admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ৬ অক্টোবর, ২০২০ ১১:১২ অপরাহ্ণ
নাগরিক ভাবনাঃ আমিরুল ইসলাম(বাপন) সাতপাই,নেত্রকোনাঃ ধর্ষণ ধর্ষণ চারিদিকে ধর্ষণ।এসব ধর্ষণের খবর শুনতে শুনতে আজ আমার কর্ণযুগল নষ্টের পথে।খবরের কাগজটা হাতে নিলে থুথু আসে মুখে,সেই থুথু ছুড়ে ফেলি মাটিতে,পৃথিবীর বুকে।
ফেইসবুকে ঢুকলেই দেখি গণহারে সবাই ধর্ষকদের ফাঁসি চাচ্ছে।এভাবে ফাঁসি চায়লে আর দিলে তো দেশের সব পুরুষ শেষ হয়ে যাবে,পরে?পুরুষ সঙ্কটে নারীদের জৈবিক চাহিদা কেমনে মিটাবে?আর,এতে তো শুধু পুরুষই একা মজা উপভোগ করে না,তা হোক জোরপূর্বক কিংবা অন্য উপায়ে।
আর যদি মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হয়,তবে নারী যখন স্বেচ্ছায় শারীরিক সম্পর্ক করার পর বিচ্ছেদ হয়ে গেলে বয় ফ্রেন্ডের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা করবে তখন কি হবে?এখানে তো আর জোরপূর্বকতার কিছু নেই,তবুও কি তাকে মৃত্যু দন্ড দেওয়া হবে?
বিষয়টা আসলেই কঠিন,যদিও নারী-পুরুষের পারস্পরিক জৈবিক আকর্ষণ সহজ।সহজেই ঘটে যায় এসব অপকর্ম।কিন্তু এই কথা সর্বজন জ্ঞাত যে,মোম পেলে আগুনের তেজ বেড়ে যায়।আর বিড়ালের সামনে শুটকি রেখে তারে যতোই নিষেধ করা হোক না কেন কোন লাভ নেই।কারণ বিড়ালের সাথে শুটকি আর আগুনের সাথে মোমের সম্পর্কটা একেবারেই কাছাকাছি।কাজেই আগুনের থেকে মোম সরিয়ে রাখতে পারলেই,আগুনও শান্ত থাকবে মোমও অক্ষত থাকবে।বিড়ালও দোষী হবে না,শুটকির অস্তিত্বো হারানো লাগবে না।
দুর্ভাগ্যের বিষয় হচ্ছে,স্টেশনে গাড়িতে উঠার সময় কোন পুরষকে কোন মেয়ে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিলেও সমস্যা নেই।আর যদি কোন মেয়ের সাথে পুরুষের ধাক্কা লাগে তাহলে তো তার উপায়ই নেই।তখন কি ওই নারীর প্রতি পুরুষটার জেদ জাগে না,পুরুষটা প্রতিশোধমুখর থাকে না?অবশ্যই থাকে,যে বলে থাকে না সে এদেশের নয়,কারণ বাঙালি আজন্ম প্রতিবাদী,একগুঁয়ে,জেদি আর তার প্রমাণ এদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাস।
আবার দেখা যায় একটা নারী যখন চাকরি পায়,একটা পুরুষ তার চাকরির আসন হারায়।অথচ নারী ঘরে থাকলে এই চাকরিটা একজন বেকার পরুষে করতো,নারীও নিরাপদ থাকতো দেশের বেকারত্বও কমত।
কিন্তু যে দেশের প্রধানমন্ত্রী নারী,শিক্ষামন্ত্রী নারী,স্পিকার নারী সে দেশে কেমনে যে ধর্ষন হয় তা সবার সাথে সাথে আমিও বুঝি না।কারণ,বুঝলেই সর্বাগ্রে প্রধানমন্ত্রী,শিক্ষামন্ত্রী ও তৎসময়ী অন্যদেরকে পদত্যাগ করে ঘরে ঢুকার কথা বলতে হবে।ঘরের নারী ঘরমুখো হলে তবেই এদেশে ধর্ষণ রোধ হবে,তার আগে কিছুতেই নয়।শুটকি লুকিয়ে না রেখে মিছেমিছি বিড়ালকে প্রহার করে লাভ নেই।এসব মৃত্যু দন্ডে দেশের পুরুষ নিপাত হতে পারে,ধর্ষণ নয়।