admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ১৫ জানুয়ারি, ২০২৩ ৭:৫০ অপরাহ্ণ
মুক্ত কলম অনুসন্ধানী প্রতিবেদনঃ ঠাকুরগাঁও উপজেলা সমাজ সেবা অধিদপ্তরের অফিসার মোঃ শরিফুল ইসলাম ও তাঁর স্ত্রী মোছাঃ আয়শা সিদ্দীকা মাত্র ৭ বছরে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ দুর্ণীতির ও অনিয়ম করে ঠাকুরগাঁও উপজেলা সমাজ সেবা অফিসার নামে বে-নামে সম্পদের পাহাড় গড়েছে। অত্র জেলার শহরের প্রাণ কেন্দ্র হাজিপাড়া সরকারি মহিলা কলেজ সংলগ্ন গত ১৯/১০/২০২১ তারিখে দলিল নং- ৯০৮৬ ও ৯০৮৭ দলিল ক্রয় করে এবং ১৬/১১/২০২১ তারিখে আরও একটি দলিল হয় যার জমির পরিমান ২.৫ শতাংশ দলিল নং- ১০০১৫ একি দিনে দলিল ও একি দিনে এফিডেভিট মনগড়া ভাবে পজিশন অঙ্গিকার নামা বে-আইনি ভাবে লেখে নেয় এই অভিযোগ করেন জমির মালিক মনোয়ার হোসেন মিঠু। ১৭৯১ দাগে ১০ শতক জমির মধ্যে ৬ শতক জমি মোছাঃ আয়শা সিদ্দীকা,স্বামীঃ মোঃ শরিফুল ইসলাম,সাং- জগন্নাথপুর দক্ষিণ, ডাকঘরঃ দৌলতপুর, থানা ও জেলাঃ ঠাকুরগাঁও। নামে ১৭৯১ দাগে জমি খরিদ করে যার সে সময় মূল্য প্রতি শতক ১৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা ধার্য্য হলেও সরকারের কর ফাকি দেওয়ার জন্য ৩ দলিলে ৫৯ লাখ টাকা দেখানো হয়। ১ম পক্ষ মোঃ মনোয়ার হোসেন, মোঃ শামসুজোহা, মোঃ গোলাম কবীর ও তাঁর ভাইবোনদের নিকট হতে ক্রয় করে।
ও আর একটি দলিল যা তাঁর শ্যালকের নামে মোঃ মাহামুদুল হাসান, পিতাঃ মোঃ আবু বক্কর ছিদ্দিক, মাতাঃ মৃতঃ আনোয়ারা বেগম, সাং- মুজাবর্নী,ডাকঘরঃ খলিশাকুড়ি, থানা ও জেলাঃ ঠাকুরগাঁও ৩.৫ শতাংশ কিনেছে দলিল নং- ৯০৮৬ ও ৯০৮৭ জমির পরিমান ৩.৫ শতক সব মিলে জমির মূল্য দাঁড়ায় ৮১,০০,০০০/=( একাশি লাখ টাকা) যার বর্তমান বাজার মূল্য = ১,৭৫,০০০০০/= ( এক কোটি পঁচাত্তর লাখ টাকা ) এই টাকার উৎস শরিফুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান তাঁর শ্বশুর অবসরের পেনশনের টাকা দিয়েছেন,যা সন্তোষ জনক উত্তর না জানাযায় তাঁর শ্বশুর বে-সরকারি স্কুলের শিক্ষক ছিলেন এত টাকা পেনশন বে-সরকারী প্রতিষ্ঠানে পাওয়া যায় তা বিশ্বাস যোগ্য না হওয়ায় মুক্ত কলম অনুসন্ধানী দল তাঁর পিছনের ইতিহাস খুঁজতে থাকে তাঁতে উঠে আসে তাঁর নিজের পিতা নজীর উদ্দিন (তাংকু বুড়া) ঠাকুরগাঁও শহরের কালীবাজারে তামাক পাতা বিক্রি করতেন ভাই বোন ৫ জন পারিবারিক অবস্থা ভালো ছিলো না অথচ এই কয়েক বছরে কোটি টাকার সম্পদ গড়লেন কীভাবে ? এই জমি ছাড়াও তাঁর শ্বশুর বাড়ি এলাকায় ও তাঁর সম্পদ আছে।
তাঁর শ্যালকের নাম দরিদ্র তালিকায় দেখিয়ে ঠাকুরগাঁও দেবীপুর ইউনিয়ন মুজাবর্ণী,সরকার পাড়ায় ১২ সদস্য বিশিষ্ঠ দল গঠন করে সমাজ সেবা অফিসার শরিফুল ইসলামের শ্বশুড় বাড়ির আত্মীয় ও তাঁর শ্যালককে নিয়ে মনগড়া পারিবারিক দল গঠন করে গত ২১ ডিসেম্বর ২০২১ খ্রীঃ মোট ৩ লাখ টাকা সুদমুক্ত ক্ষুদ্র ঋণ প্রদান করা হয় কিন্তু সরকার পাড়ায় এই ১২ সদস্যের নাম ও ঠিকানার কয়েক জন বাদে গত ২৫ অক্টোবর মুক্ত কলম অনুসন্ধানী দল অত্র এলাকায় বাকিদের অস্তিত্ব পায়নি। এবং ঋণ আদায় ও শূণ্য ছিলো। সংবাদ প্রকাশ হওয়ার পর নিজেকে বাঁচাতে তড়িঘড়ি করে সরকারের কোষাগারে টাকা জমা দিয়েছে বলে ঠাকুরগাঁও সমাজ সেবা ডেপুটি ডিরেক্টর বিষয়টি জানান। এই ঋণ আদায় সীট ও ব্যাংক স্টেট্ম্যান্ট মিলিয়ে দেখলেই মুল রহস্য বেরিয়ে আসবে।
গত ২৫ অক্টোবর মুক্ত কলম অনুসন্ধানী টীম মাঠ পর্যায় থেকে এই তর্থ্য সংগ্রহ করে। মজার বিষয় হচ্ছে এই জমি ক্রয় ও ঋণ বিতরণের তারিখের অনেক মিল রয়েছে, ১৪ নভেম্বর ২০২১ খ্রিঃ জমি ক্রয় করেছে আর তাঁর শ্যালককে ঋণ প্রদান করেছে গত ২১ ডিসেম্বর ২০২১ খ্রীঃ তাঁর শ্বশুর বাড়ির অবস্থা যদি এতই ভালো হয় তাহলে দরিদ্রের ঋণের টাকা তাঁর শ্যালক দেওয়া হলো কীভাবে এবং কেন ? এবং তাঁর শ্যালক জমি কেনার এত টাকা পেল কোথা থেকে? সমীকরণ মিলাতে গেলে সরকারের প্রদেয় সকল অনুদান, সাহায্য, প্রণোদনা, মাঠ পর্যায় যাচাই বাছাই করলেই বেরিয়ে আসবে। আরও একটি অনুসন্ধনে জানাযায় ঠাকুরগাঁও উপজেলা সমাজ সেবা অধিদপ্তরের অফিসার মোঃ শরিফুল ইসলাম ও তাঁর স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা তিনিও অত্র অফিসের একজন মাঠকর্মী জগন্নাথপুর নিজ বাড়ির এলাকায় স্বপন ইউপি মেম্বারের কাছ থেকে ৩৫ শতক জমি ক্রয় করে যার প্রতি শতক জমির মূল্য দেখানো হয়েছে ১ লাখ টাকা মোট মূল্য ৩৫ লাখ টাকা এই টাকার উৎস কী ? এভাবে সে আরও অনেক সম্পদের মালিক বনে গেছে।
নিজ জেলায় ৭ বছর ধরে চাকুরী করে আসছে যার ফলে মোঃ শরিফুল ইসলাম ও তাঁর স্ত্রী মাত্র ৭ বছরে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বনেগেছে। তাঁর বিরুদ্ধে বয়স্ক ভাতার প্রদানে নিজেদের মোবাইল নাম্বার ব্যবহার করে টাকা উত্তলণ, করোনা কালীন অর্থ লোপাট, গরু বিতরণ, ত্রাণ বিতরণের জন্য ব্যাগ ক্রয়সহ নানাবিধ দুর্ণীতির ও অনিয়ম অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে। মনোয়ার হোসেন মিঠুকে জমির দখল নিতে স্থানীয় মাস্তান ও পুলিশ প্রশাসনকে ব্যবহার করছে শরিফুল এমনটি অভিযোগ করেছেন জমির মালিকের এক অংশ। দেশের কিছু দুর্নীতিপরায়ন কর্মকর্তার ছত্র-ছায়ায় এই সব দুর্ণীতিবাজ কর্মকর্তারা বেঁচে যায়। এতে করে সরকারের সহায়তা থেকে হতদরিদ্র মানুষেরা সুবিধা বঞ্চিত হচ্ছে। আর কত? তাঁরা জানে যতই অপরাধ করুক কিছুই হবেনা তাঁদের বাঁচাতে দুর্নীতিপরায়ন কর্মকর্তা ও নেতারা বসে আছে। এ কারণে এদের সাহস দিনে দিনে বেড়েই চলেছে ৩০ লক্ষ মানুষ জীবন দিয়ে এদেশ স্বাধীন করেছিলো কী গরীবের হোক মেরে খাওয়ার জন্য? আজ যাচ্ছি কিন্তু আবার ফিরে আসবো এই সব অপরাধীদের মুখোশ উন্মোচন করতে, সত্যের সন্ধানে আমরা অঙ্গিকার বদ্ধ।