admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ৪ মার্চ, ২০২২ ১০:৫৯ পূর্বাহ্ণ
অ্যাডভোকেট আবু মহী উদ্দীনঃ কোন দেশের অর্থনীতিকে মজবুত করতে ব্যাংক বীমা এই সব আর্থিক প্রতিষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করতে পারে। আমাদের ব্যাংক ব্যবস্থায় ত্রæটি বিচ্যুতি কিছু আছে , তবে মাঝে মধ্যে অসৎ কিছু কর্মকর্তার অসততার খবর দেশবাসীকে মর্মাহত করে। এদের বিষয়টা জানাজানি হয় দূর্ঘটনা ঘটার পর। আমাদের দূর্ভাগ্য এই সব দুর্বত্তরা যাতে এই জাতীয় ঘটনা না ঘটতে পারে সে ব্যবস্থা মজবুত নয়। ঘটনার পরে আমরা তদন্ত কমিটি , মামলা করি এতে প্রচুর সময় ব্যয় হয়। মানুষও আস্তে আস্তে ভুলে যায়। অনুরুপ বিষয় আমাদের বীমা খাত।
দেশে কয় বছর আগে বীমা নিয়ন্ত্রক সংস্থা গঠন করা হয়েছে। শুধু গঠনই করা হয়েছে মাত্র কয়েকজন জন লোক নিয়ে। আমাদের দেশে দুরবস্থা কাটিয়ে উঠতে পারেনি। ম্প্রতি বীমা ক্ষেত্রে বিভিন্ন বীমা মালিকদের তহবিলের নয় ছয় করার খবর আমাদেরকে দুর্ভাবনায় ফেলে। ১ মার্চ জেলা পর্যায়ে বীমা দিবস উদযাপিত হয়েছে। ১৯৬১ সালে ১ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব আলফা বীমা কোম্পানীতে জয়েন করেছিলেন।
দেশে বিভিন্ন দিবস আছে, বীমা দিবস ছিলনা। বঙ্গবন্ধুর বীমায় যোগদানের দিনটি স্মরণ রাখার জন্য ১ মার্চকে জাতীয় বীমা দিবস ঘোষণা করে সরকারিভাবে উদযাপন শুরু হয়েছে ২০২০ সাল থেকে। বীমা সম্পর্কে অনেক নেতিবাচক ধারণা দেশবাসীর মনে আছে। যেখানে ঢাকঢোল পিটিেিয় সবাইকে নিয়ে উদযাপন করা দরকার , বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ব্যপক আলোচনা করা দরকার , বীমা গ্রহীতাদের মতামত শোনা দরকার। কিন্তু বিভিন্ন বীমা কোম্পানীর কয়েকজনকে নিয়ে ব্যানার ধরে ছবি তুলে পোষ্ট দেওয়া আর কয়েকজনকে নিয়ে গুরুগম্ভীর আলোচনা করে , চা পানি খেয়ে ঢেকুর তুলতে তুলতে ফিরে যাওয়া, এতে আর যাই ই হোকে বীমার খুব মঙ্গল হবেনা। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আন্তরিকভাবেই চান, দেশের সর্বজনীন বীমা ব্যবস্থা চালু হোক।
কর্তারা কয় বছর শুধু বাণী দিচ্ছেন। দেশের বয়স্ক মানুষদের নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে আনার জন্য সার্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা চালুর সিদ্ধান্ত হয়েছে। এবারে হবে সার্বজনীন বীমা ব্যবস্থা , সকলের জন্য বীমা ব্যবস্থা চালু করা দরকার। সরকার পদক্ষেপ নিয়েছে। কিন্তু সমস্যা হলো আমাদের বাস্তবায়ন পদ্ধতিটি জটিল। এর আইন কানুন, বিধি মালা প্রনয়ন করতে যেন বছরের পর বছর সময় না লাগে সেদিকে সতর্ক থাকা দরকার। জাতীয় দিবস উদযাপন সংক্ষিপ্ত হয়েছে তাতে কোন সমস্যা নাই, তবে দেশের সব মানুষকে বীমার আওতায় আনতে সংশ্লিষ্ট সবাই আন্তরিক হবেন এটাই আমাদের প্রত্যাশা। বীমা সম্প্রসারণের অনেকগুলি ধাপের মধ্যে যেটা ১ নং তাহলো সংক্ষিপ্ততম সময়ে বীমা দাবী বীমা গ্রহীতার হাতে তুলে দেওয়া। ভাবনার বিষয় কাজটা তাড়াতাড়ি করতে পারলেই মঙ্গল।