admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ৯ এপ্রিল, ২০২২ ১১:০২ অপরাহ্ণ
নাগরিক ভাবনা, অ্যাডভোকেট আবু মহী উদ্দীনঃ ঠাকুরগাঁওয়ের নিরাপদ ডায়াগোনষ্টিক সেন্টার রোগিদের কাছে মোটেও নিরাপদ নয়। রোগিরা ডাক্তারের কথা মতো তার নির্ধারিত জায়গা থেকে আলট্রাসনোগ্রাম করবেনা তা কি হয় ? কেননা সেই আলট্রাাসনোগ্রাম মেসিন পৃথিবীতে ২য়টা নাই। সেই আলট্রাসনোগ্রাম মেসিনের রিডিং শতভাগ সঠিক। ডাক্তার সাহেবের নির্দেশ অমান্য করে রোগি নিজে নিজে অন্য কোথাও থেকে টেষ্ট করে আনবে তা কি হয়? খোঁজ নিলে হয়তো জানা যাবে সেই রোগি আর এক দালালের কবলে পরেছিল। বেরসিক সাংবাদিকরা আবার ছবি তুলতে গেলে ক্যামেরা ছিনতাই করা হয়েছে। ক্যামেরা কেড়ে নিলেই যে খবর বন্ধ থাকবেনা দুবৃত্তদের তা জানা নাই। স্মৃতি হক আদৌ ডাক্তার কিনা , তার সনদ দারুল এহসানের কিনা এ প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
ফেসবুকের কল্যাণে এই ঘটনার প্রেক্ষিতে অনেকে অনেক মতামত দিয়েছেন , সব গুলোই গুরুত্বপুর্ন। তদন্ত, ব্যবস্থা নেওয়া, প্রশাসন, পুলিশ সবার দিকেই আঙ্গুল তোলা হয়েছে। সমস্যাটা হলো ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ কোথায় ? পুুলিশ ব্যবস্থা নিবে থানায় দরখাস্ত করলে। প্রশাসন ব্যবস্থা নিবে অভিযোগ করলে। ডায়াগোনষ্টিক সেন্টারের মালিক কর্মচারী এক জোট হবে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য। শেষ পর্যন্ত ধামাচাপাটাই কার্যকরী হবে। যে ছেলেটা রোগিদের সিরিয়াল দেয় তার বেতন খুবই কম। সে কারনে কেউ কেউ সিরিয়াল এদিক সেদিক করে দু, ৫ টাকা আয় করে। ওটা করে পেটের দায়ে। আর দুপয়সা কামায়ের জন্য রোগি ভাগিয়ে আনার দালালীও করে। তার এসব বিষয় ডাক্তার সােেহবরা একদম জানেননা একথা আমরা ততটা বিশ্বাস করিনা। আর ডায়াগোনষ্টিক সেন্টারের মালিকরাতো ওদের নিয়োগ করে।
এরা প্রায়ই বিনা বেতনে চাকুরী করে। ডাক্তার সাহেবদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট সংগঠন আছে , তারা বাহারী নামে প্রকাশিত। এদের নেতা হতে পারলে স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের সকল কার্যকারিতার অংশ হওয়া যায়। সকল সুযোগ সুবিধা, ক্ষমতা কি থাকেনা? ডাক্তার, ডায়াগোনষ্টিক সেন্টারের মালিকদের জন্য অহেতুক পরীক্ষার ফি তো রোগীরাই সরবরাহ করে। এ বিষয়টা কে না জানে ? ডায়াগোনষ্টিক মালিকরা অনেক টাকা লগ্নি করেন যন্ত্রপাতি কেনার জন্য। তারাতো আর দানছত্র খুলে বসবেন না। ফেসবুকে না চৌধুরী জন প্রতিনিধিদের দায় দায়িত্ব নির্ধারণ করার চেষ্টা করেছেন। তারা খোঁজ কেন রাখবেন , তারা তো এসব জায়গায় চিকিৎসা করেননা । খোজ নিলে ঝকঝকে পরিস্কার হবে সেমী জনপ্রতিনিধিরা এসব ডায়াগোনষ্টিক সেন্টারের মালিক বা অংশীদার। তারা হাত পাকানোতে ব্যস্তো। স্বীকৃত জনপ্রতিনিধি হলে কিভাবে কি করবেন তার একটা মহড়া দরকার।
তারা এখানে অনুশীলন করেন। ডায়াগোনষ্টিক সেন্টার গুলোর মান যাচাই করার দায়িত্বে নিয়োজিতরা খুবই মহানুভব। কাউকেই না করেননা। তাদের সন্তুষ্টির মাপকাঠি উপহার সামগ্রীর ঘনত্ব। হাসপাতালে ডায়াগোনষ্টিক সেন্টারের লোকেরা দায়িত্ব পালন করে রোগির চিকিৎসার জন্য তাদের নিয়োগকর্তার ক্লিনিকে নিয়ে আসা। ওরা তার জন্য কমিশন পায়। তারা নীচের লেবেলের এজন্য তাদের দালাল বলা হয়। ওদেরকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চেনেনা একথা কি বিশ্বাস করা যায়? কোন অসহ্য ঘটনা ঘটলে আমরা প্রতিবাদ করি , মানববন্ধন করি, মানববন্ধন তো একজায়গায় দাঁড়িয়ে করা হয়। এর শব্দ চিকিৎসালয়ে পৌঁছায়না ,কোন ডাক্তারের কাছে পৌছায় না,স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ে পৌছায় না। ওখানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী শাহেদদের সামাল দিতেই ব্যাস্ত, তিনি ঠাকুরগাঁওয়ের মতো অজ মফ:স্বল জেলার নিরাপদ ডায়াগোনষ্টিক সেন্টার রোগিদের জন্য কতটা নিরাপদ, এ বিষয়ে খোঁজ নেওয়া তার পক্ষে সম্ভব হয়না। এসব দেখার কাউকেতো দেখা যায়না। হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির নিকট আমাদের অবিচল আস্থা রয়েছে। তারা দয়া করে মাঝে মাঝে মাসিক মিটিংয়ে আলোচনা করে আমাদেরকে ধন্য করেন।
এবিষয়ে দেখার দ্বায়িত্ব যাদের দেন, কর্মব্যস্তোতার কারণে তারা দেখতে পারেননা। এর জন্য কোন অনুশোচনা বা প্রশ্ন কেউ তোলেনা। আমাদের শেষ ভাবনা দাঁড়ায় , আমাদের দেখার কেউ নেই। দেখার মানুষটা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী । দেশের সব বিষয়েই তার নির্দেশনা ছাড়া কিছু হয়না। পেঁয়াজের দাম বাড়লে পেঁয়াজ খাবেননা , বেগুনের বদলে কুমড়া খাবেন , তামান্না কলেজে ভর্তি হবে কিনা ,একটা প্রাইমারী স্কুলের ছাত্র ড্রেস ছাড়া স্কুলে যেতে পারেনা , জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ে লেট করে যাওয়ার জন্য ছাত্র ভর্তি হতে না পারলে তার সিদ্ধান্ত দিতে প্রধানমন্ত্রী লাগে। বাঁকীরা উজিরে খামাখা।