admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ৩:৪৫ অপরাহ্ণ
কুঞ্জ পাল,ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ ছয় বছর ধরে শিকলবন্দি জীবনযাপন করছেন মিলন হক। পায়ে শিকল আর ছোট ছাউনির ভেতরে পুরো দুনিয়ার স্বাদ পেতে হয় তাকে। পরিবারে উপার্জনক্ষম মানুষ না থাকায় হচ্ছে না উন্নত চিকিৎসা।
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রুহিয়া ইউনিয়নের পূর্ব কুজিশহরে মফিজ উদ্দীন ও শাহেদা বেগম দম্পতির সন্তান মিলন হক। নয় বছর বয়সে গলায় টিউমার ধরা পড়ে মিলনের। চিকিৎসা নেয়ার পরে কিছুদিন সুস্থ হলেও আবার শুরু হয় অসুস্থতা। ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে এ অসুস্থতা। এখন শিকলে বেঁধে না রাখলে নানাভাবে মানুষকে হেনস্তায় ফেলেন। একদিকে স্বামীর অসুস্থতা, অন্যদিকে ছেলের শিকলবন্দি জীবনযাপন নিয়ে দুশ্চিন্তায় সময় পার করছেন বৃদ্ধা শাহেদা বেগম। নিজের অসুস্থতা থাকা সত্ত্বেও বাধ্য হয়ে অন্যের বাড়িতে কাজ করতে যান তিনি। তবে সে আয়ে স্বামী ও ছেলের চিকিৎসা করাতে পারেন না।
স্বপ্ন ছিল পড়াশোনা করে চাকরি করে সংসারের হাল ধরবেন মিলন। ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গণ্ডি পেরোতে পারেননি তিনি। জীবনের ৩০টি বছরের পার হলেও খুঁজে পাননি জীবনের কোন মানে। অপরিচিত জনের সঙ্গে আচরণ স্বাভাবিক হলেও নিজের পরিবারের সঙ্গে অস্বাভাবিক আচরণ করেন তিনি। অনেক সময় নানাভাবে বিড়ম্বনায় ফেলেন স্থানীয়দের।
প্রতিবেশী আজহারুল ইসলাম বলেন, মিলনদের পরিবারটা খুব কষ্টে দিন পার করছে। তার বাবা ব্রেইন স্ট্রোক করে পড়ে আছেন। মিলনও শিকলে বন্দি হয়ে রয়েছেন। আমরা মাঝেমধ্যে টুকটাক সহযোগিতা করি। কিন্তু তার প্রয়োজন উন্নত চিকিৎসার। তা না হলে পরিবারটার জন্য সামনে কঠিন সময় অপেক্ষা করছে বলে মনে হচ্ছে।
মিলনের মা শাহেদা বেগম বলেন, ভিটেমাটি ছাড়া আর কিছু নেই আমাদের। মিলনের বাবা অসুস্থ হয়ে বিছানায় পড়ে আছেন। সুস্থ থাকলে তিনি কাজে যেতেন। আমি একদিন গেলে আবার অসুস্থ হয়ে যাই। এখন মিলনের চিকিৎসা না হলে আমাদের পরিবারটা কীভাবে চলবে জানি না? যা ছিল সব শেষ হয়ে গেছে। এখন আমাদের পাশে কেউ না দাঁড়ালে সংসার চালানো অসম্ভব হয়ে পড়ছে।
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা বেলায়েত হোসেন বলেন, বিষয়টি অবগত হলাম। খুবই দুঃখ জনক ঘটনা। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের সার্বিক সহযোগিতা করা হবে।