হোম
অপরাধ

ঢাকার রাজপথ থেকে শুরু করে অলিগলিতে বিপুল সংখ্যক মানুষ চোখে পড়ে সামাজিক দুরত্ব কই

admin || মুক্ত কলম সংবাদ

প্রকাশিত: ৯ মে, ২০২০ ৩:১৩ পূর্বাহ্ণ

Dhaka-korona-Jame-mknewsbd

ফাইল ছবি

দেশে প্রতিদিন করোনাভাইরাস সংক্রমনের সংখ্যা বাড়ছে। সামাজিক ট্রান্সমিশন ঠেকাতে চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা সামাজিক দূরত্ব রক্ষার উপর জোর দিয়েছেন। সরকারি ছুটি, গণপরিবহন বন্ধ এবং লকডাউনের মধ্যে সরকার মানুষকে ঘরে থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন। কিন্তু প্রতিদিন রাজধানী ঢাকার মার্কেট, রাজপথ থেকে শুরু করে অলিগলিতে বিপুল সংখ্যক মানুষ চোখে পড়ে। ঝুঁকি নিয়ে চলাফেরা এসব ব্যাক্তি সর্বত্রই করোনা ঝুঁকি ছড়াচ্ছেন। কারণে-অকারণে কেউ রাস্তায় নামছেন, কেউ ফুটপাথের চা দোকানে বসে আড্ডা দিচ্ছেন, কেউ অযথাই কেনাকাটার নাম করে রাস্তায় চলাফেরা করছেন, কেউ বা ফাঁকা মহানগর পেয়ে প্রাইভেট কার নিয়ে বেড়িয়ে পড়ছেন। ট্রাফিক পুলিশ ও আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা মোড়ে মোড়ে যখন মানুষ ও যানবাহন থামিয়ে রাস্তায় নামার কারণ জানতে চাচ্ছেন তখন বেশির ভাগ মানুষই ঠুনকো হাস্যকর অজুহাত দেখাচ্ছেন। করোনার সংক্রমন নিয়ন্ত্রনে সবাই যখন ঘরে থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন। তখন কারণে-অকারণে প্রতিদিন যারা রাস্তায় নামছেন তারা আসলে কারা? বিবেক বিবর্জিত মানুষগুলোর পরিচয় কি।

জানতে চাইলে চিকিৎসকদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ডা. রশিদ-ই মাহবুব বলেন, করোনার সামাজিক ট্রান্সমিশন ঠেকানো সামাজিক দূরত্ব রক্ষা আবশ্যক। দুঃখজনক হলো কিছু মানুষ বিবেকহীনের মতো অহেতুক ঘোরাফেরা করেন। এতে সংক্রমন আরো ছড়িয়ে পড়ছে। জাতির বৃহৎ স্বার্থে সরকারের উচিত লকডাউন কঠোরভাবে কার্যকর করা। দেশে করোনা সংক্রমনের দুই মাস পূর্ণ হয়েছে গতকাল শুক্রবার। এই দীর্ঘ সময়ে পর্যবেক্ষণ করে এবং খোঁজ-খবর নিয়ে যে চিত্র পাওয়া যায় তাতে দেখা যায়, ঢাকা শহরের বিপুল সংখ্যক তথা দুই তৃতীয়াংশ মানুষ ঘরবন্দি। এদের কেউ কেউ অতি প্রয়োজনে দু’এক ঘণ্টার জন্য বের হলেও নিজেকে নিরাপদ রেখেই চলাফেরা করেন। আর বেশির ভাগ মানুষ কার্যত বের হন না। ইট-পাথরের ঢাকা শহরে লাখ লাখ মানুষ উচু বিল্ডিংয়ে ফ্ল্যাটে থাকেন। তাদের অধিকাংশই প্রতিদিন আকাশ-বাতাস দেখলেও দুই মাস থেকে মাটির দেখেন না। এমনকি অনেকেই আকাশও দেখতে পান না দুই মাস ধরে।

কর্মজীবনে দুই এবং তিনটি অফিস করতে হয় এবং প্রতিদিন সকাল ৯টায় ঘর থেকে বের হয়ে গভীর রাতে ফিরতে হয় কাজের চাপে। এমন ব্যস্ত মানুষও করোনার কারণে ঘরে বসে কাজকর্ম সারছেন। করোনা সংক্রমন ঠেকাতে সামাজিক দূরত্ব রক্ষায় ঘরে অবস্থান তারা মানিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছেন। প্রতিমাসে দুই তিন বার বিদেশ যেতেন এমন ব্যস্ত ব্যবসায়ী-শিল্পপতিদের বেশির ভাগ মানুষ করোনার কারণে স্বেচ্ছা ঘরবন্দি। বন্ধু-বান্ধব এবং নেতাকর্মী ও সহকর্মীদের ছাড়া যারা সকালের নাস্তা করতেন না তারাও করোনায় এত ঘরে থেকে সময় কাটান। ফোনে সবার সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করেন। এই যখন অবস্থা তখন এক শ্রেণির মানুষ করোনার ঝঁকির মধ্যেই প্রতিদিন রাস্তায় নামছেন।

বাস-ট্রেন-হোটেলের দেয়ালে দেখা যায় ব্যবহারে বংশের পরিচয়। প্রবাদটির যথার্থতা করোনাকালে যেন চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে। করোনা সংক্রমন ঠেকাতে মিডিয়াকর্মীদের বড় অংশ ঘরে বসেই কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন। তারপরও পেশাগত কারণে প্রায়ই বাইরে বের হলে দেখা যায় রাস্তায়, কাঁচাবাজার, ত্রাণ বিতরণের লাইনে একই শ্রেণির মানুষ। কাঁচাবাজারে প্রতিদিন কেনাকাটা করছেন, ভিড় করছেন ওই শ্রেণির মানুষ। তারা ছোট্টখাট পণ্য ক্রয়ের জন্যই দিনে একধিকবার বাজারে যাচ্ছেন লকডাউন ভেঙে। রাস্তায় রিকশায় ঘুরছেন, ভ্যান-অটো-সিএনজিতে এখান-সেখানে যাচ্ছেন ওই একই শ্রেণির মানুষ।
রাস্তায় পুলিশ জিজ্ঞাস করলে কেউ আমতা আমতা করেন, কেউবা হাজারো প্রয়োজনের ফিরিস্তি দেন।

ঢাকা শহরের প্রতিটি ত্রাণ কার্যত টিভির ক্যামেরা নির্ভর। সেখানে তাকালে দেখা যায় একই মুখগুলো ত্রাণের জন্য বার বার লাইনে দাঁড়াচ্ছেন। এক যায়গায় ত্রাণ নিয়ে অদূরে অন্য যায়গায় গিয়ে ত্রাণের জন্য অপেক্ষা করছেন। ত্রাণের জন্য রাস্তার ফুটপাথে বসে ঘন্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছেন আবার মার্কেট-দোকানে এবং কোথাও কাউকে দেখলেই সাহার্য্যরে জন্য হাত পাতছেন; এই মুখগুলো কার্যত অভিন্ন। একই মানুষ বিভিন্নভাবে রাস্তায় নামছেন, সামাজিক দূরত্ব ভেঙে জাতিকে করোনা ঝুঁকিতে ফেলে দিচ্ছেন।

বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা মনে করছেন শপিংমল ও বিপতিবিতান খোলা হলে করোনার সামাজক ট্রান্সমিশন ব্যপকভাবে বেড়ে যাবে। ক্রেতা-বিক্রেতা সামাজিক দূরত্ব রক্ষা যেমন দূরহ তেমনি একই কাপড় কয়েকজন ক্রেতা উল্টে পাল্টে দেখবেন। তাদের বক্তব্য বেঁচে থাকলে জীবনে অনেক ঈদ আসবে। জীবনই যদি না থাকে তাহলে টাকা দিয়ে কি হবে। দোকান খুললে কোনোভাবেই ক্রেতাদের নিয়ে সামাজিক দূরত্ব রক্ষা করা সম্ভব হবে না। এতে দোকান মালিক, কর্মচারী, ক্রেতা সকলেই মধ্যে সংক্রমন ছড়িয়ে পড়বে।

১০ মে শপিংমল ও মার্কেট খোলার ব্যাখ্যা দিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুন্সি বলেছেন, দোকান মালিক সমিতির সভাপতির চিঠি পেয়েই ১০ মে দোকানপাট খোলার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। অন্যদিকে এক টেলিভিশনে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি মো. হেলালউদ্দিন বলেছেন, বাণিজ্য সচিবের চিঠি পাওয়ার পর মার্কেট খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। স্বাস্থ্যবিধি মেনে যারা মার্কেট খোলা রাখতে পারবেন তারা খুলবেন। সরকারের ভিতরের কিছু ব্যাক্তির ঈদের আগে শপিংমল ও বিপনি বিতান খুলে দেয়ার তাগাদার রহস্য কি?

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বাংলাদেশে ঈদের বাজারে ভারতীয় কাপড় বিক্রি করার তাগাদা থেকে ঝুঁকি নিয়েই মার্কেট খোলার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এবার করোনার কারণে চীন থেকে কোনো কাপড় বাংলাদেশে আসেনি। ঈদের মার্কেট ধরতে ভারত থেকে বিপুল পরিমান কাপড় বৈধ-অবৈধ পথে এসেছে। সে কাপড় বিক্রির তাগাদা থেকেই মার্কেট খুলে দেয়ার আগ্রহ।
ভারতীয় পণ্যের বাজার ধরতে এদেশের কারো কারো কাছে যেন মানুষের জীবনের মূল্য গৌণ হয়ে গেছে। করোনাভাইরাসের থাবায় গোটা বিশ্ব যখন পর্যুদস্ত তখনো ভারতীয় কাপড় বিক্রি করতে বাংলাদেশের কিছু মানুষ অস্থির। ভারতের স্বার্থ রক্ষার কাছে এদেশের মানুষের করোনায় মৃত্যু ঝুঁকি যেন কিছুই নয়। তবে ব্যবসায়ীদের বড় একটা অংশ করোনাকালে ঘরে বসে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

গত ৭ মে ইনকিলাবে অর্ধেক মার্কেট খুলছে না শীর্ষক এক প্রতিবেদন পড়ে মন্তব্যের ঘরে আসাদুল্লাহ আসাদ লিখেছেন করোনায় আপনি যদি মারা যান তাহলে সরকারের তালিকায় একটি সংখ্যা যোগ হবে মাত্র। এর বেশি কিছুনা। কিন্তু আপনার ফ্যামিলির কাছে আপনি একটি পৃথিবী। আপনার মৃত্যু তাদের দুনিয়াকে বিষন্ন করে তুলবে। তাই লক ডাউন শিথিল হলেও সাবধানে চলাফেরা করুন। সতর্ক থাকুন।

মতামত জানান :

Sun Mon Tue Wed Thu Fri Sat
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031  

সর্বশেষ খবর

সাঘাটায় যৌতুকের দাবিতে শশুর–শাশুড়ী পুত্রবধূকে বটি দিয়ে জবাই করার চেষ্টা।
অপরাধ 7 hours আগে

ঠাকুরগাঁও-৩ আসনেই বিএনপি জয় পেলেও অভাবনীয় উত্থান জামায়াতের।
রংপুর 7 hours আগে

দিনাজপুরে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য, কাচারী চত্বরে হাতাহাতি আহত ৭জন।
অপরাধ 1 day আগে

অদৃশ্য ক্ষমতায় ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা
রংপুর 1 day আগে

পঞ্চগড়ের বোদায় ভর্তুকি মূল্যে পণ্য বিক্রয় স্টোল পরিদর্শন করেন পানি
রংপুর 1 day আগে

শীর্ষ সন্ত্রাসী-চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে শীঘ্রই ব্যবস্থা নেয়া হবে-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
জাতীয় 2 days আগে

সুনামগঞ্জে পরিকল্পিত অগ্নিসংযোগ,বাইরে থেকে তালা মেরে বসত ঘরে আগুন, প্রাণনাশের
অপরাধ 2 days আগে

পদোন্নতির দাবিতে উত্তাল দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ড।
রংপুর 2 days আগে

দিনাজপুর জিয়া হার্ট ফাউন্ডেশন পরিদর্শনে সমাজ কল্যাণ মন্ত্রী ডাঃ এজেড
রংপুর 2 days আগে

ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক ইশরাত জাহান সেচ্ছায় বদলি নিলেল।
রংপুর 3 days আগে

পাঠকপ্রিয়

শিরোনাম :

কুড়িগ্রামে ঐতিহাসিক আসনে কঠিন চ্যালেঞ্জে জাপা,মাঠ গরম এনসিপি-বিএনপির। হাদীর ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনায় দিনাজপুর সীমান্ত ৪২ বিজিবির রেড অ্যালার্ট জারি। রোহিঙ্গা মেয়েরা পাচার ছাড়াও বিদেশীদের দ্বারা যৌন কাজে ব্যবহারের টার্গেট হয়ে উঠছে ঠাকুরগাঁওয়ে নানা কর্মসূচিতে হানাদার মুক্ত দিবস উদযাপিত। ঠাকুরগাঁও জেলায় অনুষ্ঠিত হয়েছে ৪র্থ জেলা রোভার মুট-২০২৫। কুড়িগ্রামের রাজারহাটে প্রাণিসম্পদ সপ্তাহের প্রদর্শনী ও সমাপনী অনুষ্ঠিত। পার্বতীপুরে জাতীয় প্রাণি সম্পদ ও ডেইরি প্রকল্পের উদ্বোধন। রাণীশংকৈলে জাতীয় প্রাণীসম্পদ সপ্তাহ ও প্রাণিসম্পদ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত পলাতক শেখ হাসিনার অগ্রণী ব্যাংকের লকার ভেঙে ৮৩২ ভরি স্বর্ণ জব্দ রাজশাহীতে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে আহত ১০ জন ৩ ডিসেম্বর রংপুরে বিভাগীয় মহাসমাবেশ সফল করতে দিনাজপুরে ৮ ইসলামী দলের সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত। দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিতে সব বাহিনী প্রস্তুত: সিইসি পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ৬ হাজার কৃষক পাচ্ছে বিনামূল্যে গম বীজ ও সার। মাত্র চার মাসের শিশু সুমাইয়া বাঁচতে চায়! পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় হেফাজতে ইসলামের নতুন কমিটি গঠন। ভূমিকম্পে সম্ভাব্য ক্ষতি কমাতে এখনই শক্তিশালী ও সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে: সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান রাজধানীতে  আজ থেকে ঘরে বসেই মেট্রোরেলের কার্ড রিচার্জ করবেন? নীলফামারীতে পাটবীজ উৎপাদনকারী চাষীদের প্রশিক্ষণ। আর কোনো পরিস্থিতি নেই যে নির্বাচন ব্যাহত হবে-ঠাকুরগাঁওয়ে মির্জা ফখরুল  ৫-বছরেও শেষ হয়নি ওয়াশব্লকের নির্মাণ কাজ-জনস্বাস্থ্য অফিস বলছেন বাদ দেন চা খাওয়ার জন্য কিছু নেন। পার্বতীপুরে শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকারের দাবীতে কর্মী সভা। পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় নদী বাঁচাও আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নাগরিক সমাবেশ। পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া ইউএনও এক গৃহহীন ভারসাম্যহীন নারীর পাশে দাঁড়ালো। ৮ দফা দাবিতে প্রধান উপদেষ্টা বরাবর নার্সিং এসোসিয়েশন দিনাজপুর জেলা শাখার স্মারকলিপি ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুরে ইউনিয়ন সিএসওর লাইভস্টক সংলাপ সভা অনুষ্ঠিত বগুড়ায় প্রেম করে বিয়ে অতপর ভাড়া বাসায় স্ত্রীকে হত্যা করল স্বামী। দিনাজপুরে ৩ দিনব্যাপী উদ্যোক্তা মেলা ও পিঠা উৎসবের সমাপনী। দিনাজপুরের বিরলে শতাধিক নেতা-কর্মীর মামলা থেকে বাঁচতে ফ্যাসিস্ট আ,লীগ থেকে পদত্যাগ! অভিযোগ দিয়ে ও কাজ বন্ধ হচ্ছে না আদমদিঘীতে সরকারি জায়গা দখল করে করা হচ্ছে অবকাঠামো নির্মাণ! বগুড়ার কইপাড়ায় নববধূ শম্পা হত্যার অভিযোগ, যৌতুক দাবির জেরে স্বামী আটক