admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ২১ জানুয়ারি, ২০২২ ৯:৫৮ পূর্বাহ্ণ
কুঞ্জ পাল, জেলা প্রতিনিধিঃ ঠাকুরগাঁও জেলায় ইট ভাটা গুলোতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা অত্যন্ত জরুরী হয়ে পড়েছে। যানাজায় ঠাকুরগাঁও জেলায় প্রায় ১২৮ টির মত ইটভাটা আছে যাদের একটরও পরিবেশের ছাড়পত্র নেই অবৈধ ভাবে পরিচালনা করে আসছে। ইট ভাটা গুলোতে কয়লার পরিবর্তে বে-আইনী ভাবে কাঠ পুড়ানো হচ্ছে। অনুমোদন নেই অসংখ্য ইট ভাটার রেজিষ্ট্রেশন বিহীন ট্রক্টর চালকদের নেই ড্রাইভিং লাইসেন্স তাই এলোপাথারি ভাবে চালাচ্ছে গাড়িগুলো এতে প্রতিনিয়ত প্রণহানীর ঘটনা ঘটছে। এদের আইনের আওতায় আনা জরুরী হয়ে পড়েছে।

ইট ভাটাগুলোতে কয়লার পরিবর্তে পোড়ানো হচ্ছে পরিবেশ বান্ধব গাছ।
অভিযোগ পরিবেশ আইন লংঘন, করে দে-ধারসে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষাকারী গাছ কেটে পোড়ানো হচ্ছে, এমনকি ইটের সাইজ ও আকারে ছোট করে গ্রাহকদের প্রতারিত করছে, লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে প্রশাসন নীরব কেন? ঠাকুরগাঁও জেলায় ইটভাটা গুলেতে অবৈধ ভাবে মাটির উপরিভাগ যাকে আমরা টপ সয়েল বলি তা কেটে ধ্বংস করছে আবাদি জমি। ৩ নং আক্চা ইউনিয়নের অনেক অভিযোগ করে জানিয়েছে যে ভাটার কারণে ধানী ফসলে জমির মাটি গুলো কেটে নিয়ে যাওয়ার কারণে দিন দিন আবাদী জমিগুলো নষ্ট হয়ে হচ্ছে আর এতে ফসল হচ্ছে না ইট ভাটা আশে পাশে এলাকায় বাসী জানিয়েছে প্রতিনিয়ত ভাটার ছাই দিয়ে তাঁদের বাড়ি-ঘড় গাছ-পালা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ইট বানানোর কারণে আবাদী ফসল কমে যাচ্ছে আগের জমিতে কৃষকেরা ফসল তুলতো এক বিগায় প্রায় ৫০ মন সেই জমিতে ইট ভাটা গুলো উর্বর মাটি কেটে নিয়ে যাওয়া পর কৃষকেরা ফসল তুলছে ১৮ থেকে ২০ মন আর এতে করে কৃষকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। উৎপাদন কমে যাওয়ায় চালের দাম বেড়ে যাচ্ছি আর এতে নিম্ন আয়য়ের শ্রমিকরা ৩০ টাকা কেজি না কিনে কিনতে হচ্ছে ৫০ টাকা কেজি দরে আর এতে করে গরিব মানুষ গুলো অসহায় পড়তেছে।
পরিবেশ সংরক্ষণ আইন-১৯৯৫, পরিবেশ বিধিমালা-১৯৯৭, ইট পোড়ানো (নিয়ন্ত্রণ) আইন-২০০১ এবং শব্দ দুষণ বিধিমালা-২০০৬ অগ্রাহ্য করে নতুন একাধিক ইট ভাটা নির্মাণের কাজ চলছে মহাসমারোহে। অনাবাদি ২ একর জমি ব্যবহারের নিয়ম থাকলেও প্রতিটি ইট ভাটা নির্মাণে ১০একরের অধিক দো-ফসলী আবাদি কৃষি জমি ব্যবহার করা হচ্ছে। বিধিমালা অনুযায়ী ভাটার ১ কি: মি: এর মধ্যে আবাসিক বাড়ী, হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, এলজিইডি’র পাকা রাস্তা থাকা চলবে না।
ভবিষ্যতে কৃষি বিভাগ কর্তৃক ইট ভাটার জন্য নির্ধারিত স্থানটি কৃষি জমি হিসেবে দাবী করলে এবং এ অফিস কর্তৃক ইট ভাটা বন্ধ করার নির্দেশ প্রদান করা হলে উদ্যোক্তা ইট ভাটা বন্ধ করতে বাধ্য থাকবে এবং কোন প্রকার ক্ষতিপূরণ দাবী করতে পারবে না।
বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা স্থানীয় কৃষি অফিস দাবী তো দুরের কথা তাদের চোখের সামনে একের পর এক গড়ে উঠা প্রতিটি ভাটা নির্মাণে ১০ একরের বেশী কৃষি জমি ব্যবহার করছে ভাটা মালিকরা। ইট ভাটার জন্য যে স্থান হতে মাটি কাটা হবে ওই স্থানে পাড় বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ পুকুরে পরিণত করতে হবে যাতে সেখানে মৎস্য চাষ করা যায় এবং যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে মজা পুকুর, খাল, দিঘী, নদ-নদী, হাওড়-বাওড়, চরাঞ্চল বা তৎসমতুল্য জায়গা থেকে ইট তৈরীর মাটি সংগ্রহ করার কথা থাকলেও তা যেন শুধু কাগজে কলমে সীমাবদ্ধ। এ ভাটা গুলো এ সব নিয়মের প্রতি বুড়ো আঙ্গুল দেখালেও কর্তৃপক্ষ অজানা কারণে নিশ্চুপ।
আরো অনেক অভিযোগ আশেপাশে এলাকায় বাসীদের যেমন ইট ভাটার পরিবেশে কারণে কোনো ধরনে ফুল ফল ও ফসল ঠিকমত করতে পারতেছে না আশে পাশের ফলের বাগানে মালিক গুলা বলতেছে এই ইট ভাটার জন্য অনেক ফল জ্বলে যাচ্ছে তাদের ফল আগের মত আর হচ্ছে না। ইটভাটার মালিকেরা প্রায় ৭ থেকে ৮ ফিটের মত মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে। আর এতে করে অনেকে মনে করছেন বাংলাদেশের জেলাগুলো সমুদ্রপৃষ্ট নীচের দিকে ডেবে যাচ্ছে। যার ফলে সামান্য বর্ষায় দেশ তলিয়া যাচ্ছে। মাটি কেটে খাল বন্ধ করা জরুরী হয়েছে এবং এই মাটি কাটা বন্ধের দাবী এলাকা বাসির।
ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসন দেখেনা, না দেখার ভান করছে কি কারণে তা বোধগম্যনা। ঠাকুরগাঁও জেলায় ইট ভাটা রয়েছে প্রায় ১২৮ টির মত আর এই ইট ভাটা গুলো সরকারি ভাবে একটি’রও বৈধতা নাই সব ইট ভাটা গুলো অবৈধভাবে চালাচ্ছে। জেলা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্শন করা হলেও এই সকল ইট ভাটা মালিকদের বিরুদ্ধে কোন প্রকার আইনি ব্যবস্থা কিংবা মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে কোন প্রকার অভিযান চালায়নি, তাই তাঁরা আইনকে বিদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে পরিবেশের ক্ষতি করে যাচ্ছে। এই সকল ইটভাটায় মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে অভিযান চালিয়ে জরিমানা করা হলে সরকারের কোষাগারে মোটা অংকের অর্থজমা পড়তো।
অত্র ঠাকুরগাঁও জেলার সাধারণ সচেতন মানুষেরা মনে করছেন যে ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসন এই সব ইট ভাটা মালিকের কাছে বিক্রি হয়ে গেছেন। তাই কোন প্রকার ব্যবস্থা না গ্রহণ করে চুপকরে দেখে না দেখার ভান করে আছেন। অথচ সারা দেশে বিভিন্ন ইট ভাটায় মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে অভিযান চালিয়ে জরিমানা করে সরকারের কোষাগারে মোটা অংকের অর্থজমা করছে।
অথচ গত সপ্তাহে ঢাকা সাভারের নামাগেন্ডা এলাকার কর্ণফুলী ব্রিক্সকে ৫ লাখ, একলাছ ব্রিক্সকে ২০ লাখ, মধুমতি ব্রিক্সকে ৫ লাখ, ফিরোজ ব্রিক্সকে ৬ লাখ এবং বিরুলিয়ার শাদুল্লাপুর এলাকার মাহিন ব্রিক্সকে ২০ লাখ ও রিপন ব্রিক্সকে ৬ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
এসময় অভিযানে পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক জহিরুল ইসলাম তালুকদার, সহকারী পরিচালক মোসাব্বের হোসেন মোহাম্মদ রাজীব, সহকারী পরিচালক হায়াত মাহমুদ রকিব, হিসাব রক্ষক উজ্জল বড়ুয়াসহ স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তাহলে ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসনের সমস্যা কোথায় জানতে হবে।