তফিজ উদ্দিন, খানসামা দিনাজপুর প্রতিনিধি || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ৩১ অক্টোবর, ২০২৬ ১:৫১ অপরাহ্ণ
দিনাজপুরের জেলার খানসামা উপজেলা আত্রাই নদীর পশ্চিম তীরে জালিয়া পাড়ায় জিও ব্যাগ দিয়ে ১২০ মিটার দৈর্ঘ্য বাধঁ দেওয়ার আড়ালে প্রকাশ্যে ওই বাধের পাশ থেকেই ড্রেজার দিয়ে বেপরোয়া ভাবে বালু উত্তোলন করছে শরিফুল প্রধান। এলাকায় প্রভাব ও পেশি শক্তির দাপটে গত দেড় মাস ধরে আত্রাই নদী থেকে হাজার হাজার টাকার বালু উত্তোলন করা হয়েছে। এসব বালু
নদীর বাঁধ,ইটভাটায় ব্যবহার ছাড়াও বিভিন্ন এলাকায় বালু বিক্রি করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে সরকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হলেও সম্পৃক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে একাধিকবার প্রশাসনকে জানালেও প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নির্বিকার। নদী থেকে বালু উত্তোলনকৃত স্থানটি কোন বালু মহাল নয়।
উল্লেখ্য যে, বালু-মাটি ব্যবস্থাপনা আইন ২০১০ এবং ২০২৩ সালের সংশোধনী অনুযায়ী নদীর বাঁধ নির্মাণের জন্য স্পষ্ট আইনি নির্দেশ ও বিধি নিষেধ রয়েছে। আইনের ৪ ধারা অনুযায়ী নদী বা বাঁধের ১ কিলোমিটার সীমানার মধ্যে থেকে বালু উত্তোলন করা যাবে না। সুতরাং বাঁধ নির্মাণের সময় বাঁধের একদম কাছ থেকে বাদ সংলগ্ন নদীর তীর থেকে বালু উত্তোলন সম্পূর্ণ বেআইনি। কারণ এতে নদীর পাড়,বাধঁ,সেতু, কালভার্ট,ড্যাম ও বসতভিটার স্থায়িত্ব হুমকির মুখে পড়ে। কিন্তু এই বালু উত্তোলনের স্থান থেকে প্রায় ২০০ মিটারের মধ্যে বিদ্যমান রয়েছে ৪৯২ মিটার দৈর্ঘ্য জিয়া সেতু, ৩০ মিটারের মধ্যে বাধঁ ও বসতবাড়ি হুমকিতে রয়েছে।আইনের তোয়াক্কা না করে নদী থেকে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনে মেতে উঠেছে।স্থানীয়দের অভিযোগের প্রেক্ষিতে, সরেজমিনে অনুসন্ধানে গেলে উত্তোলনের দৃশ্য দেখা যায় যার স্থিরচিত্র সংরক্ষিত রয়েছে।
অভিযোগকারী জমির মালিক জাহাঙ্গীর আলম জানান, আমার ফসলি জমির উপর অবৈধভাবে উত্তোলনকৃত বালু সংরক্ষণের ফলে আমার জমির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।আমার জমিতে বালু সংরক্ষণে বাধা দিলে বালু উত্তোলনকারীরা আমাকে মারার হুমকি দেয়।ওই এলাকার আরেকজন বাসিন্দা আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, বালু বহনকারী ট্রলি দিয়ে গ্রামের রাস্তায় ভাঙ্গন সহ বাড়ির পানি নিষ্কাশনের পাইপ ভেঙ্গে নষ্ট হয়েছে। এ ব্যাপারে বালু উত্তোলনকারী শরিফুল প্রধানের সাথে মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি এখন মিটিংয়ে আছি বলে এরিয়ে যান।
এ ব্যাপারে মৃত ছকি উদ্দিনের পুত্র জাহাঙ্গীর আলম গত ২৭ অক্টোবর লিখিতভাবে বিভাগীয় কমিশনার-রংপুর, জেলা প্রশাসক-দিনাজপুর, নির্বাহী প্রকৌশলী-দিনাজপুর, উপজেলা নির্বাহী অফিসার খানসামা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) খানসামা,দিনাজপুর বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন।