মাহাবুব আলম,রাণীশংকৈল,ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ৩ মার্চ, ২০২৬ ৪:৩৪ অপরাহ্ণ
ঠাকুরগাঁও রানিসংকৈল উত্তরের জনপদ জেলা এক সময় আওয়ামী লীগের দুর্গ হিসেবে পরিচিত ছিল। কিন্তু ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানওপরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জেলার রাজনৈতিক মানচিত্রে এসেছে বড় পরিবর্তন। তিনটি সংসদীয় আসনেই জয় পেয়েছে বিএনপির প্রার্থী। তবে এই ক্লিন সুইপ জয়ের আড়ালেই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে নতুন এক রাজনৈতিক সমীকরণ। অভাবনীয় উত্থান ঘটেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর।
স্থানীয় ভোটাররা বলছেন, এবার নির্বাচনটা ছিল মূলত আদর্শিক লড়াই। আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে বিরোধী রাজনীতির ভেতরেই হয়েছে প্রতিযোগিতা। আগে লড়াই হতো নৌকা আর ধানের শীষে। এবার লড়াই হয়েছে ঘরের মানুষের মধ্যে। তবে জামায়াতের ভোট যে এত বাড়বে, সেটা অনেকেই ভাবেনি বলে এমন মতামত ব্যক্ত করেছেন রাণীশংকৈল উপজেলার বিশিষ্ঠ্য ক্রীড়াবিদ সাবেক অধ্যক্ষ তাজুল ইসলাম। তিনি আরো বলেন,আওয়ামী লীগের শূন্যতায় যে ভোটব্যাংক তৈরি হয়েছে, তার একটি বড় অংশ জামায়াত দখলে নিয়েছে। বিশেষ করে ২ ও ৩ আসনে তাদের অবস্থান ভবিষ্যতের জন্য বিএনপির কাছে একটি সর্তকবার্তা।
জামায়াতের উত্থানের কারণ হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারী রজব আলী বলেন, আমরা ১৭ বছর ক্ষমতার বাইরে ছিলাম। ঘরোয়া রাজনৈতি করেছি আর মানুষের উপকার করেছি। ৫ আগষ্ঠের পর দেড় বছর ধরে অনেক মানুষের উপকার করেছি, আল্লাহর জমিনে দূনীতি মুক্ত দেশ গড়ার লক্ষে মানুষ আকৃষ্ঠ হয়ে দাড়িপাল্লায় ভোট দিয়েছে। তাছড়া তরুণ প্রজন্মের একটি বড় অংশকে আমরা কাছে টানতে পেরেছি।
রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে ৫ আগস্টের পর কিছু এলাকায় বিএনপির স্থানীয় নেতাদের আচরণ নিয়ে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়। বিভিন্ন স্থানে অরাজকতা ও অভ্যন্তরীণ কোন্দলের অভিযোগও শোনা গেছে। এ কারণগুলো জামায়াতের ভোট বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করছেন অনেকে। তারা আরও বলছেন, তৃণমূল পর্যায়ে শৃঙ্খলা রক্ষা ও জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে না পারলে ভবিষ্যতে বিএনপির এ ক্ষয় আরও প্রকট আকার ধারন করবে।
তিনটি আসন বিএনপির দখলে এলেও রাজনৈতিক যোদ্ধাদের মতে, জামায়াতের এ ফল ভবিষ্যতে আসন ভাগাভাগি কিংবা স্থানীয় রাজনীতিতে দরকষাকষির ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখবে। আওয়ামী লীগের ভোট কোন দিকে সরে গেছে এবং জামায়াতের ভোট বৃদ্ধির পেছনে কোন কোন ফ্যাক্টর কাজ করেছে, তা নিয়ে বিএনপির অভ্যন্তরে চলছে চুলছেরা বিশ্লেষণ।
ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের সংসদ সদস্য জাহিদুর রহমান নির্বাচিত হওয়ার পরেই আওয়ামীলীগের কিছু ভোটার ও সনাতন ধর্মালম্বীদের ধানের শীষে ভোট দেওয়ায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
ঠাকুরগাঁও-৩ (পীরগঞ্জ-রাণীশংকৈল) আসনেও লড়াই ছিল প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। যদিও শেষ পর্যন্ত বিএনপি প্রার্থী তুলনামূলক বড় ব্যবধান ধরে রাখতে সক্ষম হন। তবু ভোটের অঙ্ক বলছে প্রতিপক্ষের অবস্থান আগের চেয়ে শক্ত হয়েছে। এ আসনে ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপির প্রার্থী জাহিদুর রহমান পেয়েছেন ১ লাখ ৩২ হাজার ৭৯৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত প্রার্থী মো. মিজানুর রহমান দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৯১ হাজার ৯৩৪ ভোট। জয়ের ব্যবধান ৪০ হাজার ৮৬৩ ভোট। ভোটের আমেজ এখনো শেষ হয়নি আসনগওলোতে