admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ১৩ এপ্রিল, ২০২২ ১০:১৭ অপরাহ্ণ
অ্যাডভোকেট আবু মহীউদ্দিন, নাগরিক ভাবনাঃ ঠাকুরগাঁওয়ে চুন থেকে পান খসেছে। বিশুদ্ধ খাদ্য অভিযানে ভেজাল খাদ্য বিক্রি এবং অস্বাস্থ্যকর নোংরা পরিবেশে খাদ্য তৈরির অপরাধে মাত্র ২টি হোটেলকে জরিমানা করা হয়েছে। অন্যান্য বিষয়ের চর্চামাফিক হোটেল মালিকের সমিতি প্রতিবাদে শহরের সমস্ত হোটেল বন্ধ করে দিয়েছেন। হোটেল মালিকরা দাবী করেছেন , জরিমানা বাতিল করতে হবে মানে টাকা ফেরত দিতে হবে , ২জন কর্মচারীকে জেল দেওয়া হয়েছে বাতিল করতে হবে।
মালিকদের এই দাবী বিশ্লেষন করলে মোটা দাগে অর্থ দাঁড়ায় , খাদ্যে তারা ভেজাল দিবেন , অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তারা খাদ্য তৈরি করবেন , নিরাপদ খাদ্য সংক্রান্ত কোন আইন তাদের উপর প্রয়োগ করা যাবেনা। হোটেল মালিকদের সংগঠন আছে। তারা নিজেরা বসে খাদ্য দ্রব্যের মূল্য নির্ধারন করেন। আবার এ আইনও করেন কোন মালিক এর কমে খাদ্য বিক্রি করলে তার শাস্তি হবে। প্রশ্ন করাই যেতে পারে , এই মুল্য নির্ধারণের সময় কোন খাদ্য ক্রেতা বা প্রশাসন , নিরাপদ খাদ্য অধিদপ্তরের কেউ বা জনপ্রতিনিধিকে রাখা হয়? হোটেল মালিক , চাইনিজ রেষ্টুরেন্ট মালিক বাহারী নাম দিয়ে খাদ্যের দাম নির্ধারণ করেন , যেহেতু ক্রেতাদের কোন সংগঠন নাই সে কারণে ঐ দামই আমাদের নিয়তি বলে মেনে নিই আমরা। কিন্তু এর তো পূর্বশর্ত আছে। দোকান করেছেন , খাদ্য তৈরি করবেন , ভোক্তারা নির্ধারিত দামে কিনবে, ভোক্তা নির্ধারিত দামে ভেজালমুক্ত , স্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি এবং সঠিক ওজনে পাবে। স্বাস্থ্যকর পরিবেশে , ভেজাল মুক্ত খাদ্য তৈরির শর্তে মালিকগণ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান করেছেন। সমিতি সিদ্ধান্ত নিয়ে সকল হোটেল বন্ধ করে দিয়েছে।
কোন হোটেল যদি সঠিক নিয়মে , স্বাস্থ্যকর পরিবেশে , ভেজালমুক্ত খাদ্য তৈরি করে, তার হোটেল বন্ধ করার অধিকার কি এই সমিতি সংরক্ষণ করে? হোটেলের যারা কর্মচারী , তাদের কোন স্থায়ী চাকুরী নাই। দিন হাজিরা কাজ করে। হোটেলের কর্মচারীদের পোষাক গুলো নোংরা , ময়লাযুক্ত। কারো কারো হাতে ঘা আছে। তারা প্রায়ই পেট ভাতায় কাজ করে। আমাদের হোটেল মালিকগণ যদি আমাদের কর্মচারীদের স্বাস্থ্যের বিষয়ে নজর দিতো , তাদের ভালো পোষাক দিতো , বেতনভুক্ত করতো তাহলে কর্মচারীদের পেশাদারিত্ব বাড়তো।
আমরা তো আশা করেছিলাম হোটেল মালিক সমিতি মিটিং করে ঐ দুটি প্রতিষ্ঠানকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করবে এবং তারা নিজেরাও সমিতির তরফ থেকে জরিমানা করবে , ভেজাল খাবার বিক্রির দায়ে। তারা ঘোষণা দিতে পারতো , ঠাকুরগাঁও শহরে কেউ ভেজাল খাদ্য বিক্রি করতে পারবেনা। ভেজালকারীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পচিালনার জন্য নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষকে সহায়তা করার ঘোষণা দিত। হোটেল শ্রমিক সমিতি ঘোষণা দিতে পারতো যে মালিক আমাদেরকে ভেজাল খাদ্য তৈরিতে নিয়োগ করবে আমরা তাদের কাজ করবো না। হোটেল মালিকরা বলার চেষ্টা করবেন, শ্রমিকরা ধর্মঘট করেছে। কিন্তু হোটেলে কি হবে না হবে সেসব কি মালিকের অনুমোদনের বাইরে হওয়া সম্ভব? হোটেল মালিক সমিতি নিরাপদ খাদ্য সরবরাহের প্রতিশ্রæতি ভঙ্গ করে দেশের প্রচলিত খাদ্য আইন এবং জনস্বাস্থের বিপক্ষে দাঁড়িয়ে অপরাধী প্রতিষ্ঠানের পক্ষ নিলো এটা কতটা ঠিক।
একটা হিসাব তো করা যেতেই পারে। তা হলো একদিন অভিযান পরিচালনা করে এসব অনিয়ম ধরা পরে শাস্তি হয়েছে। এই অপকর্মটাকি একদিনই হলো নাকি আগে থেকে হয়ে আসছে। তাহলে আগের অপরাধের শাস্তিতো বাঁকী রইল। ভোক্তারা ন্যায্যমূল্যে ভেজাল ও দুষনমুক্ত খাবার কেনার মৌলিক অধিকার সংরক্ষণ করে। দেশে নিরাপদ খাদ্য আইন আছে , আইন প্রয়োগ হবে, আইন মেনে হোটেল মালিকগণ ব্যবস্যা করবেন এতেতো কারো কোন সমস্যা হওয়ার কথা নয় । আমরাতো মনে করি এই অভিযান আরো শক্তিশালী হওয়া সময়ের দাবী। নিশ্চয় খাদ্য আদালত বিষয়টি অনুধাবন করবেন।