ডাঃ নুরল হক || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ২৪ আগস্ট, ২০২৫ ১২:১০ অপরাহ্ণ
হারিকেন নাম এখন আর শোনা যায় না। গ্রামীণ হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যের মধ্যে অন্যতম ‘হারিকেন’। অনেক অঞ্চলে লন্ঠন নামের পরিচিত। অন্ধকার দূর করার একমাত্র অবলম্বন ছিল হারিকেন। ঝড়ো হাওয়ায় ও খারাপ আবহাওয়ায় আলো জ্বালিয়ে রাখা সাধারন তেল বা কেরোসিন বাতি বাতাসে সহজেই নিভে যেত। তাই এমন একটি বাতি দরকার ছিল যা বাতাসে ধাক্কায় ও চলতে থাকবে। অতীতের বিদ্যুৎবিহীন গ্রামের অন্ধকার দূর করার একমাত্র অবলম্বন ছিল হারিকেনের আলো।
হারিকেন হচ্ছে কেরোসিন তেলের মাধ্যমে বদ্ধ টিনের পাত্রে আলো জ্বালানোর ব্যবস্থা। এর বাইরের অংশে অর্ধ বেত্তাকারে কাঁচের অংশ থাকে, যাকে চিমনি বলে। পাত্র থেকে তেল নেওয়ার জন্য থাকে কাপড়ের শলাকা বা ফিতা,এর মাধ্যমে অগ্নি সংযোগে আলো জালানো হয়। ‘হারিকেন’ বহন করার জন্য এর বহিরাংশে একটি লোহার ধরণী থাকে। আলো কমানো বা বাড়ানোর জন্য নিম্ন বহিরাংশে থাকে একটি চাকতি যা কমালে বাড়ালে শলাকা বা ফিতা ওঠা নামা সাথে আলো কমে ও বাড়ে।
গ্রামাঞ্চলে এর ব্যবহার ছিল সর্বাধিক। অনেক কাল আগে থেকে এর ব্যবহার শুরু হয়, সম্ভবত মোগল সম্রাটের সময় থেকে। ঐতিহাসিক ‘হারিকেন’ আজ বিলুপ্তের পথে।
একসময় সন্ধ্যা গড়াইতে ঘরে ঘরে জ্বলতো ‘হারিকেন’ । ‘হারিকেনের’ আলোয় পড়াশোনা খাওয়া-দাওয়া এবং রাতের কাজকর্ম চলতো। সন্ধ্যাবেলা ‘হারিকেনের’ কাঁচের চিমনি খুলে ধুয়ে- মুছে পরিষ্কার করে কেরোসিন তেল ঢেলে দিয়াশালাই দিয়ে শলাকার মধ্যে আগুন ধরে দিতে হতো। হারিকেন জ্বালিয়ে রাতে হাটবাজারে বেচাকেনা যাতায়াত সহ এক স্থান থেকে আরেক স্থানে যেতে ভরসা ছিল হারিকেন। ডাক পিয়ন চিঠির বোঝা পিঠে নিয়ে হাতে হারিকেন নিয়ে ছুটি চলত বিভিন্ন গ্রামে। রিকশা চালানোর সময় পথ দেখার জন্য রিকশার নিচে ‘হারিকেন’ জ্বালিয়ে রাখা হতো। মানুষের একমাত্র অবলম্বন ছিল হারিকেন। এখনো গ্রামের কিছু বাড়িতে পাওয়া যেতে পারে সেগুলো হয়তো ময়লা ও মরিচা পরি ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। ঘরে ঘরে, হাটবাজারে, রাস্তাঘাটে সর্বত্রই বৈদ্যুতি আলোর ঝলকানি প্রযুক্তির উৎকর্যে হারিকেনের পরিবর্তে স্থান দখল করে নিয়েছে ছোলার প্লান্ট ও বিদ্যুৎ।
আধুনিকতার ছোঁয়ায় গ্রাম অঞ্চলে সেই ঐতিহ্যবাহী ‘হারিকেন’ এখন বিলুপ্তির পথে। চার্জার, বৈদ্যুতিক বাতি ও বিদ্যুতের নানা ব্যবহারের ফলে হারিকেনের ব্যবহার আর দেখা যায় না। নতুন প্রজন্ম বিলুপ্তির পথে ‘হারিকেন’ সম্পর্কে জানতে বা পড়তে হবে ইতিহাসের পাতায়। হয়তো এক সময় দেখা যাবে জাদুঘরে।
| Sun | Mon | Tue | Wed | Thu | Fri | Sat |
|---|---|---|---|---|---|---|
| 1 | 2 | 3 | 4 | 5 | 6 | 7 |
| 8 | 9 | 10 | 11 | 12 | 13 | 14 |
| 15 | 16 | 17 | 18 | 19 | 20 | 21 |
| 22 | 23 | 24 | 25 | 26 | 27 | 28 |
| 29 | 30 | 31 | ||||