ইব্রাহীম আলম সবুজ,কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৫:১৯ অপরাহ্ণ
কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার পদ দীর্ঘদিন শূন্য থাকায় শিক্ষা প্রশাসনে দেখা দিয়েছে জনবল সংকট। মূল কর্মস্থল নাগেশ্বরীর পাশাপাশি অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে রাজারহাট ও ফুলবাড়ী—এই তিন উপজেলার দায়িত্ব পালন করছেন একজন কর্মকর্তা। ফলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিয়মিত মনিটরিং, একাডেমিক তদারকি ও দাপ্তরিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ মে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুর রব বদলি হয়ে অন্যত্র চলে গেলে পদটি শূন্য হয়। পরে ২৯ মে থেকে ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মাহাতাব হোসেন। ১১ সেপ্টেম্বর থেকে ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব পান কামরুল ইসলাম।
বর্তমানে কামরুল ইসলাম নাগেশ্বরী উপজেলার মূল দায়িত্বের পাশাপাশি রাজারহাট ও ফুলবাড়ী উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। এতে একই সঙ্গে তিন উপজেলার শিক্ষা প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে তাকে।
রাজারহাট উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে সহকারী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, অফিস সহায়কসহ একাধিক পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার আয়শা সিদ্দিকাকে দাপ্তরিক কাজের পাশাপাশি বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের একাডেমিক মনিটরিং ও তদারকির দায়িত্বও পালন করতে হচ্ছে।
রাজারহাট উপজেলায় বর্তমানে ৩৯টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ১২টি কলেজ, ২৮টি মাদ্রাসা এবং চারটি নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক কার্যক্রম, সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়ন, পরিদর্শন ও বিভিন্ন প্রতিবেদন প্রস্তুতের দায়িত্ব উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের ওপর।
স্থানীয় শিক্ষকরা জানান, গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো দীর্ঘদিন শূন্য থাকায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিয়মিত পরিদর্শন ও একাডেমিক তদারকি ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত জনবল নিয়োগ না হলে শিক্ষার মানোন্নয়ন কার্যক্রম আরও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
ভারপ্রাপ্ত উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম বলেন, আমি একই সঙ্গে তিন উপজেলার দায়িত্ব পালন করছি। একা এতগুলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সবকিছু নিয়মিত মনিটরিং করা বাস্তবে সম্ভব হয় না। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানজিলা তাসনিম বলেন, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার পদটি দীর্ঘদিন শূন্য থাকায় যে সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে, তা সমাধানে জেলা সমন্বয় সভায় বিষয়টি উপস্থাপন করা হবে।