admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ২৮ এপ্রিল, ২০২৩ ৭:২৭ অপরাহ্ণ
গত সপ্তাহে ১০ হাজার ৯৩০ মেট্রিক টন লবণ উৎপাদনের মাধ্যমে চলতি মৌসুমে ইতোমধ্যেই মোট উৎপাদনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৮ লাখ ৩৯ হাজার মেট্রিক টন। অথচ মৌসুমের আরো একমাস বাকি। আর এই রেকর্ড পরিমান লবণ উৎপাদন গত ৬২ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ লবণ উৎপাদনের ইতিহাস গড়ল। গত মঙ্গলবার এই পরিমাণ লবণ উৎপাদনের তথ্য নিশ্চত করে বিসিক কক্সবাজার অফিস। চলতি মৌসুমের লবণ উৎপাদনের ২৩ লাখ মেট্রিক টন লক্ষমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) জানিয়েছে, গত বছর লবণ উৎপাদনের রেকর্ড ছিল ১৮ লাখ ৩২ হাজার মেট্রিক টন।
এবারে লবণ চাষের জমি ও চাষি বেড়েছে। আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় অন্যন্য বছর এই সময়ে যে পরিমাণ লবণ উৎপাদন হয়েছে এবারে তার অনেকগুণ বেশী লবণ উৎপাদন হয়েছে। চলতি মৌসুমে মোট লবণ চাষকৃত জমির পরিমাণ ৬৬ হাজার ৪২৪ একর। গত বছর ছিল ৬০ হাজার ২৯১ একর। গত বছরের তুলনায় এ বছর লবণ চাষের জমি বেড়েছে ৩ হাজার ১০০ একর। চলতি লবণ মৌসুমে লবণ চাষির সংখ্যা ৩৯ হাজার ৪৬৭ জন, গত বছর ছিল ৩৭ হাজার ২৩১ জন। গত বছরের তুলনায় এ বছর চাষির সংখ্যা বেড়েছে দুই হাজার ২৩৬ জন।
আমদানি না করে দেশে লবণ উৎপাদনের মাধ্যমে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের লক্ষ্যে বিসিকের সহায়তায়। এতে লবণ চাষি সমতিগুলো অবশ্য এগিয়ে আসে।
চলতি মৌসুমের এক মাস আগেই চাষিদেরকে মাঠে নামানো হয়। গত মৌসুমে প্রথম লবণ উৎপাদন শুরু হয় ২০২১ সালের ৩০ নভেম্বরে। আর চলতি লবণ মৌসুমে লবণ উৎপাদন শুরু হয় ২০২২ সালের ২৪ অক্টোবরে। লবণ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের লক্ষ্যে স্বল্পমেয়াদী (১ বছর), মধ্যমেয়াদী (১-৫ বছর) এবং দীর্ঘমেয়াদী (৫ বছরের ঊর্ধ্বে) কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। বিসিক আরো জানিয়েছে,কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী আধুনিক পদ্ধতিতে লবণচাষিদের অগ্রিম লবণ চাষে উদ্বুদ্ধকরণ ও প্রশিক্ষণ, লবণ চাষের নতুন এলাকা চিহ্নিতকরণ এবং সম্প্রসারণ, সহজ শর্তে চাষিদের ঋণ প্রদান, একরপ্রতি লবণ উৎপাদন বাড়ানো, প্রকৃত লবণচাষিদের কাছে বরাদ্দ করা, লবণ চাষের জমির লিজ মূল্য নির্ধারণ, লবণ চাষের জমি সংরক্ষণ, আধুনিক পদ্ধতিতে লবণ উৎপাদনে প্রদর্শনী ও উৎপাদিত লবণের মান নিয়ন্ত্রণে কারিগরি সহায়তা প্রদান, জরিপ পরিচালনা, লবণ চাষ এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ এবং লবণ উৎপাদন, মজুদ ও মূল্য নিয়ন্ত্রণে নিয়মিতভাবে মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
জাতীয় লবণনীতি- ২০২২ অনুযায়ী শিল্প মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় বিসিক লবণ শিল্পের পৃষ্ঠপোষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। ১৯৬১ সাল থেকে বিসিকের মাধ্যমেই দেশে পরিকল্পিতভাবে লবণ উৎপাদন কার্যক্রম শুরু হয়। বর্তমানে কক্সবাজারে অবস্থিত বিসিকের লবণ শিল্পের উন্নয়ন কর্মসূচি কার্যালয়ের আওতাধীন ১২টি লবণ কেন্দ্রের মাধ্যমে কক্সবাজারের সব উপজেলায় ও চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে লবণ চাষের জন্য চাষিদের প্রশিক্ষণ, ঋণ প্রদান ও প্রযুক্তি সম্প্রসারণসহ সার্বিক সহায়তা দেওয়া হয়। এদিকে মহেশখালীর লবণ চাষি কল্যাণ সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট শাহাবুদ্দিন জানিয়েছেন, বিসিকের সার্বিক সহযোগিতা ও তত্ত্বাবধানে এবারে বিগত ৬২ বছরের তুলনায় রেকর্ড পরিমাণ লবণ উৎপাদন হতে যাচ্ছে। মৌসুমের আরে এক মাস বাকি আছে। তারা আশা করছেন এই এক মাসে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে দেশে আমদানি নয় প্রচুর পরিমাণে রপ্তানি করার মতো লবণ উদ্বোধন হবে।