admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ১৫ নভেম্বর, ২০২০ ৯:২০ পূর্বাহ্ণ
গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালে মাত্র এক লাখ টাকায় ব্যয়বহুল সেরিব্রাল পলসি রোগের চিকিৎসা করা হয় বলে জানিয়েছেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। আজ শনিবার রাজধানীর ধানমণ্ডিতে অবিস্থিত গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালে আয়োজিত সেরিব্রাল পলসি রোগের সার্জিক্যাল চিকিৎসা সংক্রান্ত সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন।
ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, সেরিব্রাল পলসি হচ্ছে নবজাতকদের একটি বিশেষ রোগ। যা জন্মের সময় খিঁচুনির কারণে হয়ে থাকে। আমাদের দেশে এ রোগের চিকিৎসা খুবই ব্যয়বহুল। এ রোগে আক্রান্ত শিশুর সার্জিক্যাল অপারেশন করতে হাসপাতালভেদে ৩-৪ লাখ টাকা নেওয়া হয়। কিন্তু গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালে যে কেউ মাত্র এক লাখ টাকায় এ চিকিৎসা করাতে পারবে।
তিনি আরো বলেন, অশিক্ষা, দারিদ্র্য ও নারীর প্রতি অবহেলার কারণে আমাদের দেশে এ রোগে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা বাড়ছে। গর্ভে থাকাকালীন নবজাতক যদি পর্যাপ্ত পুষ্টি না পায় বা ভূমিষ্ট হওয়ার পর শরীরে অক্সিজেনের অভাব দেখা দেয় তাহলে এ রোগ হতে পারে। তাই এটিকে প্রতিরোধ করতে গর্ভবতী মায়ের যত্ম নিতে হবে। তারপরও কারো সন্তান এ রোগে আক্রান্ত হলে ভেঙে পড়ার কোনো কারণ নেই। সার্জিক্যাল অপারেশনের মাধ্যমে এ রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
সেমিনারে অন্য বক্তরা বলেন, সেরিব্রাল পলসি হলো মস্তিষ্কের আংশিক কার্যক্ষমতা হারানো। জন্মের পর অনেক সময় নবজাতক খিঁচুনির কারণে ঠিকভাবে নিঃশ্বাস নিতে পারে না। এতে তার মস্তিষ্কে অক্সিজেনের ঘাটতি দেখা দেয় এবং মস্তিষ্কের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ ধরনের রোগে আক্রান্ত শিশুরা অন্যদের তুলনায় হাবা-গোবা হয়ে থাকে। অনেক শিশু বড় হওয়ার পরও তাদের মুখ দিয়ে লালা পড়ে, ঠিকভাবে হাঁটাচলা করতে পারে না, অনেকে ঠিকভাবে কথা বলতে পারে না, শক্ত খাবার খেতে পারে না, রোগের তীব্রতা বেশি হলে তরল খাবারও খেতে পারে না। তবে এ রোগে আক্রান্ত শিশুর সবগুলো লক্ষণই যে থাকতে হবে এমনটা না।
তারা আরো বলেন, বাংলাদেশে জন্মগ্রহণ করা প্রতি এক হাজার শিশুর মধ্যে ৩ দশমিক ৫ জন এ রোগে আক্রান্ত হয়। যা অন্যান্য দেশের তুলনায় প্রায় দেড় গুণ বেশি। এসব শিশুর মাথার খুলি তুলনামূলক ছোট থাকে। ফলে তাদের মস্তিষ্কও অন্যদের মতো বড় হয় না। মস্তিষ্কে সার্জিক্যাল অপারেশনের মাধ্যমে এ রোগ ভালো করা যায়।