admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ৪ জুন, ২০২১ ৮:২৪ অপরাহ্ণ
অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল কালো টাকা সাদা করা নিয়ে যা বলেছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার আগামী ২০২১-২০২২ অর্থ বছরের প্রস্তাবিত বাজেট পেশ করেছেন অর্থমন্ত্রী। তবে প্রস্তাবিত বাজেটে গত বছরের মতো অপ্রদর্শিত অর্থ বা কালো টাকা সাদা করার ব্যাপারে কোনো কিছু উল্লেখ করা হয়নি। স্বাভাবিকভাবেই গতকাল থেকে বিষয়টি নিয়ে একটি ধোঁয়াশা ছিল। তবে অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, এ বিষয়ে ভেবে-চিন্তে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আজ শুক্রবার বিকালে ভার্চুয়াল মাধ্যমে আয়োজিত বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এ তথ্য জানিয়ে বলেন, আগামীতে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ থাকছে কি না- এ বিষয়ে আরো কিছু দিন ভেবে-চিন্তে সিদ্ধান্ত নেবেন

তিনি বলেন, কালো টাকা সাদা করার পক্ষে ও বিপক্ষে নানা ধরনের অভিমত রয়েছে। কারো মত হলো এ সুযোগ থাকা উচিত নয়। আবার কেউ বলছেন সুযোগ রাখা উচিত। তাই এই মুহূর্তে কিছু বলতে পারছি না। বরং আরো কিছু দিন ভেবে-চিন্তে সিদ্ধান্ত দেব। অর্থমন্ত্রী আরো বলেন, এ বিষয়ে আমার কাছে সব তথ্য আসেনি। গত বছর অপ্রদর্শিত অর্থ মূল ধারায় ফিরিয়ে আনার যে সুযোগ আমরা দিয়েছিলাম, কত জন সেই সুযোগ নিয়েছে, সে সম্পর্কে শতভাগ তথ্য আমার কাছে এসে পৌঁছায়নি।অর্থমন্ত্রী আরো বলেন, এ বিষয়ে আমার কাছে সব তথ্য আসেনি। গত বছর অপ্রদর্শিত অর্থ মূল ধারায় ফিরিয়ে আনার যে সুযোগ আমরা দিয়েছিলাম, কত জন সেই সুযোগ নিয়েছে, সে সম্পর্কে শতভাগ তথ্য আমার কাছে এসে পৌঁছায়নি।
এদিন প্রস্তাবিত বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান, কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক, পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান সংযুক্ত ছিলেন। এ ছাড়া যুক্ত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির, অর্থ সচিব আব্দুর রউফ তালুকদার, পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য শামসুল আলম। উল্লেখ্য, চলতি (২০২০-২০২১) অর্থবছরের বাজেটে অপ্রদর্শিত অর্থ তথা কালো টাকা পুঁজিবাজার ও আবাসন খাতে বিনিয়োগের মাধ্যমে সাদা করার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। সেই অনুযায়ী পুঁজিবাজার ও আয়কর রিটার্নে প্রদর্শন হয়নি এমন জমি বা ফ্ল্যাট বৈধ করার সুযোগ ছিল।
অপ্রদর্শিত অর্থ বা কালো টাকা অর্থনীতির মূলধারায় আনতে এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে শর্ত সাপেক্ষে ১০ শতাংশ কর দিয়ে তা শেয়ার, স্টক, বন্ড, ডিভেঞ্চার ও মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ করা যায়। এ ছাড়াও অপ্রদর্শিত নগদ টাকা, ব্যাংক আমানত, স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি, সঞ্চয়পত্র রিটার্ন প্রদর্শনের মাধ্যমে বৈধ করার সুযোগ দেওয়া হয়। এ জন্য অর্থবিলের মাধ্যমে আয়কর অধ্যাদেশে এ সংক্রান্ত একটি ধারা যুক্ত করা হয়। সেই অনুসারে এতদিন একজন বিনিয়োগকারী অতিরিক্ত ১০ শতাংশ হারে কর দিয়ে তার অপ্রদর্শিত অর্থ তথা কালো টাকা দিয়ে ফ্ল্যাট কিনতে পারতেন।এক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত ১৬ হাজার কোটি টাকা সাদা বা বৈধ হয়েছে।