admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ১ ডিসেম্বর, ২০২১ ১১:১১ পূর্বাহ্ণ
কোরিয়ান ভাষায় প্রথমবারের মতো পবিত্র কুরআনের অনুবাদ। কোরীয় উপদ্বীপের মানুষের সঙ্গে আজ থেকে প্রায় ১২ শ বছর আগে ইসলামের পরিচয় ঘটে। কিন্তু এই প্রথম কোরিয়ান ভাষায় পবিত্র কুরআন শরিফ অনুবাদ করা হলো। অর্থাৎ ইসলামের সঙ্গে পরিচয় ঘটার দীর্ঘ সময় পরে হলেও মাতৃভাষায় কুরআন জানতে পারবেন কোরীয় ভাষাভাষী মানুষ। জানা যায়, ড. হামিদ চৈ ইয়াং কিল নামের একজন গবেষক এই অসাধ্যকে সাধন করেছেন। সাত বছর কঠোর গবেষণা চালিয়ে অবশেষে কোরিয়ান ভাষায় প্রথম কুরআনের অনুবাদ প্রকাশ করতে সক্ষম হন তিনি। ড. হামিদ চৈ ইয়াং কিল ‘ইসলামিক কল ইন কোরিয়া’ নামে খ্যাত।
সত্তরের কাছাকাছি বয়সের ড. হামিদ চৈ-এর শৈশব ও পারিবারিক ইতিহাস সম্পর্কে খুব বেশি কিছু জানা যায় না। তিনি হানকুক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আরবি ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। এ ছাড়া ১৯৮০ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিও নেন একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। এরপর ১৯৮০ সালে ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব মদিনা থেকে ‘ফান্ডামেন্টালস অব রিলিজিয়ন অ্যান্ড দাওয়াহ’ বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেন এই স্কলার।
এ ছাড়া ড. হামিদ চৈ আরব বিশ্বের খ্যাতিমান আলেম শায়খ আব্দুল্লাহ বিন বাজ বিশ্ববিদ্যালয়ের রেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তবে পবিত্র কুরআনের আগে বেশ কয়েকটি ইসলামিক বই কোরিয়ান ভাষায় অনুবাদ করেন তিনি। এর মধ্যে অন্যতম হলো আল্লামা শফিউর রহমান মোবারকপুরী রচিত মহানবী (সা.)-এর প্রসিদ্ধ জীবনী গ্রন্থ ‘আর-রাহিকুল মাখতুম’। এটি অনুবাদের জন্য ২০০৮ সালে সৌদি আরবের কিং আবদুল আজিজ ইন্টারন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ড ফর ট্রান্সলেশন পান তিনি।
পেশাগত জীবনে একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. হামিদ চৈ ইয়াং কিল। কর্মজীবনে মিয়নজি বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন এই গবেষক। মুসলিম ওয়ার্ল্ড লীগের সদস্য তিনি। এ ছাড়া দায়িত্ব পালন করছেন কোরিয়ান মুসলিম ফেডারেশনের, কেএমএফ, চেয়ারম্যান হিসেবে।