admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ৭:৩৫ অপরাহ্ণ
এম,মাসুম আজাদ,ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ পড়ন্ত শীতের সময়ে সোনালি হলুদ রঙের আমের মুকুলের মনকাড়া ঘ্রাণ মানুষের মনকে করছে বিমোহিত। গাছে গাছে মৌমাছির দল ঘুরে বেড়াচ্ছে গুনগুন শব্দে। ছোট পাখিরাও মুকুলে বসছে মনের আনন্দে। এক কথায় বলা যায় মুকুলের মিষ্টি ঘ্রাণে মৌ মৌ করছে প্রকৃতি। মনকে করে তুলছে আরো প্রাণবন্ত। পাশাপাশি জানান দিচ্ছে মধুমাসের আগমনী বার্তা।
এমন দৃশ্যের দেখা মিলেছে ঝিনাইদহের বিভিন্ন আমবাগানে। গেল দুই সপ্তাহ থেকে গাছে আমের মুকুল আসতে শুরু করেছে। মূলত আবহাওয়াগত কারণে দেশীয় জাতের গাছে এই আগাম মুকুল আসতে শুরু করেছে বলে জানান বাগান সংশ্লিষ্টরা।এবারের শীত মৌসুমে অন্যান্য বছরের তুলনায় কম শীত ছিল। এছাড়া মাঘ মাস শেষের পথে। কিন্তু মাঘে এখনো মেঘের দেখা মিলেনি। তবে এ সময় শিলাবৃষ্টি হলে আমের মুকুলের ক্ষতি হবে। আমের ফলন নির্ভর করছে আবহাওয়ার ওপর।
আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছর আমের বাম্পার ফলনের আশা করছেন ঝিনাইদহের সকল উপজেলার বিভিন্ন বাগান মালিকরা। আবহাওয়া ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ নিয়ে যথেষ্ট শঙ্কাও কাজ করছে। তবে পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে এবার আমের বাম্পার ফলন হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সরেজমিনে ঝিনাইদহের শহরের বিভিন্ন আমবাগানে দেখা যায় আমের মুকুলে সয়লাব হয়ে আছে আমের গাছ। বিভিন্ন ইউনিয়নে, সাধুহাটি, মধুহাটি,সাগান্না, কুমড়াবাড়ীয়াসহ জেলার অধিকাংশ স্থানের আমবাগানের গাছেই মুকুল আসতে শুরু করেছে।
ঝিনাইদহ সদর উপজেলা গান্না ইউনিয়নের বাগান মালিক আমিরুল শেখ সাংবাদিক’কে জানান, প্রায় দুই সপ্তাহ আগে থেকে তাদের লাগানো আম গাছে মুকুল আসা শুরু হয়েছে। কিছু গাছ মুকুলে ছেয়ে গেছে। বেশিরভাগ গাছে মুকুল বের হচ্ছে। মুকুল আসার পর থেকেই তারা গাছের পরিচর্যা করেছেন। মুকুলের বিভিন্ন রোগ বালাইয়ের আক্রমন থেকে রক্ষা করতে স্থানীয় কৃষি বিভাগের পরামর্শ গ্রহণ করছেন। সাধুহাটি ইউনিয়নের আম চাষী আশা মিয়া জানান, বছরজুড়ে গাছের পরিচর্যা করার কারণে এখন প্রতি বছরই বাগানে আমের ভালো ফলন পাওয়া যাচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূল থাকলে এবার আমের ভালো ফল হবে। একই ইউনিয়নের আম বাগানের মালিক টিপু সুলতান বলেন, এবার আগাম প্রতিটি গাছেই আমের মুকুল আসছে। যদি আবহাওয়া প্রতিকূল না হয় তাহলে ভালো ফলন হবে।
সাগান্না ইউনিয়নের আম বাগান মালিক রহমতুল্লাহ জানান, আমাদের গাছে প্রতিবছরই অনেক মুকুল আসলেও কাঙ্খিত ফলন হয় না, প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ নানান রোগে ঝরে যায়, আমের মুকুল আসার শুরুতেই যদি কৃষি অফিসের লোকজন আমাদের পাশে দাঁড়ায় তবে আমরা ভালো ফলন পেতে পারি। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জানান, এ বছর আমের আগাম মুকুল ফুটেছে। আবহাওয়া ভালো থাকলে মুকুলগুলো নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা নেই। আমের মুকুলের পরিচর্যায় এভোমেট্রিন ও ছত্রাকনাশক মেনকোজেভ বালাইনাশক স্প্রে করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। আম চাষি এবং সংশ্লিষ্ট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর এবার আমের বাম্পার ফলনের আশা করছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এবং সময় মতো পরিচর্যা হলে চলতি মৌসুমে আমের ভালো ফলন হবে বলে ধারণ করা হচ্ছে। আর এ কারণেই আশায় বুক বেধে বাগান মালিকরা শুরু করেছেন পরিচর্যা। তাদের আশা, চলতি মৌসুমে তারা আম থেকে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবেন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের পরামর্শ হলো গাছে মুকুল আসার ১৫ থেকে ২০ দিন আগে পুরো গাছে সাইপারম্যাক্সিন ও কীটনাশক দিয়ে ভালোভাবে স্প্রে করে গাছ ধুয়ে দিতে পারলে গাছে বাস করা হপার বা শোষকজাতীয় পোকাসহ অন্যান্য পোকার আক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে। যদি সঠিক সময়ে শোষকপোকা দমন করা না যায় তাহলে আমের ফলন কমে যেতে পারে।