admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ১ জানুয়ারি, ২০২২ ৭:৩০ অপরাহ্ণ
ফারাক্কা পয়েন্টে পানি পর্যবেক্ষণ শুরু। প্রতি বছর গঙ্গা বা পদ্মা নদীর পানি বণ্টন চুক্তির আওতায় ১ জানুয়ারি থেকে ১৩ মে পর্যন্ত দুই পয়েন্টে পানি পর্যবেক্ষণ করেন যৌথ নদী কমিশনের সদস্যরা। সে অনুযায়ী, বাংলাদেশের হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্ট ও ভারতের ফারাক্কা পয়েন্টে পানি পর্যবেক্ষণ শুরু হয়েছে আজ শনিবার। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের পানি পরিমাপক সংস্থা পাবনা হাইড্রোলজি বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী রইচ উদ্দিন।
তিনি বলেন, আজ শনিবার সকাল থেকে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা পয়েন্টে পদ্মার পানি পর্যবেক্ষণ শুরু করেছে দুই সদস্যের ভারতীয় প্রতিনিধিদল। ভারতীয় দলে রয়েছেন দেশটির কেন্দ্রীয় পানি কমিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপঙ্কর দাস ও কমিশনের সহকারী পরিচালক প্রকাশ এস। যৌথ নদী কমিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী টি এম রাশিদুল কবিরের নেতৃত্বে বাংলাদেশের ৪ সদস্যের প্রতিনিধি দল এতে অংশ নিয়েছে।
তারা ফারাক্কার ভাটিতে গঙ্গার পানি পর্যবেক্ষণ করছেন। ১৯৯৬ সালে উভয় দেশের মধ্যে সই হওয়া চুক্তি অনুযায়ী ১০ দিন পর পর পানি পর্যবেক্ষণের রেকর্ড প্রকাশ করবে যৌথ নদী কমিশনের সদস্যরা। শুষ্ক মৌসুমে পানির ন্যয্য হিস্যার প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে কাজ করে থাকেন তারা। ১৯৯৬ সালে পানির ন্যায্য হিস্যার দাবি পূরণে ফারাক্কার পানি ভাগাভাগির বিষয়ে দুই দেশের (ভারত ও বাংলাদেশ) মধ্যে নতুন করে ৩০ বছর মেয়াদি চুক্তি হয়।
১৯৭৬ সালে ভারতের ফারাক্কা বাঁধের প্রতিবাদে মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর নেতৃত্বে লংমার্চ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। কিন্তু আজ পর্যন্ত সেই সমস্যার সমাধান হয়নি, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী পদ্মার পানির ন্যায্য হিস্যাও আসেনি।
প্রসঙ্গত, ভারত ফারাক্কা বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে তাদের নিজেদের প্রয়োজনে পানি ছাড়ছে এবং আটকে দিচ্ছে। এর ফলে বর্ষার মৌসুমে বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমের বেশ কিছু জেলা বন্যা ও নদী ভাঙনের কবলে পড়ে। অন্যদিকে, শুষ্ক মৌসুমে পানি না পাওয়ায় দেখা দেয় পানির চরম সংকট।