আব্দুল কাদের জিলানী, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ৭ আগস্ট, ২০২৬ ৪:৪২ অপরাহ্ণ
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রুহিয়া এলাকায় প্রশাসনকে আগাম অবহিত করার পরও দুই অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোর-কিশোরীর বাল্যবিবাহ সম্পন্ন হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ৪ আগস্ট, মঙ্গলবার উপজেলা প্রশাসন সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ নিলে বাল্যবিবাহটি সহজেই প্রতিরোধ করা সম্ভব হতো।
জানা গেছে, বর ইমরান আলী, পিতা: মফিজুল ইসলাম, গ্রাম: মহেশপুর মধ্য ঝাড়গাঁও, রুহিয়া উপজেলা, ঠাকুরগাঁও জেলার বাসিন্দা। তাঁর জন্মতারিখ ২৮ মে ২০০৯। সে হিসেবে তিনি এখনো আইন অনুযায়ী বিয়ের ন্যূনতম বয়স ২১ বছর পূর্ণ করেননি। অন্যদিকে কনে তাহমিনা, পিতা: পশিরুল ইসলাম, গ্রাম: কশালগাঁও, রুহিয়া পশ্চিম ইউনিয়ন, রুহিয়া উপজেলা, ঠাকুরগাঁও জেলার বাসিন্দা। অভিযোগ রয়েছে, তিনিও প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার আগেই এ বিয়ে সম্পন্ন করা হয়েছে।
এদিকে, বাল্যবিবাহের প্রস্তুতির খবর পেয়ে এই প্রতিবেদক তাৎক্ষণিকভাবে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খায়রুল ইসলামের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করে বিষয়টি অবহিত করেন এবং দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের অনুরোধ জানান। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, বিষয়টি জানানোর পরও ঘটনাস্থলে কোনো কার্যকর অভিযান বা প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে নির্ধারিত সময়েই বাল্যবিবাহটি সম্পন্ন হয়।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে। তাঁদের ভাষ্য, প্রশাসন সময়মতো উদ্যোগ নিলে একটি দণ্ডনীয় অপরাধ সংঘটিত হওয়ার আগেই তা বন্ধ করা সম্ভব ছিল।
এ বিষয়ে বিয়ের দায়িত্বে থাকা কাজী শাহাদাত হোসেন বাবলা বলেন, “উভয় পক্ষের গার্ডিয়ান রাজি থাকলে বিয়ে দিতে কোনো অসুবিধা নেই। আমি খসড়া বিয়ে দিয়েছি, পরে বয়স হলে রেজিস্ট্রি করে দেব।কথোপকথনের একপর্যায়ে তিনি প্রতিবেদকের উদ্দেশে বলেন, “আপনার বিকাশ নম্বরটা দেন।”
কাজীর এ বক্তব্য নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে অপ্রাপ্তবয়স্কদের “খসড়া বিয়ে” নামে কোনো বৈধতার সুযোগ নেই। বিয়ের বয়স পূর্ণ হওয়ার আগে বিয়ে সম্পাদন বা তাতে সহযোগিতা করা বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭ অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ।
এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক বলেন, “অভিযোগটি তদন্ত করে দেখা হবে। বাল্যবিবাহ ও দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ মিললে আইন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট সবার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭ অনুযায়ী পুরুষের বিয়ের ন্যূনতম বয়স ২১ বছর এবং নারীর ১৮ বছর। এর কম বয়সে বিয়ে দেওয়া, বিয়ে সম্পাদন, সহযোগিতা করা বা উৎসাহিত করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।
এ ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহল নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বাল্যবিবাহে জড়িত ব্যক্তি, সহযোগী এবং দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধেও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।