admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ১২ জানুয়ারি, ২০২২ ৮:১৮ অপরাহ্ণ
ওসি প্রদীপের আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে আকুতি। দেশব্যাপী আলোচিত অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যা মামলায় অন্যতম অভিযুক্ত কক্সবাজারের টেকনাফের সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ও সাবেক পরিদর্শক লিয়াকত আলী। এ মামলায় আজ বুধবার আদালতে যুক্তিতর্ক চলাকালে প্রদীপ বলেছেন, আমার প্রতি সদয় হোন স্যার। আদালতে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের শেষ দিন আজ প্রদীপের পক্ষে বক্তব্য তুলে ধরেন আইনজীবী রানা দাশগুপ্ত।
পরে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আদালতে যুক্তি খণ্ডন করেন। এ সময় ১০ মিনিট সময় চেয়ে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে প্রদীপ বলেন, স্যার সিনহাকে লিয়াকত খুন করেছে, সেটি আমি স্পষ্ট জানি। আমার প্রতি সদয় বিবেচনা করুন। এ তথ্য নিশ্চিত করে এজলাসে উপস্থিত একজন আইনজীবী জানান, প্রদীপের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে বিচারক জানতে চান, খুন কে করেছে, তা জেনে থাকলে জবানবন্দিতে কেন বলেননি তিনি। মামলা রায়ের পর্যায়ে এসে পৌঁছানোর পর কেন এসব বলছেন? যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে সিনহা হত্যা মামলার রায় ঘোষণার জন্য আগামী ৩১ জানুয়ারি ধার্য করেছেন বিচারক মোহাম্মদ ঈসমাইল হোসেন। আজ এ ঘোষণা আসায়, সবার চোখ এখন ওই দিনের দিকে নিবদ্ধ হয়েছে। এ মামলায় ৮৩ সাক্ষীর মধ্যে ৬৫ জন আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। তাদের জেরা শেষে গত বছরের ৬ ডিসেম্বর ৩৪২ ধারায় লিখিত বক্তব্য দেন ১৪ আসামি, পরদিন দেন অপর আসামি নন্দ দুলাল।
পরে আসামিদের বক্তব্য পর্যালোচনা এবং আসামিদের আলাদাভাবে সরাসরি সওয়াল-জবাব করা হয়। সে সময় ধার্য করা তারিখ অনুযায়ী, রোববার থেকে বুধবার রাষ্ট্র ও আসামি পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন চলে। মামলার অভিযুক্ত ১৫ আসামির উপস্থিতিতে রাষ্ট্রপক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন পিপি ও আইন বিশেষজ্ঞ সৈয়দ রেজাউর রহমান। এর আগে সিনহা হত্যার সাক্ষ্যগ্রহণ দুই ধাপে চলে, তাতে রোমহর্ষক বর্ণনা দেন সাক্ষীরা। পরে সাক্ষ্য নিয়ে উভয় পক্ষের আইনজীবীদের গণমাধ্যমে কথা বলার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেন আদালত।
এ মামলায় ১৫ জন সাক্ষীকে তলব করা হলেও ২৩-২৫ আগস্ট মামলার বাদী ও সফরসঙ্গীর সাক্ষ্য ও জেরা শেষ হয়। গত বছরের ২৭ জুন সিনহা হত্যা মামলার ১৫ আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করেন বিচারক মোহাম্মদ ইসমাইলের আদালত। টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর চেকপোস্টে ২০২০ সালের ৩১ জুলাই রাতে গাড়ি তল্লাশিকে কেন্দ্র করে বিতণ্ডার এক পর্যায়ে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সিনহা। পরে গত ৫ আগস্ট নিহতের বড় বোন শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌস বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।
মামলায় বাহারছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সাবেক ইনচার্জ, পরিদর্শক লিয়াকত আলীকে প্রধান আসামি করা হয়। এ ছাড়া টেকনাফ থানার তৎকালীন ওসি প্রদীপসহ ৯ পুলিশ সদস্যকে আসামি করা হয়। মামলাটি তদন্ত করার জন্য র্যাবকে আদেশ দেন আদালত। প্রধান আসামি লিয়াকত আলী ও প্রদীপসহ ৭ পুলিশ সদস্য গত ৬ আগস্ট আদালতে আত্মসমর্পণ করেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা র্যাব-১৫ এর সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. খায়রুল ইসলাম সে বছরের ১৩ ডিসেম্বর প্রদীপসহ ১৫ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। মামলার অন্যতম অভিযুক্ত প্রদীপ কুমারের অন্যতম সহযোগী কনস্টেবল সাগর দেব ঘটনার শুরু থেকেই পলাতক ছিলেন। অবশেষে গত বছরের ২৪ জুন আত্মসমর্পণ করেন তিনি।