হোম
নাগরিক ভাবনা

নাগরিক ভাবনাঃ শেষ পর্ব দিল্লীর সেন্টেনারী জাম্বুরী

admin || মুক্ত কলম সংবাদ

প্রকাশিত: ৭ জুলাই, ২০২০ ৯:০৯ অপরাহ্ণ

Thak-Tangon-mukto-dol-mknewsbd-650x300

ফাইল ছবি

নাগরিক ভাবনাঃ দিল্লীর সেন্টেনারী জাম্বুরী (শেষাংশ) সাদিয়া আফরিন তন্বী, টাংগন মুক্ত মহাদল, ঠাকুরগাওঃ সময়মতো ট্রেন ছাড়লো। টু টেয়ার এ সি কম্পার্টমেন্ট। ৭৩ জনের সিট। ট্রেনের গায়ে লেখা আছে টু টেয়ার, ত্রি টেয়ার ইত্যাদি। বিষয়টা আগে বুঝিনি। বুঝেছিলাম দিল্লী থেকে ফেরার দিন। অর্থাৎ ওই কামরায় বসে গেলের ৭৩ জন শুয়ে গেলেও ৭০ জন যাওয়া যাবে। টু টেয়ার, ত্রি টেয়ার মানে হলো সিটগুলো ২ তলা বা ৩ তলা। যা হোক শীতের সময় । এসি রুম, বেডিংতো সংগেই আছে। ঐশীরও টিকিট করা ছিল। ঐশীর সিটটা ফাঁকাই গেল। কেননা ওতো সব সময়ই আম্মুর সাথে ছিল। খাবার দাবার চা সবই গাড়ীতে। অর্ডার দিলেই হয় কি খাব না খাব এই সব। প্লাষ্টিক প্যাকেটে খাবার, ওয়ান টাইম চামুচ। ওয়ান টাইম কাপ । চায়ের কাপ ৫ রুপি। খাবার ভালোই। খাবারের দাম মোটামুটি সহনীয়। প্রতি প্যাকেট মাত্র ৩৪ রুপী। ভারতীয় ট্রেনের ভালর কথা শুনেছিলাম এবার অনুভব করা পালা। সত্যিই ওদের ভালো ব্যবস্থা। কোথাও ক্রসিং নাই। কোন ট্রেনের জন্য কোন ট্রেনকে দাঁড়িয়ে প্রহর গুনতে হয়না। একই সংগে একই দিকে একাধিক ট্রেন যাচ্ছে। এক, দেড় ঘন্টা পর পর ট্রেন থামছে। আর আমরা ষ্টেশনের নাম মুখস্থ করার প্রয়াস পাচ্ছি। তবে ট্রেনের জানালাগুলোর যে এ্যারেঞ্জমেন্ট তাতে দুর্ঘটনা ঘটলে জানালা দিয়ে বেরোনোর কোন উপায় নাই। শুয়ে বসে আরামে যাচ্ছিলাম। এদিকে সকাল হলো।

ট্রেন পৌছালো ঐতিহাসিক মোগল সরাই জংশন। মোগল সরাই জংশন বিভিন্ন কারনে বিখ্যাত। একটি উপন্যাস পড়েছিলাম মোগল সরাই জংশন নামে এবারে চোখে দেখলাম বিশাল ষ্টেশন। কত জায়গায় ট্রেন যাচ্ছে। মোগল সরাইয়ে ট্রেন অনেকক্ষন থামলো যেন ফুড ভিলেজের যাত্রা বিরতি। ষ্টেশনে নাস্তা পাওয়া যায়। অধিকাংশ নাস্তা রুটি, ডাল, চাল ডাল ভাজার মতো। নাম তড়কা। এ খাবারটা ভারতীয়দের কাছে খুব প্রিয়। দাম বেশী নয়। ষ্টেশনে নেমে ঘোরাঘুরি করলাম। বাবা মোগল সরাই জংশন সম্পর্কে বলেছিলেন। মা অবশ্য মাঝে মাঝেই ৫ রুপি দিয়ে চা পান করছিলো। আবার ট্রেন ছাড়লো।

পথে বিভিন্ন জাতের মানুষের সাথে পরিচয় হলো। এর মধ্যে একজন যাবেন লখনৌ । তিনি ব্যবস্যা করেন। বাবা ওনার সংগে দেশদুনিয়া নিয়ে প্রায় সারা রাস্তাাই কথা বলছিলেন। ভদ্রলোক বেশ মিশুক প্রকৃতির। কথা হচ্ছিল ইতোমধ্যে সাসারামে গাড়ী থামলো। ইতিহাস বিখ্যাত সাসারাম। মোঘল আমলে সামসারামের জায়গীরদারের কথা মুখস্থ করতে হয়েছিল। বড় ষ্টেশন সুতরাং অনেক যাত্রীই নামলো। এলাহাবাদ হয়ে ট্রেন থামলো একটি ষ্টেশনে। আগ্রা যেতে এখানে নামতে হয়। মনে হলো এখানেই নেমে যাই। তবে আগ্রা দেখা প্রোগ্রামে ছিল। ফলে উৎকন্ঠার কোন কারন ঘটলোনা তবে তাজমহল একেবারে কাছে ভেবে জানালা দিয়ে তাকাতাকি করছিলাম, পরে জানলাম বাসে করে যেতে হবে। তখন অন্যদিকে মনোনিবেশ করলাম। দিনেতো আর ঘুমানো যায়না। দেখাদেখি- আলোচনা আর লেখালেখি। কোথাও ট্রেন থামলে বাবা সবাইকে মনে করে দিচ্ছিলেন ইতিহাসের কথা। ভাবছিলাম বাবা বোধ হয় অনেকদিন হিষ্ট্রির দেশে থেকেছেন। না হলে এত জায়গা সম্পর্কে তার জ্ঞানের বহর একেবারে কম নয়। মোটামুটি ২৭ ঘন্টা জার্নি শেষে পুরাতন দিল্লী ষ্টেশনে ঢোকার আগে ব্রীজের উপরে ট্রেন থামলো। কেন থামলো তা জানা সম্ভব হলোনা তবে এটা বোঝা গেল ট্রেন ষ্টেশনে ঢোকার অনুমতি পায়নি। প্রায় ২৫/৩০ মিনিট ট্রেনটা দাঁড়িয়ে থাকার পর ট্রেন দিল্লী ষ্টেশনে থামলো। আমরাও নামলাম। বিশাল স্টেশন। এর পরই আমরা অথৈ পাথারে পড়লাম। আমরা আশা করেছিলাম জাম্বুরীর অভ্যর্থনা কেন্দ্র থাকবে। ওখানে গিয়ে সব খবর পাওয়া যাবে।

আমরা দাঁড়িয়ে সবাই আর বাপ চাচারা দৌড় ঝাঁপ করছেন সুত্র উদ্ধারের । রাত প্রায় ২ টা। আমরা যাবো কোথায়। কোন সুত্র পাওয়া গেলনা। ট্যাক্সি ড্রাইভার জায়গা চেনেনা। ষ্টেশনেও কোন তথ্য উদ্ধার করা গেলনা। ষ্টেশনের অপজিটে কাশ্মীর গেট পর্যন্ত বাবা ঘোরাঘুরি করলেন। কোন কাজই হলোনা। ষ্টেশন সুপার জাতীয় এক ভদ্রলোকের সহায়তা চাইলে তিনি বিরক্তই হলেন। ভাবটা এই যে আমি কি আপনাদের এই সমস্ত উটকো সমস্যা সমাধানের জন্য আছি নাকি ? । কি আর করা। ষ্টেশনের দোতালায় ওয়েটিং রুমে রাত্রি যাপনের ব্যবস্থা। শুয়ে থাকা বটে তবে মালপত্রের নিরাপত্তা নিয়ে বার বার বাবার তাগাদা আর টেনশন। তবে ওয়েটিং রুমে একবারে গোসলেরও ব্যবস্থা আছে। তবে এ জন্য দরজায় যারা দায়িত্বে থাকে আমাদের দেশের মতো তাদেরকে সন্তষ্ট রাখতে হয়। নুরুল আংকেল তা করেছিলেন। সুতরাং নির্বিঘ্নেই রাত কেটে গেল। সকাল হলো। প্রস্তুতি নিলাম। বাবা কলকাতা ফোন করলেন তারা দিল্লীর সাথে যোগাযোগ করতে পরামর্শ দিলেন। অবশেষে জাম্বুরী কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ হলো। ওরা অপেক্ষা করার কথা বললো। আমাদের অপেক্ষার পালা। এর মধ্যে ট্যাক্সি ড্রাইভার আর দালালদের শত আহবান, যদিও তারা জাম্বুরী মাঠ নিরাকারী ময়দান চেনেনা। অবশেষে একটা গাড়ী নিয়ে একজন বৃদ্ধ ভদ্রলোক জাম্বুরী থেকে আমাদের নিতে আসলো। গাড়ীতে সবার জায়গা হলোনা। রফিকুল, বাদল চাচা আর একটা বেবীতে এলো। আমরা যখন জাম্বুরী গেটে ঢুকছিলাম তখন স্কাউটরা দলে দলে জাম্বুরী এক্টিভিটিতে বাইরে যাচ্ছিল। জাম্বুরী গ্রাউন্ডে ঢুকেই দেখলাম অনেকগুলো ছোট ছোট তাঁবু খাটানো আছে কিন্তু ফাঁকা। জানলাম বাংলাদেশ থেকে ২০০ জনের একটা কন্টিনজেন্ট আসার কথা সে জন্য এই আয়োজন। তবে হংকং, শ্রীলংকা, নেপাল, ভুটান ওরা আগেই এসেছে। আমাদের রেজিষ্ট্রেশন হলো। জাম্বুরী স্কার্ফ ওয়াগেল, ব্যাজ ইত্যাদি দেওয়া হলো। এগুলোর মান মোটেও ভাল নয়। আমাদের দেশে এসব অনেক ভালো মানের বানানো হয়। আমরা একেক জন একেক তাঁবু নিলাম। রাজ্য হিসাবে ওদের সাব ক্যাম্প গুলো সাজানো হয়েছে।

মোট ৪০ হাজার স্কাউট এবং গাইড অংশগ্রহণ করেছে। প্রতিটি সাব ক্যাম্পের আলাদা গেট আছে। স্কাউট সপ আছে। কিছু প্রদর্শনীও আছে দেখলাম। প্যারেড গ্রাউন্ডটা দেখবার মতো। নিরানকারী ময়দান আসলেই ময়দান। কাঠ দিয়ে ষ্টেডিয়ামের গ্যালারীর মতো বানানো হয়েছে চারপাশে। এক পাশে বিশাল গেট এবং গ্যালারীর পাশে অনেক উঁচু করে ষ্টেজ। ষ্টেজে খুব বেশী লোকজন ওঠেনা। জাম্বুরীতে খুব চমৎকার করে পাইওনিয়ারিং প্রজেক্ট বানানো আছে প্রদর্শনীর জন্য। যা থেকে শিক্ষনীয় বিষয় আছে। তবে সকল জাম্বুরী কর্মকর্তা তিনি যে লেভেলেরই হোননা কেন জাম্বুরী চীফ সহ সবাই তাঁবুতে থাকেন। জাম্বুরী ম্যানেজার বলে একটা পদ আছে জানলাম, তিনি খুব গুরুত্বপুর্ন ভুমিকা পালন করেন। রেজিষ্ট্রেশন শাখা থেকে আমাদের স্মরণিকা, জাম্বুরী সনদ দেওয়া হলো। তবে একটা বিষয় খেয়াল করলাম, আমাদের জাম্বুরীগুলোতে বিদেশীদের যে ভাবে যত্ন আত্তি নেওয়া হয়, আমরা যতটা তটস্থ থাকি,বিদেশীদের যত খাতির করি, ওরা তত করেনা, বলতে গেলে কিছুই করেনা।

আমাদের দেশে সব ছোট বড় সব ক্যাম্পেই শেষ রাতে হয় গ্রান্ড ক্যাম্পফায়ার , এবং ভালো ডিনার। এখানেও তাই হলো। টেবিল সাজানো বাহারী খাবারে। স্থানীয় অর্থাৎ ভারতীয়দের আলাদা টেবিল আর বিদেশীদের জন্য আলাদা টেবিল। খাবার একই। তবে টেবিলটা সাজানো হয়েছে অদ্ভুত রকমের। দেশের সব সবজি দিয়ে সুন্দর সুন্দর করে কেটে মডেল এবং শো পিস বানানো হয়েছে। তবে একটা ব্যপার তা হলো ওদের সমাবেশে মাছ মাংশ থাকেনা। নিরামিশ। এমনকি বড় খাবারেও তাই। অধিকাংশ খাবারই ডাল জাতীয়। আমাদেরকে খুবযে ভাল লেগেছে তা নয়, কেননা আমরা তো অভ্যস্ত নই। তবে বাবার কোন ভাবান্তর দেখলামনা। উনি ঠিকই খেলেন। আর বর্ননা করলেন ভারতের কোন ক্যাম্পেই মাছ মাংশ চলেনা। এরা সবাইকে ভেজিটেরিয়ান বানিয়ে দেয়। খাবারের পর্ব শেষ হলো। আগামী কাল সমাপনী অনুষ্ঠান। থার্টিফাস্ট নাইট ইনজয় করলাম ভারতের ৪০ হাজার স্কাউটের সাথে। বাজী পোড়ানো হলো। তবে আমাদের দেশে হলো যতটা উচ্ছাস হতো ওদের তত কিছু হলোনা। অনুষ্ঠানাদীর ব্যপারে ওরা যথেষ্ঠ সতর্ক বলে মনে হলো। নববর্ষের সুর্যোদয় দেখলাম বিদেশের মাটিতে ,স্কাউট আন্দোলনের শতবর্ষে দিল্লীর থেকে অনেক দুরে নিরানকারী ময়দানে ভারত স্কাউট এন্ড গাইড আয়োজিত স্পেশাল সেন্টেনারী জাম্বুরীতে। বড় আপু শাম্মী ছাড়া গোটা পরিবারই ছিলাম।

ভারতের এই জাম্বুরী আয়োজনে সরকারি পৃষ্টপোষকতা তেমন নেই বললেই চলে ভারত স্কাউট এন্ড গাইড এর যাবতীয় আয়োজন করেছে। । যেমন আমাদের দেশের জাম্বুরীর আয়োজনে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রনালয় এবং সরকারি কর্মকর্তারা সহায়তা করে থাকে। ইদানিং সরকারি কর্মকর্তারা জাম্বুরীতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও পালন করে থাকেন। এতে অবশ্য ভলান্টিয়ার লিডারদের স্থান সংকুচিত হয়েছে। এতে জাম্বুরী ব্যবস্থাপনা যাইই হোক, স্কাউটিং ফান্ডামেন্টাল এক্টিভিটি থেকে সরে যাচ্ছে বলে আমার ধারণা।
ওদের কথা বার্তা, চালচলন, প্রোগ্রাম দেখে মনে হলো ওরা এখনো স্কাউটিংয়ের ফান্ডামেন্টাল থেকে খুব এটা সরে যায়নি। বরং ব্যাডেন পাওয়েলেই আছে। আমাদের দেশে মেয়েদের গার্ল ইন স্কাউট বলা হয়। মুলতঃ ১৯৯৩ সালে জাম্বুরীতে মেয়েদের ১টি পেট্রোলকে পরীক্ষামুলকভাবে অংশগ্রহণ করানো হয়। ওরা ভালো করে। এর পর বিষয়টি সরকারের অনুমোদন পায়। এর পরই মেয়েদের স্কাউটিংয়ে আসার দ্বার উন্মোচিত হয়। এবং হুহু করে তা বাড়তে থাকে। মেয়েদেরকে স্কাউটিংয়ে আনার কৃতিত্ব যতখানি স্কাউট সংগঠনের তার বেশী ব্যর্থতা গার্ল গাইডস এসোসিয়েশনের। ওদের সংগঠনের কর্মকাšড এখনো মাইক্রোস্কোপিক। তাদের সাংগঠনিক কোন কাজ কাম নেই। কেন্দ্রে জাতীয় কমিশনার পদ নিয়ে আজীবন ঠেলাঠেলি চালু আছে।

প্রতিটি জেলায় বয়োজৈষ্ঠ নারীদের নিয়ে এই সংগঠনের কমিটি আছে কাগজে কলমে। রিটায়ার না করলে কেউ সদস্য হতে পারেনা। সঙ্গত কারণেই বয়স্ক মহিলারা বিভিন্ন অসুখ বিষুখে ভোগেন। আর অল্প বয়ষ্কদের আসার সুযোগ একেবারেই নেই। একবার যারা কমিটিতে ঢুকতে পারেন তিনি আমৃত্যু ঐ পদে থাকবেন। এদের ট্রেনিং নেই, প্রোগ্রামে নেই। বর্তমান কালে টাকা পয়সা হয়েছে ফলে মাঝে মাঝে ২/১টি জেলা প্রশিক্ষণ ক্যাম্পের নামে ক্যম্পের আয়োজন করা হয়। ওখানে আবার অন্য কারো প্রবেশাধিকার নেই। এই সংগঠন যে চলেনা তার এটা প্রকৃষ্ঠ উদাহরণ দিই। বিভাগীয় পর্যায়ে গাইডের একজন কর্মকর্তা আছেন। মেয়েরা গাইড সদস্যপদের জন্য নিজ স্কুলে তাঁর গাইড শিক্ষকের কাছে প্রশিক্ষন নেবে। কিন্তু গাইড শিক্ষক দীক্ষা বা সদস্যপদ দিতে পারবেননা। বিভাগীয় সেই কর্মকর্তা একজন মহিলা তিনি আসবেন , তিনি দীক্ষা দিবেন, তার পর গাইডরা সদস্যব্যাজ পড়তে পারবে। আর কেউ দীক্ষা দিতে পারবেনা। এখন ভাবুন একটি বিভাগে কতগুলো স্কুল। এত স্কুলে কবে যাবেন আর কবে তাদের দীক্ষা হবে। আর নাই কোন পরিবহন। ওরা আবার স্কাউটদের সহায়তাও নেয়না। অনুষ্ঠানাদিতে আমন্ত্রনও জানায়না। মনে হয় স্কাউটদেরকে তারা প্রতিপক্ষই ভাবে। অথচ এখন আমাদের দেশে ছেলেমেয়েদের নিয়ে আমরা কাম্প করছি, কোন সমস্যা হচ্ছেনা। গাইডরা কোন জাতীয় ক্যাম্প করতে পারেনা। আমাদের দেশে যেহেতু আলাদা গার্ল গাইডস সংগঠন আছে সে কারণে স্কাউটিংয়ে যে সমস্ত মেয়েরা আসবে তাদেরকে গার্ল ইন স্কাউট নামে অভিহিত করা হয়। প্রথম দিকে গাইডরা বাধার সৃষ্টি করেছিল। কিন্তু প্রোগ্রামের কারণে ঠেকাতে পারেনি। গাইডদের কোন প্রোগ্রাম নাই। আর স্কাউটদের প্রোগ্রামতো সারা বছর। লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে কোন কোন ক্ষেত্রে মেয়েরা ছেলেদের চাইতেও ভালো করছে।
সমাপনী অনুষ্ঠানে পিজন শো দেখে সত্যিই মোহিত হলাম। দেখলাম গোটা ভারতবর্ষের সংস্কৃতি।

আপনি যদি গোটা ভারতের সংস্কুতির সাথে পরিচিত হতে চান তাহলে তাদের কোন একটি জাম্বুরীর পিজন শো দেখতে হবে। এই শোতে তারা তুলে ধরে নিজ নিজ রাজ্যের ঐতিহ্য , ও শিল্প কলা। কোন কোন রাজ্যে এলাকা ভিত্তিক কোন আলাদা সংস্কৃৃতি থাকলে সেটাও তারা তুলে ধরে। মজার ব্যাপর হলো আমাদের দেশের মতো একটা দলের নাম ঘোষণা হবে একটা দল এসে পারফর্ম করে চলে যাবে তা নয়। এ রকম করে করলে ঘন্টা দশেক লাগবে। গোটা ময়দানে একসঙ্গে পারফরমেন্স শুরু হলো। তারা পর্যায়ক্রমে ষ্টেজ অতিক্রম করলো। দলের সামনে তাদেও পরিচিতিমুলক প্ল্যাকার্ড ছিল। মনে হলো গোটা জাম্বুরী ময়দানে গোটা ভারত বর্ষ মেতে উঠেছে। জাম্বুরীর সমাপনী ঘোষিত হলো। জাম্বুরী শেষে কর্তৃপক্ষ দিল্লী ষ্টেশনে পৌঁছে দিলো। দিল্লীতে ফিরে আসলাম। কয়েকদিনে মোটামুৃটি ভাবে, দিল্লীর ঐতিহাসিক লালকেল্লা , রাজঘাট , কুতুব মিনার , জুমা মসজিদ , হযরত নিজামুদ্দীন আউলিয়ার মাজার, আগ্রার তাজমহল , আগ্রা ফোর্ট, আগ্রা পার্ক, পিংক সিটি জয়পুর, ফতেপুর সিক্রি, আজমীর শরীফ , বিখ্যাত উর্দু কবি মির্জা আসাদুল্লাহ খাঁ গালিবের মাজার, নেতাজী পার্ক, শ্রী কৃষ্ণের জন্মস্থান মথুরা, বৃন্দাবনে কংশের কারাগার সব দেখে নয়া দিল্লী ষ্টেশন থেকে ট্রেনে আবার কলকাতায়। কলকাতায় ফিরে আবার সেই শিয়ালদা স্কাউট সদর দপ্তরে। এদের অফিসে থাকা একটু সমস্যা হয়ে গেল। সম্ভবত দুদিন পরে রেল স্কাউটদের বিভাগীয় সমাবেশ। শিয়ালদা রেল স্কাউট তাতে অংশ নেবে। তারা গ্যাজেট তৈরি সহ অন্যান্য প্রস্তুতিতে ব্যাস্তো। ২য় রাত আমাদেরকে পাশে টেলিফোনের এক বিল্ডিংয়ে থাকতে হলো। ওরাই ব্যবস্থা করলো। পরের ২ দিন আবারো কলতকতার বাঁকী ঘোরাফেরা কেনা কাটা করে ফেরার পালা।

তবে আসার দিন বাবার উৎকণ্ঠা বেশী ছিল। বাবার জিও সোমবার পর্যন্ত আর রোবরারে কলকাতায় ট্যাক্সি চলেনা। বেলা দেড়টার দিকে আছে বনগাঁ লোকাল ট্রেন। এই ট্রেনে শিয়ালদা থেকে বনগাঁ এসে সেখান থেকে পেট্রাপোল হয়ে বেনাপোল। সবাই আৎকে উঠলাম লোকাল ট্রেনের কথা শুনে। লোকাল ট্রেন মানে আমাদের দেশের লোকার ট্রেনের চিত্রটা ভেসে উঠলো । বাবা খুবই দুশ্চিন্তায় পড়লেন। যাহোক করারতো কিছু নাই। সেদিন বনগাঁয়ে মমতা ব্যানার্জীর জনসভা। তিনি তখন বিরোধী দল করেন। সুতরাং ট্রেনে ওঠা যাবে এই নিয়েই সংশয় ছিল। যাহোক বাবা ষ্টেশনের ম্যানেজারের সাথে কথা বললেন। ভদ্রলোক অসম্ভব সহযোগিতা করেছেন। আগে ট্রেন প্লাটফরমে লাগিয়ে দিলেন , পুলিশ দিয়ে কর্ডন করলেন। আমাদের ওঠা হয়ে গেলে তিনি বিলবোর্ডে ট্রেনের নিউজ দিলেন। সারা রাস্তা কী পরিমান মানুষ যে উঠলো তা না দেখলে বোঝানো মুশকিল। পরে আশ্বস্ত হলাম ট্রেন বনগাঁ লোকাল হলেও আমাদের আন্তনগরের চেয়ে কোন অংশে কম নয়। সব স্টেশনে থামলোইনা টেন। সময় মতো বনগাঁ পৌছানো গেল এবং মোটামুটি ৬ টার মধ্যে বর্ডার পার হয়ে বেনাপোলে হাফ ছেড়ে বাঁচলাম। ২০০৭ সালে বিদেশে গেলাম আর ভারত ঘুরে পরের বছর ২০০৮ সালে ফিরলাম আমার নিজ দেশে। ফেরার পথে খুলনা আঞ্চলিক স্কাউট প্রশিক্ষন কেন্দ্র , চাঁচড়া, যশোরে রাতে থাকতে হলো। আঞ্চলিক স্কাউট কর্তৃপক্ষ বাবাকে খুবই ইজ্জত করলো। মনেই হলো তিনি সকলের কাছে পরিচিত। পরের দিন ফিরলাম আমার প্রিয় শহর ঠাকুরগাঁওয়ে। ঠাকুরগাঁও শহরের বসবাস করেছি , লেখাপড়া করেছি , বাবা মা স্কাউটিং করে বলেই বিদেশ যাওয়া হলো বলে আমি মনে করি। সুতরাং এই জেলায় বসবাস করে আমি অহং বোধ করি। স্কুলে একটা স্কাউট দল থাকলে আরো অনেকে এ জাতীয় সুযোগ পেত। ভেবে দেখুন।

মতামত জানান :

Sun Mon Tue Wed Thu Fri Sat
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031  

সর্বশেষ খবর

দিনাজপুরে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য, কাচারী চত্বরে হাতাহাতি আহত ৭জন।
অপরাধ 43 minutes আগে

অদৃশ্য ক্ষমতায় ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা
রংপুর 7 hours আগে

পঞ্চগড়ের বোদায় ভর্তুকি মূল্যে পণ্য বিক্রয় স্টোল পরিদর্শন করেন পানি
রংপুর 8 hours আগে

শীর্ষ সন্ত্রাসী-চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে শীঘ্রই ব্যবস্থা নেয়া হবে-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
জাতীয় 23 hours আগে

সুনামগঞ্জে পরিকল্পিত অগ্নিসংযোগ,বাইরে থেকে তালা মেরে বসত ঘরে আগুন, প্রাণনাশের
অপরাধ 1 day আগে

পদোন্নতির দাবিতে উত্তাল দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ড।
রংপুর 1 day আগে

দিনাজপুর জিয়া হার্ট ফাউন্ডেশন পরিদর্শনে সমাজ কল্যাণ মন্ত্রী ডাঃ এজেড
রংপুর 1 day আগে

ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক ইশরাত জাহান সেচ্ছায় বদলি নিলেল।
রংপুর 2 days আগে

চিরিরবন্দরে বাসের ধাঁক্কায় আরএফএল কোম্পানির এস আর রাকিব নিহত।
দুর্ঘটনা 2 days আগে

অন্ধকার নামতেই পঞ্চগড় কেন্দ্রীয় কবর স্থানে শুরু হয়, লুটপাট, জুয়া
অপরাধ 2 days আগে

পাঠকপ্রিয়

শিরোনাম :

কুড়িগ্রামে ঐতিহাসিক আসনে কঠিন চ্যালেঞ্জে জাপা,মাঠ গরম এনসিপি-বিএনপির। হাদীর ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনায় দিনাজপুর সীমান্ত ৪২ বিজিবির রেড অ্যালার্ট জারি। রোহিঙ্গা মেয়েরা পাচার ছাড়াও বিদেশীদের দ্বারা যৌন কাজে ব্যবহারের টার্গেট হয়ে উঠছে ঠাকুরগাঁওয়ে নানা কর্মসূচিতে হানাদার মুক্ত দিবস উদযাপিত। ঠাকুরগাঁও জেলায় অনুষ্ঠিত হয়েছে ৪র্থ জেলা রোভার মুট-২০২৫। কুড়িগ্রামের রাজারহাটে প্রাণিসম্পদ সপ্তাহের প্রদর্শনী ও সমাপনী অনুষ্ঠিত। পার্বতীপুরে জাতীয় প্রাণি সম্পদ ও ডেইরি প্রকল্পের উদ্বোধন। রাণীশংকৈলে জাতীয় প্রাণীসম্পদ সপ্তাহ ও প্রাণিসম্পদ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত পলাতক শেখ হাসিনার অগ্রণী ব্যাংকের লকার ভেঙে ৮৩২ ভরি স্বর্ণ জব্দ রাজশাহীতে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে আহত ১০ জন ৩ ডিসেম্বর রংপুরে বিভাগীয় মহাসমাবেশ সফল করতে দিনাজপুরে ৮ ইসলামী দলের সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত। দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিতে সব বাহিনী প্রস্তুত: সিইসি পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ৬ হাজার কৃষক পাচ্ছে বিনামূল্যে গম বীজ ও সার। মাত্র চার মাসের শিশু সুমাইয়া বাঁচতে চায়! পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় হেফাজতে ইসলামের নতুন কমিটি গঠন। ভূমিকম্পে সম্ভাব্য ক্ষতি কমাতে এখনই শক্তিশালী ও সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে: সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান রাজধানীতে  আজ থেকে ঘরে বসেই মেট্রোরেলের কার্ড রিচার্জ করবেন? নীলফামারীতে পাটবীজ উৎপাদনকারী চাষীদের প্রশিক্ষণ। আর কোনো পরিস্থিতি নেই যে নির্বাচন ব্যাহত হবে-ঠাকুরগাঁওয়ে মির্জা ফখরুল  ৫-বছরেও শেষ হয়নি ওয়াশব্লকের নির্মাণ কাজ-জনস্বাস্থ্য অফিস বলছেন বাদ দেন চা খাওয়ার জন্য কিছু নেন। পার্বতীপুরে শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকারের দাবীতে কর্মী সভা। পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় নদী বাঁচাও আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নাগরিক সমাবেশ। পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া ইউএনও এক গৃহহীন ভারসাম্যহীন নারীর পাশে দাঁড়ালো। ৮ দফা দাবিতে প্রধান উপদেষ্টা বরাবর নার্সিং এসোসিয়েশন দিনাজপুর জেলা শাখার স্মারকলিপি ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুরে ইউনিয়ন সিএসওর লাইভস্টক সংলাপ সভা অনুষ্ঠিত বগুড়ায় প্রেম করে বিয়ে অতপর ভাড়া বাসায় স্ত্রীকে হত্যা করল স্বামী। দিনাজপুরে ৩ দিনব্যাপী উদ্যোক্তা মেলা ও পিঠা উৎসবের সমাপনী। দিনাজপুরের বিরলে শতাধিক নেতা-কর্মীর মামলা থেকে বাঁচতে ফ্যাসিস্ট আ,লীগ থেকে পদত্যাগ! অভিযোগ দিয়ে ও কাজ বন্ধ হচ্ছে না আদমদিঘীতে সরকারি জায়গা দখল করে করা হচ্ছে অবকাঠামো নির্মাণ! বগুড়ার কইপাড়ায় নববধূ শম্পা হত্যার অভিযোগ, যৌতুক দাবির জেরে স্বামী আটক