admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ৫ নভেম্বর, ২০২১ ৭:২০ অপরাহ্ণ
নাগরিক ভাবনাঃ এ্যাডভোকেট আবু মহী উদ্দীনঃ বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন আগামী বছরের জন্য ৪১ কোটি ৯৫ লাখ টাকার বাজেট প্রনয়ন করেছে। তার মধ্যে ১৭ কোটি টাকাই ঘাটতি। ফুটবল ফেডারেশন আগের বছরগুলোতে বার্ষিক সাধারণ সভা করতে পারেনি। এবছর আগাম সভা করে কাজা আদায় করেছে। বার্ষিক সাধারণ সভার নামকরণ করা হয়েছে ‘কংগ্রেস’। ইউরোপের সাথে মিল রেখে ব্যানার বানানো হয়েছে ইংরেজিতে। তবে ফটোসেসনে কর্মকর্তাদের কপালের বলিরেখা অস্পষ্ট থাকেনি।
এই বলিরেখার প্রতিফলন ফুটবলেও যাতে না ঘটে তার জন্য তার জন্য সৃষ্টিকর্তার দরবারে প্রার্থনা করা ছাড়া আর কিই ই বা করার আছে ? ঘাটতি ১৭ কোটি টাকা পৃষ্টপোষকদের কাছ থেকে সংগ্রহ করার ইঙ্গিত দিয়েছেন অর্থবিত্তের দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা সালাম মুর্শেদি। পৃষ্টপোষকরা বোধহয় অতটা বোকা নয় যে বিলুপ্তপ্রায় বাংলাদেশের ফুটবলে টাকা ঢালবে। পত্রিকার সাংবাদিকরাও আর ফুটবল নিয়ে লিখতে চাননা। ফুটবলের কংগ্রেসের খবর একটি মাত্র অখ্যাত পত্রিকায় এক কোনে ছাপানো হয়েছে। শীর্ষস্থানীয় পত্রিকাগুলো খবরই ছাপেনি।
সারা দেশের জেলা ক্রীড়া সংস্থার সেক্রেটারী এবং নাম সর্বস্ব জেলা ফুটবল এসোসিয়েশনের সভাপতি সাহেবদের হাস্যোজ্জল ছবি ছবি ফেসবুকে দেখা যাচ্ছে। তারা উর্ধতন কর্মকর্তাদের সাথে ছবি তুলে নিজেদেরকে ধন্য করেছেন। নিজেরাতো জেলায় কিছু করতে পারছেননা, উর্ধতন কর্মকর্তাদের সাথে তোলা ছবি দেখিয়ে নিজেদের গুরুত্ব জাহির করা যাবে কিছুটা। সারা দেশের জেলার কর্মকর্তারা পাঁচতারা হোটেলে চারটা ডালভাত খেয়ে আপ্যায়িত হয়ে কি বিবেচনায় ৪২ কোটি টাকার মধ্যে ১৭ কোটি টাকার ঘাটতি বাজেট হাত তুলে পাশ করে দিয়েছেন এটা নিয়ে ফিফা গবেষনা করতে পারে। মাননীয় অর্থমন্ত্রী আগামী অর্থ বছরের বাজেট পেশের সময় ফুটবল ফেডারেশনের এই দৃষ্টান্ত কাজে লাগাতে পারেন।
দেশের ফুটবলের দুর্দশা নিয়ে অনেক লেখালেখি হয়েছে , সমালোচনা হয়েছে তাতে ফুটবলের কোন কাজে আসেনি। তবে ফুটবল ফেডারেশনকে ধন্যবাদ যে, এসব লেখালেখির কারণে তারা এখনো কারো বিরুদ্ধে ডিজিটাল আইনে মামলা করেনি। তাতে প্রমান হয় যে সমালোচনা সহ্য করার মতো যথেষ্ট উদারতা কর্মকর্তাদের আছে। আগামী প্রজন্ম রচনা লিখবে ‘ বাংলাদেশে অসম্ভব প্রতিভার একজন ফুটবলার জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তিনি অতি উচ্চ মানের ফুটবল খেলোয়ার ছিলেন, যিনি আবাহনীতে খেলতেন। যার ফুটবল নৈপুন্য দেশের ফুটবল খোলোয়ারদের কাছে অনুসরনীয় এবং অনুকরনীয় হয়ে থাকবে।
আবার কবে এই মানের ফুটবলার দেশে জন্মগ্রহণ করবে তা বলা যাবেনা। কপালগুণে তিনি বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি হয়েছিলেন। তবে তিনি খেলোয়ার হিসাবে যেমনি চৌকষ, সংগঠক হিসাবে তার চেয়ে বেশী অসফল। তার নেতৃত্বে দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা ফুটবলের অস্তিত্ব বিলিন হয়েছে। বাংলাদেশের ফুটবল বিলুপ্ত প্রজাতিতে পরিণত হয়েছে তার হাত ধরে। বাংলাদেশে আবার যদি কোনদিন ফুটবলের উন্নয়ন ঘটে , আবার যদি দেশের মানুষ ফুটবল খেলার সাথে পরিচিত হতে পারে তাহলে দেশের ফুটবলের ইতিহাসকে তিনটি ভাগে ভাগ করা হবে। ক) উজ্জল যুগ খ) অন্ধকার যুগ এবং গ) উত্তরণ যুগ। এখন অন্ধকার যুগ চলছে , আমরা উত্তরণ যুগের অপেক্ষায় থাকবো।
শ্রীলংকায় সাফ ও ৪ জাতি ফুটবল হবে ৮ নভেম্বর থেকে। ২৪ অক্টোবর তারিখে ক্যাম্পে ডাকা হয়েছে খেলোয়ারদের। বিভিন্ন অজুহাতে খেলোয়াররা ক্যাম্পে যোগ দিতে অনীহা প্রকাশ করেছে। ১ম দিন ১ জন এসেছে। এর পর ২/১ জন করে। অবশেষে ৪ দিন পর খেলোয়ার অভাবে ১৪ জন নিয়েই জাতীয় দলের প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে। এটাই ফুটবলের চেন অব কমান্ড। সাফ ও চার জাতি টুর্ণামেন্টে কোচিং করাচ্ছেন ভিন্ন ২ কোচ ‘বিনা পারিশ্রমিকে’ অস্কার ব্রæজোন ও মারিও লেমোসের এই কোচিং সেবা দিয়ে আপৎকালীন ঠেকা চালানো গেলেও বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের ভাবনায় স্থায়ী কোচ। খোঁজখবর শুরু হলেও জামাল ভুঁইয়াদের কোচ হতে ইতিবাচক সাড়া দিচ্ছেননা কেউ।
চার জাতি টুর্ণামেন্টের জন্য বাড্ডার ফর্টিস একােেডমিতে অনুশীলন করছে বাংলাদেশ, ফুটবল দল। গতকাল ৩ নভেম্বর বাফুফে প্রেসিডেন্ট অনুশীলন দেখতে গিয়েছিলেন। অনুশীলন দেখার ফাঁকে জানিয়েছেন কোচ নিয়ে দুঃশ্চিন্তার কথা। তিনি বলেন ‘ সত্যি বলতে কি কোন জায়গা থেকে , কোনো জায়গা থেকেই আমি সঠিক সাড়া পাচ্ছিনা। কোচদের তো বাংলাদেশে আসতে হবে, খেলোয়ারদের দেখতে হবে। এখানেই সমস্যাটা হচ্ছে, আমরা একাধিক বিকল্প