নাগরিক ভাবনাঃ অ্যাডভোকেট আবু মহী উদ্দীনঃ করোনা দুযোর্গে বাঙ্গালী জাতির গৌরবের দিন মুজিব নগর দিবস ক বছর থেকে সরকারি ভাবে উদযাপিত হলেও এবারে কিছু করা গেলনা। করোনার ভিড়ে টিভিতেও তেন কিছু পাওয়া গেলনা। গত বছর ১৭ এপ্রিল ঠাকুরগাঁও ডিসি হলঘরে মুজিবনগর দিবসের আলোচনা সভা ও রচনা প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়। এম.পি সাহেব আলোচনায় অংশ নেন।
এমপি সাহেব বড় আশা নিয়ে এসেছিলেন শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে মুজিবনগর দিবস সম্পর্কে শুনবেন। তাঁকে অনেকটা হতাশই হতে হয়েছে। স্কুলের সিলেবাসে না থাকলে ওদের কি দোষ। বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা , মন্ত্রী পরিষদ গঠন , শপথ গ্রহণ এবং মুক্তিযুদ্ধ একে অপরের সমার্থক। খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় কিন্তু হলে কি হবে। মুজিবনগর দিবসতো দুরের কথা , শেখ মুজিবুর রহমান নামে কেউ বাংলাদেশে ছিলেন বা ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চের আগে দেশে স্বায়ত্বশাসন বা স্বাধীনতার কোন আন্দোলন সংগ্রাম হয়েছে এক সময় আমাদের প্রজন্ম তাই জানতে পারেনি।
একটা প্রজন্ম গোটা ভ্যাকুয়াম নিয়ে বেড়ে উঠেছে। শেখ মুজিবকে ইতিহাস থেকে মুছে ফেলার জন্য কি কসরতই না করা হয়েছে। বর্তমানে মুজিবনগর দিবস সরকারিভাবে পালন করা হয়। তবে একটা বিষয় লক্ষনীয় যে আওয়ামী লীগ ছাড়া আর কেউ মুজিবনগর দিবস পালন করেনা। ভাবতে কেমন লাগে। স্বাধীন বাংলাদেশের নাগরিক হতে চাইলে মুজিবনগর দিবসকে অস্বীকার করা যায় কিভাবে? মুজিব নগর তো আওয়ামী লীগের একার নয় ,বঙ্গবন্ধু এবং মুজিব নগর একে অপরের পরিপুরক। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের চুড়ান্ত পরিণতি জানতে মুজিবনগর সম্পর্কে জানতে হবে। মুজিব নগরের অস্তিত্ব না জানলে স্বাধীনতার ইতিহাস কোনভাইে পুর্ণতা পাবেনা।

মুজিব নগর দিবসের তাৎপর্য সম্পর্কে আমাদের প্রজন্মকে গভীরভাবে জানাতে হবে এবং উপলব্ধি করাতে হবে। কিন্তু কিভাবে করা হবে সেটাই গুরুত্বপুর্ন বিষয়। কেবল পরামর্শ দিলেই সবাই পড়তে বা জানতে শুরু করবে এমনটা নয়। এটা করা জন্য কৌশল প্রনয়ন করতে হবে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুজিব নগর দিবস বা এর তাৎপর্য জানাতে যা করা যেতে পারে তা হলো ঃ মুজিবনগর দিবস উপলক্ষে বেশ সময় হাতে নিয়ে সারা জেলায় প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে। এই আয়োজনে প্রতিষ্ঠানের সকল শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করবেন। এদের মধ্যে থেকে বিজয়ীদের পুরস্কার দিবে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। স্কুল পর্যায়ে বিজয়ীদের নিয়ে ২য় পর্যায়ে প্রতিযোগিতায় উপজেলা পরিষদ পুরস্কার দিবে। উপজেলা পর্যায়ের বিজয়ীদের নিয়ে ৩য় পর্যায়ে প্রতিযোগিতায় জেলা পরিষদ পুরস্কার দিবে।
রচনা প্রতিযোগিতা থেকে মেধাক্রম অনুসারে ১০ জন বাছাই করা হবে। এর পর আয়োজন করা হবে কুইজ প্রতিযোগিতা । কুইজ প্রতিযোগিতা থেকে ১০ জনকে বাছাই করা হবে। বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী থেকে আয়োজন করা হবে আলোচনা সভা । আলোচনা সভা থেকে সেরা ১০ জন আলোচক বাছাই করা হবে। এই সব প্রতিযোগিতা থেকে মোট ৩০ জন শিক্ষার্থী এবং শিক্ষক বাছাই করা হবে ৫ জন। প্রতিনিধি বাছাই করা হবে এম. পি সাহেবের প্রতিনিধি ১ , জেলা পরিষদ প্রতিনিধি ১ , সরকারি প্রতিনিধি ১ বঙ্গবন্ধু পরিষদ ১ মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ১ জন মোট ৪০ জনের ১টি দল মুজিব নগর ভ্রমনের সুযোগ পাবে। এই ভ্রমনের অর্থায়ন করবেন মাননীয় সংসদ সদস্য বা জেলা পরিষদ অথবা উভয়ে মিলে। এভাবে প্রতি বছর প্রতিযোগিতার মাধ্যমে বাছাই করা একটি শিক্ষার্থী দল মুজিবনগর ভ্রমনের সুযোগ পাবে। প্রতি বছর ্আলাদা আলাদা শিক্ষার্থী সুযোগ পাবে। বঙ্গবন্ধু পরিষদ বা এই জাতীয় প্রতিষ্ঠানকে বাছাইয়ের দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে। এভাবে প্রতিবছর বাছাই করা শিক্ষার্থীদের মুজিবনগর ভ্রমনের সুযোগ দিলে গোটা জেলার শিক্ষার্থীরা দেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম সহ মুক্তিযুদ্ধ , বঙ্গবন্ধু ইত্যাদি বিষয়ের সঠিক ইতিহাস সম্পর্কে জানবে।
বাংলাদেশের সাড়ে ৭ কোটি মানুষের অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার অর্জনের আইনানুগ অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ ঢাকায় যথাযথভাবে স্বাধীনতা ঘোষণা করেন এবং বাংলাদেশের অখ-তা ও মর্যাদা রক্ষার জন্য বাংলাদেশের জনগণের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান। আরও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছি যে, শাসনতন্ত্র প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রপ্রধান এবং সৈয়দ নজরুল ইসলাম উপ-রাষ্ট্রপ্রধান পদে অধিষ্ঠিত থাকবেন। রাষ্ট্রপ্রধান প্রজাতন্ত্রের সশস্ত্র বাহিনীসমূহের সর্বাধিনায়ক পদেও অধিষ্ঠিত থাকবেন। রাষ্ট্রপ্রধানই সর্বপ্রকার প্রশাসনিক ও আইন-প্রণয়নের ক্ষমতা অধিকারী।
আজ সেই ১৭ এপ্রিল, ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস। আজ থেকে ৪৯ বছর আগে একাত্তর সালের অগ্নিঝরা এই দিনে হানাদার বাহিনী কর্তৃক আক্রান্ত বাঙালী জাতির আলোকবর্তিকা হিসেবে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভার শপথগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। সরকারের শপথগ্রহণ আর মুক্তির সনদ উপরোক্ত স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠের মাধ্যমে কবর রচিত হয় অখন্ড- পাকিস্তানের কবর রচিত হয় স্বাধীন বাংলাদেশের নতুন ইতিহাস। এরপর ৯ মাস সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বিশ্বের মানচিত্রে স্থান করে নেয় স্বাধীন ও সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ। বাংলা, বাঙালী, মুক্তিযুদ্ধ ও মুজিবনগর যেন অভিন্ন নাম। স্বাধীনতা অর্জনের পথে ১৭ এপ্রিল এক ঐতিহাসিক স্মৃতিবিজড়িত দিন। বাংলাদেশের স্বাধীন সরকারের শপথ নেয়ার দিন, স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠের দিন।