ডাঃ নুরল হক,বিরামপুর দিনাজপুর প্রতিনিধি || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ২৭ জুন, ২০২৬ ১১:৪০ পূর্বাহ্ণ
দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলা পরিষদ রোড সংলগ্ন বেসিক ইংলিশ সেন্টারে চিল্ড্রেন স্পোকেন ইংলিশ কোর্সে পারফরমেন্স এন্ড প্রেজেন্টেশন ডে উপলক্ষে অভিভাবক সমাবেশ। গত ২৬ জুন (শুক্রবার) বিকাল ৩ ঘটিকায় বেসিক ইংলিশ সেন্টারে এক অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
উক্ত অনুষ্ঠানে বেসিক ইংলিশ সেন্টারের উপদেষ্টা ডাঃ নুরল হক এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বিরামপুর কলেজিয়েট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ইংরেজি শিক্ষক মোজাম্মেল হক, বিশেষ অতিথি হারুন- অর- রশিদ নবাবগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, অভিভাবকের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মৌসুমী আক্তার হাবিবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সাবিনা ইয়াসমিন শান্তিনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
বক্তাগণের বক্তব্যে উঠে চারটি মানদণ্ডের ওপর ইংরেজি ভাষার দক্ষতা নির্ভর করে। এগুলো হলো শোনা, বলা, পড়া ও লেখা। আমাদের শিক্ষার্থীদের মাঝে এগুলোর চর্চা কম। তাই আমরা দেখছি এদেশের প্রাথমিক বা মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের ইংরেজির ভিত অত্যন্ত দুর্বল। জাতীয় পর্যায়ের এক জরিপে দেখা যায়, প্রাথমিকে তৃতীয় থেকে চতুর্থ শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের ইংরেজি বিষয়ের পঠন-পাঠন আশানুরূপ নয়।
উল্লেখযোগ্য শিক্ষার্থীদের ইংরেজি ভাষাজ্ঞান অত্যন্ত দুর্বল। তারা ভালো করে ইংরেজি পড়তে ও লিখতে পারে না। আর মাধ্যমিক বা উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে, এটা তো ঠিক যে, বিশেষজ্ঞ ইংরেজি শিক্ষকের অনেক চাহিদা।শিক্ষাথীরা কতটুকু ইংরেজি শিখছে তা একটি পরিসংখ্যান থেকে সহজে অনুধাবন করা যায়। ২০১৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ভর্তি পরীক্ষায় ৪০ হাজার ৫৬৫ পরীক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র দু’জন ইংরেজি বিভাগে ভর্তির যোগ্যতা অর্জন করেছিল। ২০১৬ সালে ‘গ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় ৯০ ভাগ পরীক্ষার্থী ফেল করে ইংরেজিতে। দেশের ইংরেজি বিষয়ের এই তথৈবচ অবস্থা দেখে শিক্ষাবিদরাও হতাশা ব্যক্ত করেছেন। প্রকৃতপক্ষে একটি শিক্ষাজীবন শেষে (একাডেমিক ইয়ার) শিক্ষার্থীরা যখন ইংরেজিতে দুর্বল থেকে যায়, তখন তা হয় দেশের জন্য বোঝাস্বরূপ। বর্তমান যুগ জ্ঞান-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির যুগ। এখানে ইংরেজি ভাষাজ্ঞান প্রয়োগ করেই আমাদের বহির্বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করতে হয়। বিদেশে কর্মসংস্থান (ইংরেজি জ্ঞান ভালো হলে এটি দক্ষতা হিসেবে ভাবা হয়), গবেষণা, ব্যবসা-বাণিজ্য, উচ্চশিক্ষা প্রতিটি সেক্টরে রয়েছে ইংরেজির গুরুত্ব।
ইংরেজি ভাষাজ্ঞান আমাদের এতই দুর্বল যে, আজকাল ফেসবুকেও দেখি একের সঙ্গে অন্যের মনের ভাব প্রকাশ করার ক্ষেত্রে বাংলা ভাষাকে ইংরেজিতে রূপ দিয়ে লেখা হচ্ছে। মনের ভাব প্রকাশে প্রকৃত ইংরেজি ভাষার ব্যবহার খুব কম দেখা যায়। এটাও সত্য, অনেকে বিএ, এমএ পাস করেও ইংরেজিতে কথা বলতে পারে না। এটি কি শিক্ষাব্যবস্থার ত্রুটি নাকি ইংরেজি ভাষা শিক্ষায় অনীহা তা ভেবে দেখা প্রয়োজন। অনুষ্ঠান শেষে শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।