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়াকে সমর্থন করি না। বরং এগুলো রাষ্ট্রের জন্য আরও ভয়ংকর অপরাধ। কিন্তু একই সঙ্গে রাষ্ট্রকে এই প্রশ্নের উত্তরও দিতে হবে। একজন মানুষ কেন আদালতের পরিবর্তে একজন সন্ত্রাসীর কাছে যাওয়ার কথা চিন্তা করতে বাধ্য হয়?

কেন একজন বিচারপ্রার্থী ৪০ বছর মামলা চালিয়েও হতাশ হন?
কেন একজন সাধারণ মানুষ আদালতে ন্যায়বিচার পেতে গিয়ে নিজের সর্বস্ব হারানোর আশঙ্কা করেন? কেন বিচারপ্রার্থী মনে করবেন – আইনের পথে গেলে তার জীবন শেষ হয়ে যাবে, কিন্তু বেআইনি শক্তির কাছে গেলে কয়েক ঘণ্টায় সমাধান হয়ে যাবে? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজে বের করা এখন আর শুধু বিচার বিভাগের দায়িত্ব নয়। এটি সরকার, আইনজীবী সমাজ, বিচারক, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, রাজনৈতিক নেতৃত্ব, সুশীল সমাজ এবং সর্বোপরি আমাদের প্রত্যেক নাগরিকের দায়িত্ব।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলা আদালতের বিরুদ্ধে কথা বলা নয় এখানে একটি বিষয় অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বলা প্রয়োজন – বিচারব্যবস্থার দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলা মানে বিচার বিভাগের বিরুদ্ধে কথা বলা নয়। বরং যারা বিচার বিভাগের মর্যাদা, স্বাধীনতা ও জনগণের আস্থা রক্ষা করতে চান, তাদেরই সবার আগে দুর্নীতি, অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে কথা বলা উচিত। কারণ আদালতের মর্যাদা ভবনের দেয়ালে নয়; মানুষের বিশ্বাসে। একজন বিচারপ্রার্থী যখন আদালতের দরজায় দাঁড়িয়ে বিশ্বাস করেন যে তাঁর টাকা নেই, ক্ষমতা নেই, রাজনৈতিক পরিচয় নেই – তবুও তিনি ন্যায়বিচার পাবেন, তখনই বিচারব্যবস্থা সত্যিকার অর্থে মহান।

এখন প্রয়োজন অভিযোগ নয়, নিরপেক্ষ তদন্ত এই লেখার উদ্দেশ্য কোনো নির্দিষ্ট বিচারপতি, বেঞ্চ অফিসার, কর্মচারী, আইনজীবী কিংবা প্রতিষ্ঠানকে প্রমাণ ছাড়া দোষী সাব্যস্ত করা নয়। বরং অভিযোগগুলোর সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক; আর যদি অসত্য হয়, তাহলে একটি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সেটিও জনগণের সামনে পরিষ্কার করা হোক। আমি মনে করি, হাইকোর্টের প্রশাসনিক কার্যক্রমের প্রতিটি ধাপ নিয়ে একটি স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ অনুসন্ধান হওয়া প্রয়োজন।
আইনজীবী, সহকারী, আদালতকর্মী ও বিচারপ্রার্থীদের কাছ থেকে গোপনীয়ভাবে মতামত নেওয়া হউক। কোথায় কত সময় লাগে, কোন ধাপে ফাইল আটকে থাকে, সরকারি ফি কত, বাস্তবে কত অর্থ দাবি করা হয় – এসব তথ্য সংগ্রহ করে একটি বাস্তব চিত্র জনগণের সামনে তুলে ধরা এখন সময়ের দাবি।
প্রয়োজনে প্রতিটি ধাপে ডিজিটাল ট্র্যাকিং, টোকেন ব্যবস্থা, অনলাইন কজলিস্ট, নির্ধারিত সময়সীমা এবং অভিযোগ নিষ্পত্তির স্বাধীন ব্যবস্থা চালু করাও এখন সময়ের দাবি।

শেষ কথা ৩০ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এই বাংলাদেশে আমরা এমন একটি বিচারব্যবস্থা চাই, যেখানে একজন দরিদ্র মানুষও একজন ধনী মানুষের সমান মর্যাদা নিয়ে আদালতে দাঁড়াতে পারবেন। আমরা এমন আদালত চাই, যেখানে কোনো বেঞ্চ অফিসার, কোনো কর্মচারী, কোনো দালাল কিংবা কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি বিচারপ্রার্থীর অসহায়ত্বকে অর্থ উপার্জনের সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করতে পারবেন না।
আমরা এমন বিচার চাই, যেখানে “ফেলো কড়ি – কর কাজ কোনো অলিখিত নিয়ম হবে না।

আমরা এমন বিচার চাই, যেখানে ফাইল নড়ানোর জন্য টাকা নয়, আইনই হবে একমাত্র শক্তি। কারণ আদালতের প্রতি মানুষের আস্থা একবার ভেঙে গেলে শুধু একটি প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয় না – ক্ষতিগ্রস্ত হয় রাষ্ট্রের প্রতি মানুষের বিশ্বাস।
আর মানুষ যদি আদালতের পরিবর্তে খুনি, সন্ত্রাসী ও গুন্ডাদের কাছে “বিচার” চাইতে শুরু করে, তাহলে সেই দিনটি হবে শুধু বিচার বিভাগের জন্য নয় – সমগ্র রাষ্ট্রের জন্য এক ভয়াবহ পরাজয়। তাই আজ প্রশ্নটি সরকার, বিচার বিভাগ, মাননীয় বিচারপতিগণ, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি, আইনজীবী সমাজ, রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও সুশীল সমাজ – সবার কাছে:
এখনও কি সময় হয়নি – নিজেদের দিকে তাকানোর?
এখনও কি সময় হয়নি – অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করার? এখনও কি সময় হয়নি – বিচারের প্রতিটি স্তরকে দুর্নীতিমুক্ত, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করার? কারণ শেষ পর্যন্ত একজন বিচারপ্রার্থীর মুখে যদি এই কথা শোনা যায়;
আদালতে ন্যায়বিচার পাওয়ার চেয়ে একজন সন্ত্রাসীর কাছে বিচার পাওয়া সহজ- তাহলে তার চেয়ে বড় রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতা আর কী হতে পারে? বিচারব্যবস্থাকে বাঁচাতে হলে শুধু বিচার করলেই হবে না – বিচারের প্রতি মানুষের বিশ্বাসটাকেও বাঁচাতে হবে। এখনই সময়। নইলে ইতিহাস আমাদেরকে কখনোও ক্ষমা করবে না।

লেখক : বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট, জাতীয় সাংবাদিক সোসাইটি এবং ওয়ার্ল্ড পীছ অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস সোসাইটির চেয়ারম্যান।

ফেসবুক মন্তব্য

মতামত জানান :

সর্বশেষ খবর

নাগরিক ভাবনা: বিচারের দ্বারে ঘুষই যদি হয় প্রবেশের চাবিকাঠি-তহলে বিচারপ্রার্থীরা
নাগরিক ভাবনা 2 hours আগে

এক অভিযানে শীর্ষ মাদক কারবারি মিশাল মন্ডল আটক।
অপরাধ 7 hours আগে

পর্যাপ্ত সারের মজুত আছে, কৃত্রিম সংকট করলেই ব্যবস্থা: কৃষিমন্ত্রী।
অর্থনীতি 8 hours আগে

স্কুল শিক্ষকের কোচিংয়ে না পড়লে শিক্ষার্থীদের ফেল করিয়ে দেওয়ার হুমকি।
আইন-বিচার 8 hours আগে

বহিষ্কৃত এমপির বিএনপির নামে কর্মসূচি অংশ নিলে আজীবন বহিষ্কারের ঘোষণা
রংপুর 16 hours আগে

ঠাকুরগাঁওয়ে ডলার দেওয়ার কথা বলে ডেকে নিয়ে প্রতারণা
অপরাধ 1 day আগে

ঠাকুরগাঁওয়ে কালেক্টরেট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে আয়োজিত ১ম গ্রুপ স্কাউট
রংপুর 1 day আগে

দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে থানা বিএনপি কমিটির কার্যক্রম স্থগিত।
রাজনীতি 1 day আগে

৬টি ঘাটে অতিরিক্ত টোল আদায় আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভায় ক্ষোভ
সারা বাংলা 2 days আগে

মাদক বিরোধী অভিযানে র‍্যালি অনুষ্ঠিত।
আইন-বিচার 2 days আগে

পাঠকপ্রিয়

শিরোনাম :

কুড়িগ্রামে ঐতিহাসিক আসনে কঠিন চ্যালেঞ্জে জাপা,মাঠ গরম এনসিপি-বিএনপির। হাদীর ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনায় দিনাজপুর সীমান্ত ৪২ বিজিবির রেড অ্যালার্ট জারি। রোহিঙ্গা মেয়েরা পাচার ছাড়াও বিদেশীদের দ্বারা যৌন কাজে ব্যবহারের টার্গেট হয়ে উঠছে ঠাকুরগাঁওয়ে নানা কর্মসূচিতে হানাদার মুক্ত দিবস উদযাপিত। ঠাকুরগাঁও জেলায় অনুষ্ঠিত হয়েছে ৪র্থ জেলা রোভার মুট-২০২৫। কুড়িগ্রামের রাজারহাটে প্রাণিসম্পদ সপ্তাহের প্রদর্শনী ও সমাপনী অনুষ্ঠিত। পার্বতীপুরে জাতীয় প্রাণি সম্পদ ও ডেইরি প্রকল্পের উদ্বোধন। রাণীশংকৈলে জাতীয় প্রাণীসম্পদ সপ্তাহ ও প্রাণিসম্পদ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত পলাতক শেখ হাসিনার অগ্রণী ব্যাংকের লকার ভেঙে ৮৩২ ভরি স্বর্ণ জব্দ রাজশাহীতে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে আহত ১০ জন ৩ ডিসেম্বর রংপুরে বিভাগীয় মহাসমাবেশ সফল করতে দিনাজপুরে ৮ ইসলামী দলের সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত। দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিতে সব বাহিনী প্রস্তুত: সিইসি পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ৬ হাজার কৃষক পাচ্ছে বিনামূল্যে গম বীজ ও সার। মাত্র চার মাসের শিশু সুমাইয়া বাঁচতে চায়! পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় হেফাজতে ইসলামের নতুন কমিটি গঠন। ভূমিকম্পে সম্ভাব্য ক্ষতি কমাতে এখনই শক্তিশালী ও সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে: সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান রাজধানীতে  আজ থেকে ঘরে বসেই মেট্রোরেলের কার্ড রিচার্জ করবেন? নীলফামারীতে পাটবীজ উৎপাদনকারী চাষীদের প্রশিক্ষণ। আর কোনো পরিস্থিতি নেই যে নির্বাচন ব্যাহত হবে-ঠাকুরগাঁওয়ে মির্জা ফখরুল  ৫-বছরেও শেষ হয়নি ওয়াশব্লকের নির্মাণ কাজ-জনস্বাস্থ্য অফিস বলছেন বাদ দেন চা খাওয়ার জন্য কিছু নেন। পার্বতীপুরে শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকারের দাবীতে কর্মী সভা। পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় নদী বাঁচাও আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নাগরিক সমাবেশ। পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া ইউএনও এক গৃহহীন ভারসাম্যহীন নারীর পাশে দাঁড়ালো। ৮ দফা দাবিতে প্রধান উপদেষ্টা বরাবর নার্সিং এসোসিয়েশন দিনাজপুর জেলা শাখার স্মারকলিপি ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুরে ইউনিয়ন সিএসওর লাইভস্টক সংলাপ সভা অনুষ্ঠিত বগুড়ায় প্রেম করে বিয়ে অতপর ভাড়া বাসায় স্ত্রীকে হত্যা করল স্বামী। দিনাজপুরে ৩ দিনব্যাপী উদ্যোক্তা মেলা ও পিঠা উৎসবের সমাপনী। দিনাজপুরের বিরলে শতাধিক নেতা-কর্মীর মামলা থেকে বাঁচতে ফ্যাসিস্ট আ,লীগ থেকে পদত্যাগ! অভিযোগ দিয়ে ও কাজ বন্ধ হচ্ছে না আদমদিঘীতে সরকারি জায়গা দখল করে করা হচ্ছে অবকাঠামো নির্মাণ! বগুড়ার কইপাড়ায় নববধূ শম্পা হত্যার অভিযোগ, যৌতুক দাবির জেরে স্বামী আটক