মনসুর আহাম্মেদ,ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ৪ জুলাই, ২০২৬ ১০:৫৭ অপরাহ্ণ
ঠাকুরগাঁও পীরগঞ্জ উপজেলা সেটেলমেন্ট অফিসের সেবা নিয়ে নাখোশ স্থানীয়রা। সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ, এই অফিসে ঘুষ ছাড়া কোনো সেবাই মেলে না। আর এই অনিয়মের সঙ্গে অফিসের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী জড়িত। এ ছাড়া রয়েছে দালালদের দৌরাত্ম্য।
সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগের ভিত্তিতে সরেজমিনে দেখা যায়, জমির রেকর্ড, মাটপর্চা, মৌজার নকশাসহ জমি-সংক্রান্ত সব সেবার ক্ষেত্রেই অতিরিক্ত টাকা লাগে। আর এর যোগসূত্র দালাল মোঃ শাহনাজ আলী পীরগঞ্জ উপজেলা সেটেলমেন্ট অফিসের সার্ভেয়ার মোহাম্মদ ফিরোজ বিন আনছারী দালালদের সঙ্গে মিলে বিভিন্ন অনিয়ম করছেন। সেটেলমেন্ট অফিসের ওয়েবসাইটে প্রদর্শিত সিটিজেন চার্টার অনুযায়ী, ভূমি মালিকদের কাছ থেকে নির্দিষ্ট অঙ্কের ফি নিয়ে মাটপর্চা নকল, খতিয়ান ও নকশা দেওয়ার কথা সেটেলমেন্ট অফিসগুলোর। আবার ফি ছাড়াও বিভিন্ন ধরনের সেবা দেওয়ার কথা। কিন্তু পীরগঞ্জে বাড়তি টাকা ছাড়া সেবা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
সাম্প্রতিক গত মঙ্গলবার পীরগঞ্জ উপজেলার সেটেলমেন্ট অফিসের সার্ভেয়ার মোঃ ফিরোজ বিন আনছারী পৌরসভার মিত্রবাটি মৌজার ১ নং ওয়ার্ডের জৈনকে ব্যক্তির সুইমিং পুলের কক্ষে বসে দালাল শাহজাহানের মাধ্যমে সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে মোটা অংকের অর্থ হাতে নিয়েছেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঘুরে দেখা গেছে, সিটিজেন চার্টারের সঙ্গে এখানে মিল নেই সেবা প্রদানে। ভূমি রেকর্ড ও জরিপ-সংক্রান্ত সেবায় সরকারনির্ধারিত ফি ছাড়াও বাড়তি টাকা নেওয়া হচ্ছে। ঘুষ ছাড়া মিলছে না জমির মাটপর্চা, আর মৌজার নকশাও। বাড়তি টাকা ছাড়া সেবা নিতে গেলে হয়রানির শিকার হতে হয়। তবে কাজ না হওয়ার ভয়ে অনেকেই এ বিষয়ে মুখ খুলছেন না।
ওই অফিসের সামনে অবস্থানকালে দালালদের আনাগোনাও চোখ পড়ে। দ্রুত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করে দেওয়ার কথা বলে সেবা নিতে আসা মানুষজনের কাছ থেকে বিভিন্নভাবে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন তারা । তবে সাংবাদিকের অবস্থানের বিষয়টি টের পেয়ে সার্ভেয়ার ফিরোজ বিন আনছারী ও দালাল শাজাহানসহ দ্রুত এলাকা ত্যাগ করেন।
এছাড়াও ইচ্ছাকৃতভাবে নকশায় জমি পরিমাণ কম করে দেওয়ার বিভিন্ন প্রকার ভয় ভীতি দেখিয়ে সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে নেওয়া হচ্ছে মোটা অংকের অর্থ।
মোটা অংকের অর্থের বিনিময় ১থেকে ২ শতক জমি কম থাকলেও সমস্যা বোধ মনে করছেন না সার্ভেয়ার ফিরোজ আনছারী এমনটাই দাবি সেবাগ্রহীতাদের। এই বিষয়ে, পীরগঞ্জ সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসার পলাশ কুমার রায়ের সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে।
তিনি ফোন রিসিভ করেনি মূলত পীরগঞ্জ সেটেলমেন্ট অফিসে তিনি অফিস করেন মাত্র দুই দিন, বৃহস্পতিবার ও রবিবার, তাও আবার সঠিক সময়ে অফিসে আসেন না এই কর্মকর্তা।