admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ১ আগস্ট, ২০২০ ৮:৩২ অপরাহ্ণ
নাগরিক ভাবনাঃ ঈদ,করোনা , বন্যা ও বর্জ ব্যবস্থাপনা, অ্যাডভোকেট আবু মহী উদ্দীন। আজ বাংলাদেশে পবিত্র ঈদ-উল-আজহা উদযাপিত হলো। এই পবিত্র দিনটিতে মুসলমানরা ঈদগাহে গিয়ে একসঙ্গে নামাজ শেষ করে যার যার সামর্থ্য অনুযায়ী পশু কোরবানি দিয়েছে। ধর্মীয় বিধান অনুসারে আগামী কাল এবং পরশু সুর্যাস্ত পর্যন্ত কেরবানী করার বিধান আছে। ঈদের নামাজ শেষে ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সব বয়সী মুসলমান ভাবগম্ভীর পরিবেশে নামাজ আদায় এবং পরস্পর কুশলাদি বিনিময়ের পাশাপাশি কোলাকুলি করেন। ঈদগাহে সমবেত মুসলিম মহান দরবারে মোনাজাত করেন পার্থিব এবং পারলৌকিক কল্যাণের আশায়। মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য দুই ঈদই অশেষ সংহতি ও সম্প্রীতি বয়ে আনে। কোরবানির মাংসের একটি অংশ দরিদ্র মানুষের মাঝে বিতরণ করা হয়। ফলে ঈদের আনন্দ ভিন্নতর মাত্রা পায়। হযরত ইব্রাহিম (আ) যে উদাহরণ সৃষ্টি করে গেছেন, সেটাকেই মর্যাদা দিয়ে বিশ্বের মুসলমানরা ঈদ-উল-আজহা পালন করে আসছেন।
মূলত কোরবানির মধ্য দিয়ে আত্মোৎসর্গের এক পরম মহিমার নজির স্থাপন করে গেছেন হযরত ইব্রাহিম (আ)। শরিয়তের বিধান অনুসারে কোরবানির পশুর মাংস তিন ভাগ করে এক ভাগ নিজে, এক ভাগ আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের এবং এক ভাগ দরিদ্রদের মধ্যে বিলি করার নির্দেশ রয়েছে। ইসলাম ধর্ম সাম্য, ভ্রাতৃত্ববোধ এবং পরোপকারের ওপর গুরুত্বারোপ করে। লোক দেখানো আনুষ্ঠানিকতাকে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হলেও কেউ কেউ তা কওে থাকেন। পরিতাপের বিষয়, ইসলামের সঠিক বিধিবিধান অনেকেই গুরুত্ব না দিয়ে অবাঞ্ছিত প্রতিযোগিতায় নেমে পড়েন একং পত্রিকান্তরে প্রকাশ করেন কে কত দামের কোরবান্রী পশু কিনেছেন। এ নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে লেখালেখিও কম হয়না।
আত্মত্যাগের দিনটি মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য পবিত্র দিন। হিংসা, দ্বেষ, হানাহানি, কুমন্ত্রণা ভুলে পূত পবিত্র মন নিয়ে পারস্পরিক বন্ধনকে সুদৃঢ় করার দিন ঈদ-উল-আজহা। ধনী, দরিদ্র সব ভেদাভেদ ভুলে মানুষের মাঝে নিজেকে সমর্পিত করার দিন আজ। কোরবানির পশুর মাংস বিতরণ যথাযথভাবে করাই সঙ্গত। এতে বন্যাদুর্গত ও দরিদ্রশ্রেণীর মানুষ উপকৃত হবে। মশক নিবারণসহ সতর্ক থাকতে হবে ডেঙ্গু রোগীর ব্যাপারেও। পারস্পরিক সাহায্য-সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে সকলে মিলে মোকাবেলা করলে কোন সমস্যাই সমাধানের উর্ধে নয়। আমাদের মধ্যে বিদ্যমান পশু প্রবৃত্তি, কাম, ক্রোধ, লোভ, মোহ, পরনিন্দাজাতীয় নেতিবাচক প্রবৃত্তিকে সরিয়ে ফেলে সহজ-সরল মানবিক গুণাবলী অর্জন করাই হচ্ছে ঈদ-উল-আজহার তাৎপর্য। পবিত্র ঈদ-উল-আজহায় আমাদের প্রার্থনা- আল¬াহপাক যেন বিশ্ব মুসলিমের জাতীয় জীবনকে মর্যাদাশীল করেন। সবার জীবন আনন্দময় হোক। ঈদ মোবারক।
এবারের ঈদ-উল-আজহা অবশ্য অন্যান্যবারের মতো হয়নি করোনা মহামারীর কারণে। যেমন, সামাজিক দূরত্ব রক্ষাসহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বাধ্যবাধকতা থাকায় জাতীয় ঈদগাহসহ উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে ঈদের জামায়াত অনুষ্ঠিত হয়নি। মসজিদে নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সে কারণে মসজিদে একাধিক জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মানতে হয়েছে মসজিদেও। পশু কোরবানিও স্বাস্থ্যবিধি সম্মতভাবে করতে হয়েছে। দেশের সিটি কর্পোরোশনগুলি বা পৌরসভা সমুহ বর্জ ব্যবস্থাপনার কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। বর্জ ব্যবস্থাপনার যত পদক্ষেপই নেওয়া হোক নাগরিক দায়িত্ব বোধ জাগ্রত না হলো কোন কর্মসুইি সফল হয়না। গ্রামে বা শহরে নির্ধারিত স্থানে পশু কোরবানী করার শত আহবান নির্দেশ, উপেক্ষা করে কোরবানীদাতারা তাদের বাসার নিকতম স্থানে রাস্তায় , গ্যারেজে , গলিতে পশু জবাই করে। কিন্তু পরিস্কার করার ব্যপারে তাদের নাগরিক দায়িত্ব যে আছে সেটা প্রমান হয়না। অথচ নাগরিক দায়িত্ববোধ থেকে তা করলে নাগরিক জীবননে যেমন স্বাচ্ছন্দ আসতো তেমনি নিজের শহরও পরিস্কার থাকতো। বিয়টি সিটি কর্পোরেশনের উপর দায়িত্ব দিয়েই আমরা এড়িয়ে যাই।
তবে নির্ধারিত স্থানে কোরবানী করলে বর্জ পরিস্কার সহজ হয়। করোনা জনীত কারণে এবারে কোরবানী কম হয়েছে। বন্যাজনীত কারণে ও সম,স্যা হয়েছে। বানভাসি মানুষ কোরবানিতো দুরের কথা নিজেদের ঘরবাড়ি হারিয়ে উেই কেউ নিঃস্ব হয়েছে। আবার তাদের থাকার ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলিন হয়েছে। আমাদের দেশের এই সমস্যা দীর্ঘদিনের। এর স্খায়ী সমাধানের বিষয় নিয়ে ভাববার সময় চলে যাচ্ছে। আমাদের দরকার টেকসই উন্নয়ন। গ্রামীন জনপদে টেকসই বর্জ ব্যবস্থাপনার অনেক প্রোগ্রাম হাতে নেওয়া হলেও তা আলোর মুখ দেখেছে কমই। ভবিষ্যতে একটি টেকসই বর্জব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বর্জ সংগ্রহ করে তা সার, গ্যাস উৎপাদনে কাজে লাগানো যেতে পারে। এ সম্ভাবনার কথা শুনছি দীর্ঘদিন থেকে এখন তার বাস্তবায়ন দেখতে চাই। দেশের বন্যাদুর্গত এলাকাতে নগদ ত্রান সহায়তা দিলেও ঈদেও আনন্দ তাদের কাছে ম্লান হয়েছে। তবু ঈদ উৎসব ও আনন্দ বলে কথা। আমরা সবাই যদি পারস্পরিক মানবিক সহমর্মিতায় তা ভাগাভাগি করে নেই, তাহলে জয় হবে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির। বিশ্বের সব ধর্মের মূল মর্মবাণীও তো তাই-ই।