admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ৪:০৯ অপরাহ্ণ
নাগরিক ভাবনা, আমিরুল ইসলাম বাপনঃ ‘করোনার মধ্যে এইচএসসি নয়’ শিরোনামে কিছু পরিক্ষার্থী বেশ ক’দিন যাবৎ আন্দোলন করতেছে করোনার বিদায় অবধি পরিক্ষা দিবে না বলে।পরিক্ষা না দেওয়ার পক্ষে তাদের যুক্তিগুলোর মধ্যে হচ্ছে ‘পড়াশোনার চেয়ে জীবনের মূল্য বেশি’।
কাজেই,শিক্ষার্থী থাকলে পড়াশোনা থাকবে আর যদি শিক্ষার্থীই না থাকে পড়াশোনাটা করবে কে?কিছুটা অন্য উপায়ে হলেও তারা যুক্তি দেখায়’দেশের প্রায় তের লাখ পরিক্ষার্থীর পরিক্ষা দিতে যানবাহনে ভীড় হবে,তাদের দেখার নিমিত্তে অভিভাবকরাও কেন্দ্রে আসা-যাওয়া করবেন।যেখানে দেশের তের লাখ পরিক্ষার্থীর জন্যে তের লাখ পরিবার করোনার হুমকির মুখে থাকবে,আক্রান্ত হবে,এমনকি পরিক্ষার রেজাল্ট কি হলো মৃত্যুর কারণে নিজেরটা নিজে নাও জানতে পারে।
তাদের এই যুক্তির সমর্থন দিয়ে অনেকই ফেইসবুক গ্রুপের মাধ্যমে ভার্চুয়ালি আন্দোলনে আপন-মন্তব্য পেশ করছে।অত্যন্ত চমৎকার তাদের এই যুক্তিতে আমিও সমর্থিত যদিও তারা অসম্পূর্ণ দাবি-দাওয়া ও যুক্তি উত্থাপন করেছে। আমার মনে হয় না দেশে এমন কোন পরিক্ষার্থী আছে যে নাকি করোনার প্রাদুর্ভাবের পর আজ পর্যন্ত ঘর থেকেই বের হয়নি।যদি থাকে,তাহলে তারা না থাকলোই কিন্তু অভিভাবকরা কি বের হন না?যদি অভিভাবকরাও থাকে,তবে ওই পরিবারের সদস্যরা কি দেবদূত নাকি ফেরেশতা যাদের কোনকিছুর প্রয়োজন হয়না?তারা অন্য উপায়ে পারলে ভালো কথা।
আমি কিন্তু কারোর বিপক্ষে কিছু বলছিনা,বলছি দেশের ক’জন অসামর্থ,অসহায়,মেধাবী ও সংগ্রমী শিক্ষার্থীর কথা।যারা নিজের মন-মানসিকতাকে দারুণভাবে নিয়ন্ত্রণ করছে।যারা নষ্ট হয়ে যাওয়ার পথ থেকে নিজেকে ফিরিয়ে আনছে,পারিবারিক অভাব-অনটন-দারিদ্রতার সাথে সংগ্রাম করছে,যারা পড়াশোনা ছাড়েনি নানান দুশ্চিন্তা ও চাপের মুখেও।আর এরাই হচ্ছে দেশের আসল শিক্ষার্থী,আসল পরিক্ষার্থী ও দেশের আসল ভবিষ্যৎ যদিও তাদের মনের খবর নেওয়াটাকে আমরা একেবারেই উপেক্ষা করে চলছি।
এইতো সেদিন লুৎফুরের ইউটিউব চ্যানেলে একটা ফানি ভিডিও দেখি।যেই ছেলেটি কোন রকম বই পড়া ছাড়াই এসএসসি পর্যন্ত পড়াশোনার করেছে,ভন্ডামি করে সময় নষ্ট করেছে,সেও ইন্টারমিডিয়েটে উটার পর সূর্যকে কোনদিন তার আগে উঠতে দেয়নি শুধু ভার্সিটির স্বপ্নে,দশ বছরের পড়াশোনা মাত্র দুই বছরে শেষ করছে। কিন্তু আজ সে অধৈর্য হয়ে হাল ছেড়ে দিয়ে আবার পাগলামি শুরু করছে,নিয়মিত চালিয়ে যাচ্ছে তার ইউটিউবিং।বন্ধু আকাশের একমাত্র স্বপ্ব ছিল ঢাবি,কিন্তু বাবার অকাল মৃত্যুতে আজ ধরতে হচ্ছে বাবার রেখে যাওয়া ব্যাবসার হাল।তবে ও নাহয় ব্যাবসার মাধ্যমেই নিজেকে সেট করলো।যাদের বাবার টাকা আছে সবাই এটা পারবে,পড়াশোনা না করলেও সমস্যা নেই তাদের।
কিন্তু দরিদ্র পরিবারের যেই সোহেল একজন উচ্চশিক্ষিত হওয়ার স্বপ্ন বুকে নিয়ে দিনে কাজ ও রাতে পড়াশোনা করতো।আজ যে,সে অপারগ হয়ে কারখানায় কাজ শুরু করছে তার কি হবে?কি হবে আমার মতো যার উদাসীন হয়ে ঘুরে বেড়ায় পথে-তেপান্তরে? পরিক্ষা না হওয়ার পক্ষে তো অনেকেই যুক্তি দেখিয়েছেন।কিন্তু, যুক্তিগুলো কি আপনারা সার্বিক দিক বিবেচনায় রেখে তৈরি করেছেন?আমার মনে হয়না।আপনারা হয়তো অন্যের থেকে শোনা বুলিকেই যুক্তি হিসেবে দাঁড় করিয়ে পরিক্ষা না হওয়ার দাবি উত্তাপন করেছেন।ফেইসবুক গ্রুপের মাধ্যমে আন্দোলন করতেছেন।
আরে আন্দোলন আমরাও করতে জানি;আন্দোলন-সংগ্রাম করেই এতটুকু বড় হয়ছি।আমরাই যখন আন্দোলন করিনি,আপনারা কিসের আন্দোলন করেন?কেউ কি বাসা থেকে বের হননা,নাকি আপনাদের জন্যে দেশের সব যানবাহন বন্ধ,বাজারে কারো আসা-যাওয়া হয়না,অফিস-আদালত জনশূন্য?কোনকিছুই তো চোখে পড়ে না। তাহলে পরিক্ষা না হওয়ার পক্ষে এত আন্দোলনটা কিসের? আর সরকারই বা কেন পরিক্ষা নিতে বিলম্ব করতেছেন তা আমার মাথায় ধরে না।আমিও মাথায় ধরাতে চেষ্টা করলাম না।যা হবার হোক।রাখ না’তে থাক;মেধাবী-সংগ্রামী শিক্ষার্থীদের সব স্বপ্ন গোল্লায় যাক।
আমিরুল ইসলাম বাপন
সাতপাই-নেত্রকোনা
মোবাইল:-০১৭১০-৮১৯৭৪২