admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ১০ নভেম্বর, ২০১৯ ৮:১৮ অপরাহ্ণ
খুলনার উপকুলবর্তী একটি গ্রামে বিপদসংকেতসূচক লাল পতাকা ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুলে’র আঘাতে বাংলাদেশে এ পর্যন্ত তিনজন নিহত হবার খবর জানা গেছে। এরমধ্যে ঘর চাপা পড়ে পটুয়াখালীর মীর্জাগঞ্জে একজন এবং খুলনার দাকোপে একজন মারা গেছেন। এছাড়া খুলনার দীঘলিয়াতে গাছ চাপা পড়ে আরেক ব্যক্তি মারা গেছেন বলে জানা গেছে। এদিকে, আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে আঘাত হানার পর ‘বুলবুল’ ক্রমশ দুর্বল হয়ে এখন গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়টি এখন সাতক্ষীরা অতিক্রম করে মংলা-বাগেরহাটের দিকে অগ্রসর হয়েছে। সেজন্য ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত নামিয়ে উপকূলীয় জেলায় ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণকক্ষ জানিয়েছে, বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলীয় যেসব জায়গায় ঘূর্ণিঝড় বুলবুল আঘাত হেনেছে, সেসব জায়গায় ইতিমধ্যে উদ্ধারকাজ এবং ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের কাজ শুরু হয়েছে। এছাড়া কয়েক লক্ষ মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেয়া হয়েছে।

দক্ষিণাঞ্চলীয় অনেক জেলায় এখন ভারি বৃষ্টিপাত হচ্ছে
খুলনার দীঘলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মঞ্জুর মোর্শেদ জানিয়েছেন, সেনহাটিতে ঝড়ে উপড়ে পড়া গাছের নিচে চাপা পড়ে মারা গেছেন আলমগীর হোসেন নামে এক ব্যক্তি। ভোরের দিকে গাছ চাপা পড়ে আহত হবার পর খুলনা সদর হাসপাতালে নেবার পথে তিনি মারা যান। এছাড়া খুলনার আরেক থানা দাকোপে প্রমীলা মণ্ডল নামে একজন নারী ঘর চাপা পড়ে মারা গেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সরোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, গত রাতে সেখানে ঝড়ে ঘর চাপা পড়ে মারা গেছেন হামেদ ফকির নামে একজন জেলে। ঘূর্ণিঝড় দুর্বল হয়ে গেছে আবহাওয়াবিদ বজলুর রশীদ বিবিসিকে জানিয়েছেন, সকাল ছয়টায় বাগেরহাট, বরিশাল এবং পটুয়াখালীতে আঘাত হানার পর, বুলবুল এখন অনেকটাই দুর্বল হয়ে গেছে। বিকেল নাগাদ দেশের উত্তর পূর্ব অঞ্চল হয়ে এটি ভারতের ত্রিপুরার দিকে চলে যাবে বলে তিনি জানিয়েছেন। তবে, বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ জঙ্গল সুন্দরবনের উপর দিয়ে ঘূর্ণিঝড়টি যাবার কারণে বাতাসের গতি কমে গিয়ে বুলবুল অনেকটাই দুর্বল হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন মিঃরশীদ। এদিকে, দুর্বল হয়ে যাবার আগে দক্ষিণাঞ্চলে বেশ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের কন্ট্রোলরুম। এর মধ্যে খুলনার কয়রা উপজেলায় দেড় হাজার ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া সাতক্ষীরার উপকূলবর্তী শ্যামনগর উপজেলার পাঁচটি গ্রাম এবং আশাশুনি উপজেলার অন্তত তিনটি গ্রামে কয়েক হাজার কাঁচা ঘর ভেঙে গেছে। সেই সঙ্গে শ্যামনগরের অনেক মাছের ঘের ও ধান ক্ষেতের আল ডুবে গেছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের কন্ট্রোলরুম সূত্রে আরো জানা গেছে, পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় লালুয়া ইউনিয়নের ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ দিয়ে পানি ঢুকে ১০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এছাড়া ঝড়ে ভোলার লালমোহন ও চরফ্যাশন উপজেলায় অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।