admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ ১০:৪৬ অপরাহ্ণ
মুক্ত কলম নিউজ ডেস্কঃ ঠাকুরগাঁওয়ে আগুনে পুড়ে আবু রায়হানসহ ৪ জন মৃত্যুর ঘটনায় মামলার আসামীরা হলেনঃ- ঠাকুরগাও-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য রমেশ চন্দ্র সেন ও ঠাকুরগাঁও-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম সুজন, জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক দীপক কুমার রায়, জেলা যুবলীগের সভাপতি আব্দুল মজিদ আপেল, সাধারণ সম্পাদক দেবাশীষ দত্ত সমীর, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এ্যাড. অরুনাংশু দত্ত টিটোসহ ৯১ জনের নাম উল্লেখ করে ১৫০-২০০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামী করা হয়।
ঠাকুরগাঁও জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি জয়নাল আবেদীন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সোমবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নিহত আবু রায়হানের পিতা ফজলে আলম ওরফে রাসেদ (৫৩) বাদী হয়ে ঠাকুরগাঁওয়ের বিজ্ঞ চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতে এই মামলাটি দায়ের করেন। আদালতের বিজ্ঞ বিচারক নিত্যানন্দ সরকার মামলাটি ঠাকুরগাঁও সদর থানাকে এজাহারভুক্ত করার জন্য নির্দেশ প্রদান করেন।
জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদীন বলেন, মামলায় সাবেক পানিসম্পদ মন্ত্রী ও ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এবং আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য রমেশ চন্দ্র সেন, ঠাকুরগাঁও-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম সুজন, ঠাকুরগাঁও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক দীপক কুমার রায়, সাংগঠনিক সম্পাদক জুলফিকার আলী ভুট্টো, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাড. অরুনাংশু দত্ত টিটো, জেলা যুবলীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ আপেল, জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক দেবাশীষ দত্ত সমীর, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ইকরামুল হক একরামসহ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও সংগঠনটির সহযোগী অঙ্গসংগঠনের ৯১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ১৫০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়।
মামলার বরাতে অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদীন বলেন, আবু রায়হানসহ নিহত ৪ জন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিল। আসামিরা উক্ত ৪ জনকে আন্দোলন থেকে দূরে সরে যেতে বিভিন্ন ধরনের হুমকি, ধুমকি প্রদর্শন করে। তাতেও কাজ না হলে তাদেরকে আন্দোলন থেকে সরে যেতে আর্থিক প্রস্তাবনা দিলেও তা প্রত্যাখান করা হয়।
পরবর্তিতে গত ৫ আগস্ট বিকেলে আসামিরা কৌশলে ছাত্র আন্দোলনের আলাপ আলোচনার কথা বলে নিহত ৪ জনকে মামলার ৯নং আসামি পৌরসভার কাউন্সিলর একরামোদ্দৌলা সাহেবের বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে আবু রায়হান, রাকিবুল হাসান (রকি), আল মামুন (মামুন) ও শাওন পারভেজকে ঘরের ভেতরে কথা বলার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। ঘটনাস্থলে আগে থেকেই মামলার ১-১৪ নং এবং ১৫-৯১ নং আসামীরা উপস্থিত ছিল বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।
পরক্ষণে কৌশলে উক্ত ৪ জনকে ঘরের ভেতর আটকে রেখে আসামিরা বাহিরে বের হয়ে পড়েন। ঘরের ভেতর পূর্ব থেকেই গ্যাস সিলিন্ডারের মুখ খুলে রেখে বাহিরে থেকে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। আগুনে দগ্ধদের চিৎকারে আশ পাশের মানুষজন এগিয়ে এসে তাদের উদ্ধার করে ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য আবু রায়হানকে ঢাকায় রেফার্ড করা হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১০ আগষ্ট তার মৃত্যু হয়। আল মামুন (মামুন) ঢাকা নেওয়ার পথে মারা যায়। এছাড়াও এ ঘটনায় আরও ২ জনেরও মৃত্যু হয়।