admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ১৫ আগস্ট, ২০২১ ১১:২২ পূর্বাহ্ণ
নাগরিক ভাবনাঃ আবু মহী উদ্দীনঃ ভাল খবর খুজে পাওয়া ভাগ্যের ব্যপার। ভালো খবর আবার সহজে ছড়ায়না। খারাপ খবর হলে বিদ্যুৎ গতি পায়। আমাদের এই সময়ের বার্নিং ইসু পরিমনি। মিডিয়া ঘন্টার পর ঘন্টা লাইভ টেলিকাষ্ট করছে। মনে হয় দেশে আর কোন সমস্যাই নাই। ১৪ আগষ্টের পত্রিকার শেষ পাতায় খবরটা আছে। সহজে নজরে পড়বেওনা। খবরটা আমার কাছে খুবই গুরুত্ব বহণ করে। খবরটা হচ্ছে ‘স্বাস্থ্য বিধি না মানায় ৩৩০ রেলযাত্রীর জরিমানা।
বাংলাদেশ রেলওয়ের দোষের তো শেষ নেই। শুধু রেল বলি কেন বিমানের কথাই ধরুন। ওটাতো অনিয়মের এবং স্বেচ্ছাচারির স¦র্গরাজ্য। বাংলাদেশের আভ্যন্তরীন রুট গুলোতে এখন বিমান আর খালি যায়না। যেমন ধরুন সৈয়দপুর ঢাকা। এক সময় সপ্তাহে ২ দিন বিমান চলতো। তারপর যাত্রী না পাওয়ার কারণে সৈয়দপর ঢাকা বিমান সার্ভিস বন্ধ হয়ে গেল। অনেক দিন বন্ধ ছিল। এর পর বেসরকারি বিমান চালু হলো । মানুষের আর্থিক সক্ষমতা বাড়লো। মানুষ এখন সময়ের দাম দিতে প্রস্তুত। এখন ঢাকা সৈয়দপুর প্রতিদিন ১১ টি করে ফ্লাইট চলে। প্রতিটি বিমান পূর্ণ সিটে যাত্রী নিয়ে যাতায়ত করছে।
তবে তারা অদ্ভুত এক নিয়ম চালু করেছে। একটি বিমানে যতগুলো সিট , মেইনটেন্স খরচ , অন্যান্য খরচ হিসাব করেই তো টিকিটের দাম নির্ধারণ করা হয়ে থাকে। যে কটা সিট তার বেশি যাত্রী তো নেওয়া যাবেনা। বাসের মতো ইঞ্জিন কভারে বা মোড়ায় বসার কোন সুযোগ নাই। তাহলে ঈদে পরবে , সপ্তাহ শেষে বা শুরুতে দাম উঠানামা করে কেন? এই সময়গুলিতে টিকিটের দাম বাড়ে কেন? এই প্রশ্নের জবাব কারো জানা থাকলে দয়া করে জানাবেন। টিকিটের রেট আছে , আগে আসলে আগে পাবেন ভিত্তিতে টিকিট বিক্রি হবে। নির্ধারিত সিটের টিকিট শেষ, বিক্রি বন্ধ। পরবের সময় বা বিশেষ বিশেষ সময়ে মিনিটে মিনিটে দাম বাড়ে। এরা বড় ব্যবস্যায়ী । এদেরকে কিছু বলার ক্ষমতা কেউ রাখেনা। ফলে তারা যা খুশী তাই করতে পারছে।
বাসের মালিকরাও তাই। ঈদের সময় ১৫ দিন আগে ঈদের পরের ১৫ দিন ডাবল ভাড়া। অজুহাত ফিরতি যাত্রায় খালি গাড়ী আনতে হয়। তবে আমরা কখনো দেখিনি কোন বাস ফাঁকা যায়। সে বিবেচনায় রেলওয়েটাই যথেষ্ঠ বোকা। ঈদে পরবে তারা টিকিটের দাম বাড়ায়না। টিকিট বিক্রির অনিয়মের অভিযোগ ওঠে বটে তবে টিকিটের দাম বাড়ায়না। দামের হেরফের করে কালোবাজারীরা। এই সব মৗসুমে তারা দু পয়সা আয় করতে নানা ফন্দি ফিকির করে।
যা হোক এবারে আসল কথায় আসি। পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ৩৩০ রেলযাত্রীকে ১লাখ ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে স্বাস্থ্য বিধি না মানার জন্য। একই সঙ্গে বিনা টিকিটে ভ্রমনের চেষ্টা করায় প্রায় ১ হাজার যাত্রীকে ষ্টেশন থেকে ফিরিয়ে দিয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৬ টা থেকে রাত ১২ টা পর্যন্ত এই অভিযান চালানো হয় খুলনা , পোড়াদহ , ইশ^রদী , রাজশাহী , শান্তাহার, বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব এই সব ষ্টেশনে। পাকশী বিভাগীয় বানিজ্যিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন এটা তাদের নিয়মিত অভিযানের অংশ। মানে প্রায়ই এই অভিযান চলবে।
আমাদের দাবী প্রতিদিন এবং গোটা দেশে এই অভিযান চালু থাকুক।
সারা পৃথিবীতে রেলই হলো সবচেয়ে নিরাপদ এবং সস্তা ভ্রমন। এই রেলওয়ে ডুবেই গিয়েছিল , ডুবে গিয়েছিল কথাটা ঠিক নয় ডোবানো হয়েছিল। বাস মালিকদের নিকট মাথা বিক্রি হয়ে আমাদের কর্তাবাবুরা এ সব করেছেন। বর্তমান রেলমন্ত্রী বাগাড়ম্বর করেননা। বাড়তি কথাও বলেননা। তিনি যা বলেন তা করেন। রেলের একটা পরিবর্তন এসেছে। আমরা একটা নির্ভরেেযাগ্য ভালো রেল ব্যবস্থা চাই। দয়া করে স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের মতো গিলে খাবেননা । রেলের বেহাত হওয়া জমি, সম্পদ উদ্ধার করুন। কর্মচারীদের প্রশিক্ষণ দিন , বিনা ঘুসে যোগ্য কর্মচারী নিয়োগ করুন। যাত্রী সেবার বিষয়ে মনোযোগ দিন , অপচয় বন্ধ করুন। বিশে^র রেল ব্যবস্থার সাথে তাল মেলানোর জন্য কাজ করুন। স্বাধীনতার ৫০ বর্ষে এটাই জাতির দাবী। সেই সঙ্গে আপনাদের এই কর্মকান্ডে ব্যপ্তি ছড়িয়ে পড়–ক। দেশবাসী আপনাদের সাথে থাকবে।
কিছুদন আগে আরো একটা ভালো খবর ছিল সেটাও এই কাগজেই ছাপা হয়েছিল। আমাদের ভাঙ্গাচোরা কারখানা সৈয়দপুরে ৫০০ কোচ ব্যবহার উপযোগি করা হয়েছে। প্রমান হয়েছে আমাদের হাড় জিরজিরে শ্রমিকরা কি না করতে পারে? চাই সঠিক সিদ্ধান্ত , সদিচ্ছা আর দেশপ্রেম। বাঙ্গালীরা পারেনা এমন কাজ কমই আছে। আমরা চাই , রেল কর্তৃপক্ষ এমন ব্যবস্থা করবে যাতে কেউ বিনা টিকিটে ট্রেনে উঠার কথা চিন্তার মধ্যেও না আনতে পারে।
তবে এ বিষয়ে একটা পরামর্শ দিব তা হলো, ট্রেনের যে বগিতে বিনা টিকিটের যাত্রী পাওয়া যাবে সেই বগির এটেনডেন্ট এর ও শাস্তি হওয়া দরকার। আর বিনা টিকিটের প্যাসেঞ্জারের জরিমানা হতে হবে ভাড়ার দ্বিগুন। ভাড়ার চেয়ে জরিমানা কম হলে বিনা টিকিটে ভ্রমনের চর্চা চালু থাকবে। রেল কর্তৃপক্ষকে কৃতজ্ঞতা জানাই। কর্মচারী যারা এই অভিযানে অংশগ্রহণ করছেন এবং ভবিষ্যতে করবেন তাদের ধন্যবাদ জানাই।