admin || মুক্ত কলম সংবাদ
প্রকাশিত: ১৪ ডিসেম্বর, ২০২১ ১০:০৫ পূর্বাহ্ণ
আজ ১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস। বাংলাদেশের আকাশে যখন স্বাধীনতার সূর্য উঁকি দিচ্ছে। ঠিক সেই সময় বর্বর পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের এ দেশীয় দোসর আলবদর, রাজাকাররা এদেশকে নিয়ে এক গভীর ষড়যন্ত্রে মেতে উঠে। ১৯৭১ সালে পরাজয় আসন্ন জেনে পাক হানাদার বাহিনীর দোসররা এদেশের মেধাবী সন্তানদের হত্যা করে। বাঙালি জাতিকে মেধাশূন্য করতে তালিকা তৈরি করে দেশের বিশিষ্ট শিক্ষক, সাহিত্যিক, চিকিৎসক, সাংবাদিককে ধরে নিয়ে যায়।
এরপর রাতের আঁধারে রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে নিয়ে গুলি করে ও বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয় তাদের। ঘাতকরা মুনীর চৌধুরী, জ্যোতির্ময় গুহঠাকুরতা, আনোয়ার পাশা, শহীদুল্লাহ কায়সার, সিরাজুদ্দিন হোসেন, আবুল খায়ের, ডা. আমির উদ্দিন, সাইদুল হাসান, নিজাম উদ্দিন আহমেদ, গিয়াসউদ্দিন আহমেদ, মনিরুজ্জামান, ডা. ফজলে রাব্বি, নাজমুল হক, খন্দকার আবু তালেব, রশিদুল হাসান, সিরাজুল হক খান, ডা. আলীম উদ্দিন, সন্তোষ ভট্টাচার্য প্রমুখ বুদ্ধিজীবীকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। আজ পর্যন্ত তাদের অধিকাংশের আর খোঁজ মেলেনি।
প্রতিবছর ১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস হিসেবে পালিত হয় বাংলাদেশে। জাতির সেই সূর্যসন্তানদের স্মরণ করে আজ শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালিত হবে। অর্ধনমিত থাকবে জাতীয় পতাকা। শোকের প্রতীক কালো পতাকা উড়ানোর পাশাপাশি মিরপুরের শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ, রায়েরবাজার বধ্যভূমি স্মৃতিসৌধে শহীদদের উদ্দেশে শ্রদ্ধা জানানো হবে। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। এ ছাড়া যথাযোগ্য মর্যাদায় শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস-২০২১ পালনের লক্ষ্যে জাতীয় কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বাণীতে বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের এ দেশীয় দোসররা যখন পরাজয়ের খুব কাছাকাছি, তখন বাংলাদেশকে মেধাশূন্য করার জন্য তারা এক ঘৃণ্য হত্যাকাণ্ডে মেতে উঠে। রাতের অন্ধকারে তারা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের নির্বিচারে হত্যা করেছে। শহিদ বুদ্ধিজীবীদের সেই আত্মত্যাগ আমরা সব সময় স্মরণ করবো।
তিনি বলেন, বিএনপি-জামায়াত সরকার ক্ষমতায় এসে রাজাকারদের পুনর্বাসন করেছে। অন্যদিকে, আওয়ামী লীগ যুদ্ধাপরাধীর বিচার করেছে। একই সঙ্গে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড এবং বুদ্ধিজীবী হত্যারও বিচার হয়েছে।
দিবসটি উপলক্ষে জাতীয় কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে— সকাল ৭টা ৫ মিনিটে মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ, সকাল ৭টা ২২ মিনিটে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রীর নেতৃত্বে শহীদ বুদ্ধিজীবী পরিবারের সদস্যবৃন্দ এবং যুদ্ধাহত ও উপস্থিত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে এবং সকাল সাড়ে ৮টায় রায়েরবাজার বধ্যভূমি স্মৃতিসৌধে পুস্পস্তবকবক অর্পণ। এরপর সর্বস্তরের জনগণ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। এ উপলক্ষে দেশের সকল জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে অনুষ্ঠিত হবে আলোচনা সভা। দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচার করবে বাংলাদেশ বেতার, বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ অন্যান্য বেসরকারি টিভি চ্যানেল।
অপরদিকে, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে— সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়, বঙ্গবন্ধু ভবন ও দেশব্যাপী সংগঠনের কার্যালয়ে কালো পতাকা উত্তোলন করা এবং জাতীয় ও দলীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ। দলের পক্ষ থেকে সকাল ৮টায় মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে পুষ্পার্ঘ্য নিবেদন। সকাল সাড়ে ৮টায় বঙ্গবন্ধু ভবনে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে এবং সকাল ৯টায় রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ।