হোম
নাগরিক ভাবনা

ঠাকুরগাঁও মুক্ত দিবস ও সরকারি দলের বোধোদয়, অ্যাডভোকেট আবু মহী উদ্দীন।

admin || মুক্ত কলম সংবাদ

প্রকাশিত: ৩ ডিসেম্বর, ২০২০ ১১:০৯ অপরাহ্ণ

ঠাকুরগাঁও মুক্ত দিবস ও সরকারি দলের বোধোদয়,আবু মহী উদ্দীন-এম কে নিউজ

ফাইল ছবি

প্রসংগ নাগরিক ভাবনাঃ ঠাকুরগাঁও মুক্ত দিবস ও সরকারি দলের বোধোদয়, অ্যাডভোকেট আবু মহী উদ্দীন প্রিয় মাতৃভুমি বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের বিজয় হয়েছিল ১৬ ডিসেম্বর ১৭৯৭১। ঠাকুরগাঁও এর বীর মুক্তিযোদ্ধারা তার আগে ৩ ডিসেম্বর ঠাকুরগাঁও জেলাকে পাকিস্তানি হানাদার মুক্ত করতে সক্ষম হয়। দিবসটি গৌরবের এবং গর্বের। দিনটি সাড়ম্বরে উদযাপন হবার কথা ৭২ সাল থেকেই। কিন্তু ঠাকুরগাঁয়ে তা হয়নি। শুরু হয়েছে স্বাধীনতার ৪০ বছর পর। তাও তারিখটি সুনির্দিষ্ট ছিলনা। তারিখটি সুস্পষ্ট করতে মুক্তিযুদ্ধের সংগঠকগণ , বীর মুক্তিযোদ্ধা , সুশীল সমাজ অবশেষে জাতীয় মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর পর্যন্ত যোগাযোগ করতে হয়েছিল । কাজটি করেছিল ঠাকুরগাঁয়ের উদীচী শিল্পী গোষ্ঠী। ২০১০ সালে ঠাকুরগাঁওয়ে উদীচী শিল্পী গোষ্ঠী পুনর্গঠিত হলে স্বাধীনতার ৪০ তম বছরে ২০১১ সালে প্রথমবারের মতো সাড়ম্বরে উদযাপন শুরু হয় ৩ ডিসেম্বর ঠাকুরগাঁও পাকিস্তান হানাদার মুক্ত দিবস। বিষয়টিতে ব্যপক সাড়া পরে। সর্বস্তরের মানুষ সাধুবাদ জানায় এবং স্বতঃস্ফুর্ত অংশগ্রহণ করে।

বিগত ১০ বছর উদীচী শিল্পী গোষ্ঠী দিবসটি উদযাপনের আয়োজন করে , মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সহ অন্যেরা অংশগ্রহণ করে। শুরু থেকে উদীচী বিশেষ শোভাযাত্রা সহকারে স্বাধীনতার স্মৃতিস্তম্ভ সমুহে বিশেষ মর্যাদায় শ্রদ্ধা নিবেদন, বর্ণাঢ্য মুক্তি শোভাযাত্রা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মাননা, নুতন প্রজন্মকে পরিচিত করার জন্য মুক্তিযুদ্ধের আলোচিত্র প্রদর্শন, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠকদের নিয়ে আলোচনাসভা, স্থানীয় সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোকে নিয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, নাটক, দেশ বিদেশের প্রথিতযশা শিল্পীদের নিয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান , আতশবাজি এবং প্রতিবছর ৭ থেকে ১০ টি করে সেলাই মেসিন অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে প্রদান করে পরিবারগুলোকে স্বাবলম্বী করে তোলার চেষ্টা করেছে। ১০ বছরে শতাধিক সেলাই মেসিন ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষদের কাছ থেকে সংগ্রহ করে বিতরণ করেছে। পুস্পাঞ্জলি অর্পন এবং মুক্তি শোভাযাত্রায় টাঙ্গন মুক্ত মহাদলের জাতীয় পতাকাবাহক , পুলিশের ব্যান্ড পার্টি , ফায়ার সার্ভিসের আউট রাইডার , কখনো ৩/৪ টি হাতি , কখনো ঘোড়ার গাড়ি , পিকআপ বহর অংশগ্রহণ করতো। মুক্তিযোদ্ধা সংসদ , নার্সিং ট্রেনিং ইনষ্টিটিউট , মিনাল কম্পিউটার একাডেমি , লাইফ লাইন পলিটেকনিক ইনষ্টিটিউট , সোসাল পলিটেকনিক ইনষ্টিটিউট , ঠাকুরগাঁও পলিটেকনিক এন্ড টেক্সটাইল ইনষ্টিটিউট, আনোয়ারা মনোয়ারা নার্সিং ইনষ্টিটিউট , প্রজন্ম লীগ ৭১ , বিজ্ঞান পাঠশালা , আর কে ষ্টেট উচ্চ বিদ্যালয় , ঠাকুরগাঁ পিটিআই , মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ড, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন , গেøাবাল পিস স্কুল এন্ড কলেজ , বৃটিশ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল , পুলিশ লাইনস হাই স্কুল , ওরিয়েন্টাল ম্যাটস , হাজীপাড়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় সহ আরো প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করে। দলীয়ভাবে অংশগ্রহণ না থাকলেও আওয়ামী লীগের নের্তৃবৃন্দ আতিথ্য গ্রহণ করেছেন এবং সহযোগিতা করেছেন।

স্বাধীনতার ৪০ বছর পর থেকে শুরু করে একটানা ১০ বছর উদীচী সর্বস্তরের মানুষকে সাথে নিয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা জাগ্রত করার দায়িত্ব পালন করেছে। এবারে ১১ তম আয়োজন। প্রতিবারই উদ্বোধক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন মহান মুক্তিযুদ্ধের সংগঠকগণ। বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধাগন পর্যায়ক্রমে অতিথি হিসাবে উপস্থিত থেকেছেন। আলোচনা সভায় বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে এসে প্রজন্মের সাথে তাদের বীরত্ব গাথার সাথে পরিচিত করে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সমুন্নত রাখার দায়িত্ব পালন করেছে উদীচী। সে জন্যইতো উদীচী মর্যাদাপূর্ণ একুশে পদকে ভুষিত হয়েছে । ঠাকুরগাওয়ে এবারে সরকারি দল ৩ ডিসেম্বর উদযাপন করার আলাদা কর্মসুচি গ্রহণ করেছে। আনন্দের বিষয় উদীচীর এই সকল কর্মসুচি স্বাধীনতার তথা মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে জাগ্রত করতে সহায়তা করেছে । তাদের বোধোদয় হয়েছে দিবসটি আনুষ্ঠানিকভাবে পালন করা দরকার। এটি আমাদেরকে উৎসাহিত করেছে। বর্তমান সময়ে জাতি একটি ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। মৌলবাদীরা মাথা চাড়া দিয়ে উঠছে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশে তাঁর ভাষ্কর্য ভেঙ্গে গুড়িয়ে বুড়িগঙ্গায় ফেলে দেওয়ার মতো ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্য রাখার সাহস করেছে। লক্ষন ভালো নয়। এই সময় সম্মিলিতভাবে ৩ ডিসেম্বর উদযাপন করাই ভালো ছিল। এই ইগোর সুফল ভোগ করতে স্বাধীনতা বিরোধীরা সচেষ্ট হবে।
উদীচী শুরু করেছিল সার্বজনীন উৎসব। দলীয় কোন বিষয় ছিলনা, এবারে সরকারি দল উদযাপনের দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। যদিও আয়োজক হিসাবে মুক্তিযোদ্ধা সংসদকে সামনে রাখা হয়েছে। উদীচীর আয়োজনে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ মুক্তিযোদ্ধাদের বড় একটি দল নিয়ে অংশগ্রহণ করতো। গত ৪ বছর উদীচীর সাথে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ যৌথভাবে আয়োজনের ঘোষনা এবং ব্যানারে , আমন্ত্রন পত্রে নাম থাকলেও মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানার্থে উদীচী তাদেরকে স্বাগত জানিয়েছে। মুক্তিযোদ্ধাদের অংশগ্রহণকেই গুরুত্ব দিয়েছে উদীচী। তবে এবারে সরকারি দল উদযাপনের মুল দায়িত্ব হঠাৎ করে কেন গ্রহণ করলো সেটা মুখ্য বিষয় নয় , মুখ্য বিষয় হলো সরকারি দল দিবসটি উদযাপনের সিদ্ধান্তই যখন নিয়েছে তখন সার্বজনীন ভাবে উদযাপনের কর্মসুচি নেওয়াই বেশী ভাল ছিল। তবুও একথা বলা যায় , দলের যারা মনে করেছে দিবসটি উদযাপন করা দরকার , তাতে ৩ ডিসেম্বর উদযাপনে নুতন মাত্রা যোগ করবে। বিলম্বে হলেও তাদের বোধোদয়কে সম্মান জানাই। তবে এই সার্বজনীন আয়োজনে আওয়ামী লীগের একটু একলা চলার চর্চার মনোভাব প্রকাশ পেলো।

এবারের আয়োজনে নেতৃত্ব দেওয়ার ইচ্ছা নিয়ে কোন মন্তব্য নাই তবে দীর্ঘ ১০ বছর যারা এই আয়োজনটা করে আসছে তাদেরকে সঙ্গে নিলেতো লাভ ছাড়া ক্ষতি হতোনা। বরং প্রোগ্রামটা আরো সমৃদ্ধ হতো। আমার মনে হয় কারো কোন ইগো সমস্যার জন্য বিষয়টি ঘটেছে এই বিষয়ে সন্দেহ জাগা অস্বাভাবিক নয়। সরকারি চাকুরী করেছি ঠাকুরগাঁও সহ বিভিন্ন জেলায়। সে সব জেলায় যারা বিএনপির রাজনীতির বিশ্লেষক , ধারক বাহক , বিভিন্ন দায়িত্বে ছিলেন , খালেদা জিয়া রাজনীতিতে কতটা পরিপক্ক , তারেক রহমান দেশ পরিচালনায় কতটা দক্ষতা অর্জন করেছে, এসব বিষয়ে সবক দিত। বিভিন্ন আয়োজনে জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সারগর্ভ বক্তব্য রাখতো। ১৫ আগষ্টে কেক কেটে বায়বীয় জন্মদিন পালন করতো, ৭ নভেম্বর উদযাপনে যাদের ঘর্মাক্ত হতে দেখেছি , বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্যদের চরিত্র হননে যারা নিরলস প্রচেষ্টাকে প্রাতিষ্ঠানিক রুপ দিয়েছিল , আজকে দেখি তারা বঙ্গবন্ধুর প্রথম সারির সৈনিক । তাদের ভীড়ে বঙ্গবন্ধুর লোকেরা কোনঠাসা হয়ে যাচ্ছে। তারাই দল পরিচালনা করছে। তারা দলে ঢুকে বিভিন্নভাবে ফুলে ফেপে উঠেছে। এসব দেখে আতংকিত বোধ করছি এই ভেবে যে ‘৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের পর বোঝা গিয়েছিল , বাকশালে যোগ দেওয়ার জন্য যারা ভীড় করেছে তারা অধিকাংশই ছিল বসন্তের কোকিল। ৭৫ এর পট পরিবর্তনের পর তারা জাতিকে বুঝিয়েছে ‘বঙ্গবন্ধু কি কি ভুল করেছেন , তার পরিবারের সদস্যরা কি রকম লুটপাটে জড়িত ছিল’। এমন হতে পারে কেউ কি জাতে ওঠার জন্য এসব করছে কিনা অথবা মহৎ একটি আয়োজনকে কি কৌশলে খন্ডিত করার অপচেষ্টাও হতে পারে এটি একটি ভাবনার বিষয়। বুঝতে হবে খন্ডিত মানেই দুর্বল। এই আয়োজনটি যাতে দুর্বল না হয় , যারা যে কারণেই করুক বিষয়টি যেন সাসটেইন করে।

বসন্তের কোকিলদের বিষয় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী গভীরভাবে অনুধাবন করেছেন । শুরু করেছেন দলের মধ্যে শুদ্ধি অভিযান। আগছামুক্ত করার কাজ শুরু করেছেন। এক সময় যাদেরকে মনে হতো এরা ছাড়া আওয়ামী লীগ চলবেনা , মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অবলিলা ক্রমে আগাছার শিকড় সহ উপড়ে ফেলার সংগ্রামে রত। আমরা আশা করি তিনি সফল হবেন। তাঁর সফলতা খুবই প্রয়োজন। বাঙ্গালি জাতির প্রত্যাশা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন পুরণে শেখ হাসিনাকে পরাজিত হতে দিতে পারিনা।যখন যে দল সরকার পরিচালনায় থাকে , তখন সুবিধাবাদীরা দলের সামনে ভীড় জমায়। তারা আসে তাদের স্বার্থ উদ্ধারের জন্য। অনেকের দাগযুক্ত অতীতকে মুছে ফেলার জন্য , সুবিধা নেওয়ার জন্য , স্বার্থ উদ্ধারের জন্য দলে ভীড়ে যায় এবং ভিন্নপথ অবলম্বন শুরু করেছে। অর্থ বিত্তে তারা ফুলে ফেপে ওঠে। বিশেষ বিশেষ দিবসে বড় বড় ব্যনার , একঝাঁক (?) অনুসারী , বুকে ব্যাজ লাগিয়ে , মুজিব কোট গায়ে চড়িয়ে, শহীদ মিনারে বা স্মৃতিস্তম্ভে সরব উপস্থিতি দিয়ে নজরে আসার চেষ্টা করেন।

কেউ কেউ আবার সেনসেটিভ ইসুতে শো ডাউন করে নজরে আসার প্রানান্ত চেষ্টা করেন। অনেকের প্রশ্নবিদ্ধ অতীত আছে। সেই অতীতকে মুছে ফেলার জন্য তারা সচেষ্ট থাকবে এটা স্বাভাবিক। তবে দল কতটা সহ্য করবে সেটাই বিবেচ্য। তাতে সব সময় শেষ রক্ষা হবে বলে মনে করার কোন কারন নাই। কারণ বঙ্গবন্ধু কন্যা আওয়ামী লীগের কান্ডারী , জাতির ভরসা স্থল । আগাছা দমনে গোটা জাতি তার সাথে রয়েছে। সাধারণ কর্মীরা দারুন খুশী হলেও তাদেরও আশ্কংা রয়েছে শেষ পর্যন্ত আগাছাগুলো উপড়ে ফেলা যাবেতো ?

প্রশ্ন করি এতদিন কোথায় ছিলেন ? এর আগে এই দিবসটি উদযাপনের অসহযোগিতা তো করেননি, তাহলে কি সমস্যার সৃষ্টি হলো ঠাকুরগাঁয় মুক্তিযোদ্ধাদের অর্জনের এই দিনটি উদযাপনের সার্বজনীন আয়োজনকে খন্ড খন্ড করে ফেলার দায় কাঁেধ তুলে নিলেন। এই প্রশ্ন কোন এক সময় দেখা দিতেও পারে। সার্বজনীন ৩ ডিসেম্বরের সার্বজনীনতা ক্ষতিগ্রস্থ করে শো ডাউনের জন্য দলের কেউ যদি আগ্রহী হয়েও থাকে বিষয়টি গভীরভারে চিন্তা ভাবনা করা দলীয় উর্ধতন কর্মকর্তাদের বিবেচনায় আনা প্রয়োজন ছিল। নিজেদের অতীত উজ্জল করার জন্য কেউ যদি তা করেই থাকেন, এমনতো হতো পারে জাতির এই দুঃসময়ে সার্বজনীন আয়োজনের বিভক্তি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সহজ ভাবে নাও নিতে পারেন। তার কাছে থাকা তালিকাতো মুছে যাবেনা।
হেফাজতীরা যখন স্বাধীনতা , সংবিধানে হাত দিয়েছে , বাঙ্গলী জাতির পিতার ভাষ্কর্য ভেঙ্গে গুড়িয়ে বুড়িগঙ্গায় ফেলে দেওয়ার আস্পর্ধা দেখায় তখন উদীচী শিল্পী গোষ্ঠী , একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি সারা দেশে একযোগে সোচ্চার। সরকার দলীয় কর্মসুচিতো তেমন দেখিনা। অথচ সার্বজনীন গৌরবের বিষয়টি নিয়ে তাদের মাথা ব্যাথা বিভিন্ন প্রশ্নের উদ্রেক করে।
যখন হেফাজতীদের ঠেকানোর জন্য এসব সংগঠনের সহযোগিতা প্রয়োজন হবে, সে সময় এই অনুষ্ঠানকে খন্ডিত করে ঐক্যবদ্ধ ঠাকুরগাঁও বাসীকে বিভক্ত করার মাসুল দিতে হতেও পারে। দলীয় নেতারা বিষয়টি ভেবে দেখবেন আশা করি।

চট্রগ্রামের ছাত্রলীগ যুবলীগকে ধন্যবাদ জানাই তারা দারুন প্রতিবাদ মুখর হয়েছেন। তারা তাদের দায়িত্ব পালন করেছেন , তারা মুমিনুল হককে ওয়াজ করার সুযোগ দেয়নি। তবে বিষয়টি শেষ হয়ে যায়নি। হেফাজতীদের আবদার রক্ষায় অনেক কাজ করা হয়েছে যা আমাদের সংবিধান অনুমোদন করেনা। আশকারা দেওয়া বন্ধ করতে হবে। এ জন্য গোটা জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করার কোন বিকল্প নাই। ঘাষ লাগানো, খিচুরী রান্না, পুকুর কাটা, পাসপোর্ট ভিসা দেওয়ার প্রশিক্ষণ নেওয়ার জন্য বিদেশ ভ্রমনের উদ্ভট প্রস্তাব যারা তৈরি করেন এদের শাস্তির আওতায় আনা দরকার। মুল্যায়ন করা দরকার এ পর্যন্ত বিভিন্ন উদ্ভট উদ্ভট প্রশিক্ষনে যে সব কর্মকর্তারা দিদেশে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন তারা জাতিকে কি দিয়েছেন এটা জানার অধিকার দেশবাসীর আছে। সাধারণ মানুষের ট্যাক্সের টাকায় যথেচ্ছ অপব্যহার দেখার জন্য অপেক্ষা করা যায়না।

একটা উদাহরণ দিই। ক্রীড়া পরিদপ্তরের অধীন জেলা ক্রীড়া অফিসার হিসাবে চাকুরী করেছি। আনন্দ চন্দ্র নামে একজন পরিচালক আসলেন। ২০১২ সালের লন্ডন অলিম্পিক উপলক্ষে যুক্তরাজ্য সরকার ব্রিটিশ কাউন্সিল ‘ইন্সপিরেশন’ প্রোগ্রামের আওতায় পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে ক্রীড়া সংশ্ষ্টি ব্যক্তিদের তাদের দেশের ক্রীড়া ব্যবস্থাপনা দেখানোর জন্য কর্মসুচির আয়োজন করেছিল। তো পরিচালক সাহেব খুবই তৎপর হলেন। এবং তিনি নিজেই লন্ডন ঘুরে আসলেন। আমরা পরিদপ্তরের কর্মকর্তারা আশান্বিত হলাম , এবারে দেশের ক্রীড়াঙ্গনের এটতা ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। লন্ডন যাওয়া ্আসা এবং পরবর্তীকালে একটি এনজিওর একজন মহিলা এতো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠলো যে সেই এনজিও কর্মীই সব নিয়ন্ত্রন করতো। সব ব্যপারেই তার মতামত প্রাধান্য পেতো। এই প্রোগ্রামের আওতায় চট্রগ্রামে একটা প্রোগ্রাম হলো। পাইলটিং হিসাবে মানিকগঞ্জে একটা প্রোগ্রাম হলো। মনে হয় আমরা পাশ করেতে পারলামনা। ফলে এই সম্ভাবনার এখানেই ইতি টানলো বৃটিশ কাউন্সিল। আনন্দবাবুও বদলী হয়ে গেলেন নৌপরিবহন মন্ত্রনালয়ে। যাবার সময় ট্রেনিং সাথে করে নিয়ে গেলেন। পরে নিশ্চয় তিনি আরো কোন বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করার জন্য অনেকবারই হয়তো বিদেশে গেছেন। আবার বদলী হয়েছেন। এখানে ছোট একটা কাজ করতে হবে তা হলো যিনি যে বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিয়ে আসবেন তিনি শেষ পর্যন্ত দেশের সেই দায়িত্বই পালন করবেন। তাহলেই ট্রেনিং কাজে আসবে জাতিও ফল পাবে।

এই সব আমলাদের অপ্রয়োজনীয় ট্রেনিংয়ের নামে সরকারি অর্থের অপচয় না করে দেশের অর্ধশিক্ষিত আলেমদের পৃথিবীর মুসলিম দেশসুহে ভ্রমন করে আনা হোক এবং ঐসব দেশ থেকে ডকুুমেন্টারী তৈরি করে টিভি চ্যানেল সমুহে প্রচার করা হোক। পৃথিবীর মুসলিম দেশসমুহে ভাষ্কর্য দেখার জন্য আলেমদের জন্য ভ্রমন খাতে কিছু বরাদ্দ রাখা যেতে পারে। পাকিস্তানের শিয়ালকোটে আল্লামা ইকবাল, ইরানের তেহরানে শেখ সাদী , পার্শিয়ান কবি ফেরদৌসি , আল্লামা ইকবাল, তুরস্কে কামাল আতাতুর্ক, তিউনিসিয়ায় ইবনে খালদুন , মিসরের মসজিদের প্রধান ফটকে ইজিপশিয়ান বীরের ভাষ্কর্য , ইরানে শামস তাবরিজি , তুরস্কে জালাল উদ্দীন রুমী, কামাল আতাতুর্ক, এ ছাড়া আফগানিস্তান, সিরিয়া ইন্দোনেশিয়াতে ভাষ্কর্য রয়েছে। সেখানে তো কোন সমস্যা হয়নি।

মতামত জানান :

Sun Mon Tue Wed Thu Fri Sat
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031  

সর্বশেষ খবর

দিনাজপুরে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য, কাচারী চত্বরে হাতাহাতি আহত ৭জন।
অপরাধ 56 minutes আগে

অদৃশ্য ক্ষমতায় ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা
রংপুর 7 hours আগে

পঞ্চগড়ের বোদায় ভর্তুকি মূল্যে পণ্য বিক্রয় স্টোল পরিদর্শন করেন পানি
রংপুর 8 hours আগে

শীর্ষ সন্ত্রাসী-চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে শীঘ্রই ব্যবস্থা নেয়া হবে-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
জাতীয় 23 hours আগে

সুনামগঞ্জে পরিকল্পিত অগ্নিসংযোগ,বাইরে থেকে তালা মেরে বসত ঘরে আগুন, প্রাণনাশের
অপরাধ 1 day আগে

পদোন্নতির দাবিতে উত্তাল দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ড।
রংপুর 1 day আগে

দিনাজপুর জিয়া হার্ট ফাউন্ডেশন পরিদর্শনে সমাজ কল্যাণ মন্ত্রী ডাঃ এজেড
রংপুর 1 day আগে

ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক ইশরাত জাহান সেচ্ছায় বদলি নিলেল।
রংপুর 2 days আগে

চিরিরবন্দরে বাসের ধাঁক্কায় আরএফএল কোম্পানির এস আর রাকিব নিহত।
দুর্ঘটনা 2 days আগে

অন্ধকার নামতেই পঞ্চগড় কেন্দ্রীয় কবর স্থানে শুরু হয়, লুটপাট, জুয়া
অপরাধ 2 days আগে

পাঠকপ্রিয়

শিরোনাম :

কুড়িগ্রামে ঐতিহাসিক আসনে কঠিন চ্যালেঞ্জে জাপা,মাঠ গরম এনসিপি-বিএনপির। হাদীর ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনায় দিনাজপুর সীমান্ত ৪২ বিজিবির রেড অ্যালার্ট জারি। রোহিঙ্গা মেয়েরা পাচার ছাড়াও বিদেশীদের দ্বারা যৌন কাজে ব্যবহারের টার্গেট হয়ে উঠছে ঠাকুরগাঁওয়ে নানা কর্মসূচিতে হানাদার মুক্ত দিবস উদযাপিত। ঠাকুরগাঁও জেলায় অনুষ্ঠিত হয়েছে ৪র্থ জেলা রোভার মুট-২০২৫। কুড়িগ্রামের রাজারহাটে প্রাণিসম্পদ সপ্তাহের প্রদর্শনী ও সমাপনী অনুষ্ঠিত। পার্বতীপুরে জাতীয় প্রাণি সম্পদ ও ডেইরি প্রকল্পের উদ্বোধন। রাণীশংকৈলে জাতীয় প্রাণীসম্পদ সপ্তাহ ও প্রাণিসম্পদ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত পলাতক শেখ হাসিনার অগ্রণী ব্যাংকের লকার ভেঙে ৮৩২ ভরি স্বর্ণ জব্দ রাজশাহীতে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে আহত ১০ জন ৩ ডিসেম্বর রংপুরে বিভাগীয় মহাসমাবেশ সফল করতে দিনাজপুরে ৮ ইসলামী দলের সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত। দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিতে সব বাহিনী প্রস্তুত: সিইসি পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ৬ হাজার কৃষক পাচ্ছে বিনামূল্যে গম বীজ ও সার। মাত্র চার মাসের শিশু সুমাইয়া বাঁচতে চায়! পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় হেফাজতে ইসলামের নতুন কমিটি গঠন। ভূমিকম্পে সম্ভাব্য ক্ষতি কমাতে এখনই শক্তিশালী ও সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে: সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান রাজধানীতে  আজ থেকে ঘরে বসেই মেট্রোরেলের কার্ড রিচার্জ করবেন? নীলফামারীতে পাটবীজ উৎপাদনকারী চাষীদের প্রশিক্ষণ। আর কোনো পরিস্থিতি নেই যে নির্বাচন ব্যাহত হবে-ঠাকুরগাঁওয়ে মির্জা ফখরুল  ৫-বছরেও শেষ হয়নি ওয়াশব্লকের নির্মাণ কাজ-জনস্বাস্থ্য অফিস বলছেন বাদ দেন চা খাওয়ার জন্য কিছু নেন। পার্বতীপুরে শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকারের দাবীতে কর্মী সভা। পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় নদী বাঁচাও আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নাগরিক সমাবেশ। পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া ইউএনও এক গৃহহীন ভারসাম্যহীন নারীর পাশে দাঁড়ালো। ৮ দফা দাবিতে প্রধান উপদেষ্টা বরাবর নার্সিং এসোসিয়েশন দিনাজপুর জেলা শাখার স্মারকলিপি ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুরে ইউনিয়ন সিএসওর লাইভস্টক সংলাপ সভা অনুষ্ঠিত বগুড়ায় প্রেম করে বিয়ে অতপর ভাড়া বাসায় স্ত্রীকে হত্যা করল স্বামী। দিনাজপুরে ৩ দিনব্যাপী উদ্যোক্তা মেলা ও পিঠা উৎসবের সমাপনী। দিনাজপুরের বিরলে শতাধিক নেতা-কর্মীর মামলা থেকে বাঁচতে ফ্যাসিস্ট আ,লীগ থেকে পদত্যাগ! অভিযোগ দিয়ে ও কাজ বন্ধ হচ্ছে না আদমদিঘীতে সরকারি জায়গা দখল করে করা হচ্ছে অবকাঠামো নির্মাণ! বগুড়ার কইপাড়ায় নববধূ শম্পা হত্যার অভিযোগ, যৌতুক দাবির জেরে স্বামী আটক